SEN GUPTA Homoeo clinic

SEN GUPTA Homoeo clinic Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from SEN GUPTA Homoeo clinic, Medical and health, Siliguri.

27/11/2023
★★★ হাঁটু ব্যথা রোগে কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★★★হাঁটু ব্যথা কেন হয় ? এই রোগের আলোচনা, একটু দীর্ঘ হবে★★★আগে জানতে হ...
12/11/2023

★★★ হাঁটু ব্যথা রোগে কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★★★

হাঁটু ব্যথা কেন হয় ?

এই রোগের আলোচনা, একটু দীর্ঘ হবে

★★★
আগে জানতে হবে হাঁটু কি ?

হাঁটু হল আমাদের শরীরের সবথেকে বড় জয়েন্ট গুলির একটি। এই জয়েন্ট শুধু আমাদের শরীরের ওজন বহন করে তাই নয় আমাদের স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে ও সোজা হয়ে দাঁড়াতে, দৌড়াতে ও বসতেও সাহায্য করে। খেলাধুলা বা দৌড়াদৌড়ি করার সময় আমাদের হাঁটু অনেক ধকল সহ্য করে।

★★আমাদের হাঁটু কি ভাবে গঠন ? ★★

হাঁটুর জয়েন্ট তৈরি হয় মূলত তিনটি হাড় দিয়ে, FEMUR বা উরুর হাড়, PATELA বা মালাই চাকি ও TIBIA বা জঙ্ঘাস্থি।

অনেক টেবিল বা চেয়ার এর নিচে যেমন শক্ত রবার কিম্বা প্লাস্টিক এর আবরন থাকে, তেমনি এই সব হাড়ের শেষপ্রান্ত কার্টিলেজ বা তরুনাস্থি দিয়ে ঢাকা থাকে, যাতে হাঁটুর জয়েন্ট-এ ঘর্ষণ বা আঘাত কম লাগে এবং ঘর্ষণ জনিত ক্ষয় কম হয়।
তরুণাস্থি ( Cartilage) এক ধরনের যোজক কলা। এটি অস্থির মতো শক্ত নয়। তরুণাস্থিতে রক্তনালী থাকে না। তাই তরুণাস্থির বৃদ্ধি ও মেরামত ধীর গতিতে হয়। তরুণাস্থিতে স্নায়ুকোষও নেই। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ব্যাথা অনুভূত হয় না।
সমগ্র জয়েন্ট -এর ভিতরটি সায়নোভিয়াল মেমব্রেন বা ঝিল্লি দিয়ে ঢাকা থাকে। এই সায়নোভিয়াল মেমব্রেন সায়নোভিয়াল ফ্লুইড তৈরি করে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মোটরগাড়ির মোবিল অয়েল যেমন ঘর্ষণ জনিত ক্ষয় রোধ করে, ঠিক তেমনি সায়নোভিয়াল ফ্লুইড হাঁটুর ঘর্ষণ জনিত ক্ষয় রোধ করে।

সমগ্র হাঁটুর জয়েন্টটি কয়েকটি লিগামেন্ট ও ক্যাপসুল দিয়ে জোড়া থাকে। তার উপর থাকে মাংসপেশি যা হাঁটুর জয়েন্টটির বিভিন্ন মুভমেন্ট-এ সাহায্য করে।

হাঁটুর জয়েন্ট এর চারপাশে থাকে সূক্ষ্ম নার্ভের জালিকা, যা হাঁটু তে তৈরি হওয়া ব্যথার অনুভূতি ব্রেইন-এ পাঠিয়ে দেয়, এবং আমরা হাঁটু ব্যাথা অনুভব করি।

হাঁটু জয়েন্টে পাঁচটি প্রাথমিক bursae আছে।

১).patellar bursa

২),Infrapatellar bursa

৩),Pes anserine bursa

৪).semimembranosus
bursa

৫),Suprapatellar bursa
সহ হাঁটুর জয়েন্টে আরো 12 টি বার্সা পাওয়া যায়।

একটি Bursae হল একটি তরল-ভরা থলি যা নিশ্চিত করে যে শরীরের অঙ্গগুলির মধ্যে কম ঘর্ষণ ঘটাতে।

Bursaeর প্রদাহ ( Inflammation) কে bursitis বলে।

★★★★★

হাঁটুর ব্যথার কারনঃ

বিভিন্ন কারনে হাঁটুর ব্যথা হতে পারে।

১),৪০ বছর বয়সের নীচে হাঁটু ব্যথা হলে, সাধারনত হয় চোট-আঘাত থেকে যেমন লিগামেন্ট বা কার্টিলেজ ছিঁড়ে যাওয়া থেকে।

২),প্রদাহ থেকে যেমন রিউমাটএড আরথ্রাইটিস বা স্পনডাইলো আরথ্রাইটিস থেকে।

৩), ৪০ বছর বয়সের বেশি মানুষের হাঁটু ব্যথা হলে সাধারনত হয় অষ্টিও আর্থরাইটিসের থেকে।

হাঁটু ব্যথার সবচেয়ে বেশি এই অষ্টিও আর্থরাইটিসের কারনে হয়।

হাঁটু ব্যথার অন্যান্য কারণগুলি খুব বেশি দেখা যায় না,

আমরা মূলত অষ্টিও আর্থরাইটিস নিয়ে আলোচনা করব।

★★★

অষ্টিও আরথ্রাইটিস কি?

এটি একটি ক্ষয়জনিত রোগ।
ধীরে ধীরে হাঁটুর কার্টিলেজের ক্ষয় হতে থাকে, হাড়ের ক্ষয় প্রাথমিকভাবে হয় না।
কার্টিলেজের ক্ষয় হতে থাকে বলে এটি অমসৃণ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে কার্টিলেজের উচ্চতা কমে যায় এবং হাড় গুলোর মাঝের ফাঁক কমে যায়।
কার্টিলেজের ক্ষয়এর ফলে এর ঠিক উপরেই থাকা সায়নোভিয়াল ফ্লুইড উৎপন্নকারী গ্রন্থিগুলিরও ক্ষয় হয় এবং সায়নোভিয়াল ফ্লুইড কম তৈরি হয়।
সায়নোভিয়াল ফ্লুইড কম তৈরি হওয়ার ফলে ঘর্ষণজনিত ক্ষয় আরও বেশি করে হতে থাকে।
এর ফলে হাঁটুর হাড়গুলোর একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণ হয়, এবং ব্যথার উৎপন্ন হয়।
অষ্টিও আরথ্রাইটিস এর পরিবর্তন গুলি চক্রাকারে চলতে থাকে এবং ধীরে ধীরে রোগটি বাড়তেই থাকে।

হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস কারণ কী ?

এখানে একটু অন্য ভাবে আলোচনা করা যেতে পারে,

★★★কার্টিলেজর ক্ষয় বা অষ্টিও আর্থরাইটিসের মুল কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।★★★

ইনসুলিন রেজিস্ট্যাস কেন হয় এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে হবে, এই বিষয়ে অন্য কোন প্রতিবেদনে আলোচনা করবো।

কিন্তু ইনসুলিন রেজিস্ট্যাস হলে রক্তে অতিরিক্ত সুগার ফ্যাটে পরিনত হয়, এতে শরীরের ওজন বাড়ে এবং হাড়ের ক্ষয়। এই করনে হাটুর ( Cartilage ) তরুণাস্থি ধ্বংস হয়।

★★★HOMA-IR টেস্ট করলে বোঝা যাবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যাস আছে কি না

চিকিৎসককে সেই দিকে নজর দিতে হবে। ★★★

ওজন বেশী হলে হাঁটুর ওপর ধকল বেশী হয়।

হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস এর প্রধান লক্ষণ হল হাঁটুর ব্যথা।

★★★

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় লক্ষ্মণ উপর নির্ভর করে ঔষধ নির্বাচন করতে হয়।

★★★
তাই কিছু লক্ষ্মণ উল্লেখ করলাম ★★★

১). সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা বা পরিশ্রমের পর হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যাওয়া।

২). সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা অনেকক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর হাঁটু আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া।

৩). চলাফেরা করার সময় হাঁটুর গাঁটে শব্দ হওয়া।

৪).হাঁটু ফুলে যাওয়া।

৫) উরুর মাংসপেশীর ক্ষয় হয়ে যাওয়া।

৬). হাঁটু ভাঁজ করার সময় ব্যথা হয়।

৭). ধীরে ধীরে সামান্য নড়াচড়াতেও অসহ্য ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। এবং হাঁটু নড়ানো যায় না।

৮). হাঁটুর গাঁট আড়ষ্ট হয়ে যায়।

৯).বসে থাকা অবস্থাতেও ব্যথার অনুভুতি।

১০). মহিলাদের মেনোপজ পর অস্টিও আর্থ্রাইটিস দেখা দিতে পারে তবে অনেকে ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিস দেখা যেতে পারে।

অস্টিওপোরোসিস প্রায়ই অস্টিওআর্থারাইটিসের সাথে বিভ্রান্ত হয় কারণ প্রায়শই মানুষের উভয়ই থাকে। যদিও অস্টিওআর্থারাইটিস একটি জটিল রোগ যা জয়েন্টে ব্যথা সৃষ্টি করে এবং জয়েন্টের গতিশীলতা এবং কার্যকারিতা হ্রাস করে। অস্টিওপরোসিস
রোগে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড় ভেঙে যেতে পারে এবং এটি প্রায়শই একটি নীরব রোগ হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারণ বেশিরভাগ রোগীই জানেন না যে তাদের হাড় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও আরো কিছু লক্ষ্মণ দেখা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যথা চলতে থাকলে তা স্বাভাবিক জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শেষ পরিণতি হাঁটু পরিবর্তন ( KNEE REPLACMENT)।

এ থেকে রক্ষা করতে পারে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।

শুধু চিকিৎসা করলে হবে না,

সাথে প্রয়োজন জীবন শৈলী পরিবর্তন।

সঠিক খাদ্যাভাস।

এবং নির্বাচিত ব্যায়াম।

এই চারটি সমন্বয়ে হাঁটু পরিবর্তনের ( KNEE REPLACEMENT)
মতো পরিস্থিতি রুগীও সম্পুর্ন সুস্থ হয়ে যায়।

★এখানে বলে রাখা ভালো★

এই প্রতিবেদনটি পড়বার সাথে সাথে আমার স্পন্ডিলাইটিসের উপর লেখা প্রতিবেদনটি ভালো করে পড়বেন। এতে উপকৃত হবেন।

★★★★

চিকিৎসার আলোচনা শুরু করার আগে কয়েকটি খাবার সমন্ধে আলোচনা করছি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে এই খাবার SUPER FOOD হিসেবে গৃহীত।

CARTILAGE যে প্রোটিন তৈরি, তার নাম "COLLAGEN,"
এই Collagen নিন্মলিখিত খাবারগুলো থেকে পাওয়া যায়

★★★

১) LEGUMES ( শিম গোত্রের অন্তর্গত খাদ্যশস্য )

অথাৎ ডাল জতীয় খাবার, প্রধানত: বিউলি,মুগ,মসুর,ছোলা,মটর,অড়হর,মাষকলাই, খেসারি,রাজমা,সোয়াবিন প্রভৃতি শুঁটিজাতীয় মৌসুমি ফসলের শুকনো বীজ। এই গুলো সব প্রদাহ হীন হয়,সেই কারণে জ্বালা কম হয়,জ্বালা কমের জন্য Cartilage পর্দা ক্ষয় কম হয়, অত্যধিক পরিমাণে LEUCINE AMINO ACID আছে, যা Cartilage পুনরায় বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে।

★★★

২).CITRUSES FRUITS
( ভিটামিন সি যুক্ত টক জাতীয় ফল)

যেমন মৌসম্বী,আমলকী, পেয়ারা কুল ( বড়ই) লেবু বা যে কোন মৌসুমি ফল। VITAMIN C
কার্টিলেজ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

★★★

৩), BROWN RICE ( ঢেঁকি ছাঁটা চাল )

পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রে বাদামী চাল সাদা ভাতের চেয়ে স্বাস্থ্যকর। এই সুপারফুড কম ক্যালরি, চর্বি এবং গ্লুটেন-মুক্ত। অতএব, সমস্ত খাদ্য সচেতন মানুষ সাদা ভাতের চেয়ে এই ভাত পছন্দ করে। এই ভাতে কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে , যেমন – ফাইবার, খনিজ পদার্থ-দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-ফ্লেভোনয়েড, প্রোটিন
অত্যাবশ্যক ফ্যাটি অ্যাসিড।
এই চাল শরীরে HYALURONIC ACID ক্ষরন বৃদ্ধি করে, এটি হাঁটু দুইটি হাড়ের মাঝে গ্রিসের মতো করে যা হাঁটুর Movement মসৃণ করে।

★★★

৪), POMEGRANATE ( ডালিম)

ডালিমে Butyric acid, Ursolic acid এবং কিছু alkaline দ্রব্য আছে। যা Antioxidants ও Anti Inflammatory , এটা Cartilage ক্ষয় রোধ করতে সহয়তা করে।

★★★

৫), Nuts ( বাদাম) -

যেমন, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম বিশেষ করে আখরোট ( Walnut) ও ব্রাজিল বাদাম , ( Bertholletia excelsa ),
আছে প্রচুর প্রোটিন ও ডায়েটারি ভিটামিন এবং ভিটামিন B Complex ( থায়ামিন) সহ আরোও কিছু মিনারেলস যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন জিংক ও ম্যাঙ্গানিজ, কপার, সেলেনিয়াম বিশেষ করে আলফা-লিনোলিক অ্যাসিড (ALA) . ( যা প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছ) সহ ওমেগা- ৩ এবং ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং বিশেষ করে Collagen protein তৈরি হতে সহায়তা করে।



★★★

৬), Sesame Seeds(সাদা তিল)

একাধিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। তাই প্রতিদিনের খাবারে এই উপকরণটি ব্যবহার করলে শরীরের ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেও অত্যন্ত কার্যকরী এই তিল। সাদা তিলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যা হাড় মজবুত করে এবং অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা কমা হয়।

★★★

৭), Lime ( পাথুরে চুন)

চুনে আছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট, যা সরাসরি হাড়ের উপরে কাজ করে। হাড়ের যেকোনো রোগে, প্রতিদিন গম পরিমাণ চুন খেলে আশাতীত উপকার পাওয়া যায়। ( বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপজ হওয়া পর হাড়- ক্ষয় জনিত রোগে উপকারী।)

★★★

৮), GREEN TEA

গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বি, বি৫, ডি, ই, সি, ই, এইচ সেলেনিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও সামান্য ক্যাফেইন। এছাড়াও Catechin ও Poly phenol নামে বিশেষ দুই ধরনের উপাদান থাকে, যা toxin ( বর্জ্য পদার্থ) বের করতে সহায়তা করে। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করা, সব রোগের ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

★★★ হাঁটু ব্যথা রোগে কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★★★

★★★ হাঁটু ব্যথায় কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★★★

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা উপসর্গ ভিত্তিক, তাই রোগের ইতিহাস ও লক্ষ্মণ মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করতে হয়।

তাই নিন্মলিখিত ঔষধ গুলোর নাম ও লক্ষ্মণ দেওয়া হলো।

★★
১), ARNICA MONT 200

হাঁটু ব্যথা যদি আঘাতের কারণে হয়, তা'হলে এই কর্যকরি। বা হটাৎ করে হাঁটুতে ব্যথা,রুগী হাঁটু স্পর্শ করতে দেয় না,সে ক্ষেত্রে এই ঔষধ ভালো কাজ করে।

★★
২), RUTA G 200

হাঁটুতে পুরনো চোট। হাঁটু গেড়ে কিছুক্ষণ বসলে ব্যথা।ব্যথা হাড়ের ভিতরে হচ্ছে,
ব্যথার জন্য পা খুরিয়ে খুরিয়ে হাটে। কিন্তু নড়াচড়া করলে উপশম হয়।
সে ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।

★★
৩), DULCAMARA 200

এই ঔষধ আবহাওয়া পরিবর্তন সময় বা যারা একবার কিছুক্ষণ এসি ঘরে আবার বাইরের আবহাওয়া আসেন আবার কিছুক্ষণ পর এসি ঘরে যেতে হয়, এই রকম পরিবেশে যাদের কাজ করতে হয়, তাদের' হাঁটু ব্যথা হলে, সে ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।

★★
৪), RHUS TOX 200

" হাঁটু ব্যথা" উঠতে বসতে ব্যথা, আবার চলাফেরা করলে তখনকার মতো ব্যথা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।

★★
৫), BRYONIA ALB. 200

" হাটু ব্যথা" একটু নাড়াচাড়া করলে ব্যথা, স্থির হয়ে বসে বা শুয়ে থাকলে ব্যথা নেই, অনেক সময় হাঁটু ফোলে, শক্ত হয়,লালবর্ণ হয় বা এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে একবার ডান হাঁটু, একবার বাম হাটু বা অন্য স্থান পরিবর্তন করে। সে ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।

★★
৬), CAUSTICUM 200

যারা হাঁটু ব্যথায় বেশ কিছু দিন কষ্ট পারছেন, হাঁটু শক্ত হয়ে যাচ্ছে, হাঁটুতে ছিঁড়ে ফেলার মতো বেদনা, অনেক সময় চললে হাঁটুতে কটমট আওয়াজ করে, এমনকি পায়ের ডিমে খিল ধরে। হাঁটুর নীচের অংশ সরু বা চিকন হয়ে যাচ্ছে, দিনের তুলনায় রাতে ব্যথা বৃদ্ধি হয়।
সে ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।

★★
৭), GUAIACUM 30, 200

হাঁটু ফোল, হাঁটুর প্রদাহ ( Inflammation) সাথে ব্যথা
সামান্যমাত্র চাপে ব্যথা বাড়ে।গরম সেঁক সহ্য হয় না, তরুণ রোগের ক্ষেত্রে ৩০ শক্তি ব্যবহার করা ভালো।
★★★ পুরনো আঘাতের ইতিহাস থাকে বা Causticum ঔষধটি ব্যবহার করে উপকার না পেলে এই ঔষধটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

★★
৮), APIS MEL 30, 200

এটি হাঁটু ব্যথায় ভালো কাজ করে।
হাঁটুর উপরে খুব ফোলে, চাপ দিলে টোপ পড়ে এবং খুব ব্যথা হয়, সব সময়েই মৌমাছির হুলফোটানর ব্যথা, পা ছড়াইতে কষ্ট। ঠান্ডা সেঁক দিলে উপশম।
★*★ উপরের লক্ষ্মণ গুলোর প্রাথমিক অবস্থায় Aconite Nap 30 ভালো কাজ করে কিন্তু তাতে কাজ না হলে Apis mel 30.
ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে ঔষধ দিতে হবে।

★★
৯), COLCHICUM A 3X, 30

যে সকল মহিলারা হৃষ্টপুষ্ট ও ক্ষমতাশালী এবং মেনোপজ পর হাঁটু ব্যথা হয় সাথে অস্টিওপরোসিস দেখা যায়।
এই ধরনের রোগী সামান্য গোলমাল, তীব্র গন্ধ, কু - কথা, কথার অসম্মতি এবং অন্যের সংস্রব আদৌ সহ্য করতে পারে না।
এই সকল রোগীর ঔষধ।
আক্রান্ত হাঁটুতে Externally
ব্যবহার ( মাদার টিনচার) করলে সাথে সাথে উপশম হয়।

★★
১০), ANGUSTURA VERA 200

এই ঔষধ হাঁটু ব্যথার চরম অবস্থায় ব্যবহার হয়,
হাঁটুর Cartilage ধ্বংস হয়ে Humerus, tibia, femur ক্ষয় হচ্ছে।
দুই হাঁটুতে গাঁটে টাটানি বেদনা,চালিবার সময় প্রচন্ড বেদনা, গাঁটের ভিতর একপ্রকার মড়্মড়্ শব্দ হয়, গাঁট ও পেশী শক্ত, আড়ষ্ট হয়ে থাকে।

★★
১১, KALI IOD 200

এই ঔষধটি পুরাতন হাঁটু ব্যথায় ভালো কাজ করে। তবে রোগীর অল্পতেই ঠান্ডা লাগে এবং নাক দিয়ে জল দিয়ে তরল সর্দি নি:সরন হয়।
এই রোগীর রাতে বিছানায় শুইলেই বৃদ্ধি হয়।
যে সমস্ত রোগী ব্যথায় দ্রুত আরাম জন্য স্টেরয়েড ব্যবহার করেন, তাদের এই ঔষধ বিশেষ কার্যকরী।

★★
১২), SARRACENIA P 30

হঠাৎ করে হাঁটুর হাড়ে ও ঊরুসন্ধিতে ( Knee & hip joint) আঘাত লাগার মতো বেদনা।

★★
13), ASAFETIDA 200

এই ঔষধটি হাঁটু ব্যথায় ভালো কাজ করে, রোগীর টিবিয়া ( Tibia) অস্থির ক্ষয়ের একমাত্র হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।
★★
১৪), STRONTIA CARB 6 X

এই ঔষধটি হাঁটু ব্যথায় ভালো কাজ করে, তবে FEMUR অস্থির ক্ষয়ে আরও ভালো কাজ করে।

★★
১৫), OSTEO ARTHRIS NOSODE 1 M

অস্টিওআর্থারাইটিসের খুব ঔষধ। যখন অন্য ঔষধ তেমন কাজ না করলে এই ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন।

এ ছাড়াও আরো অনেক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আছে, যা লক্ষ্মণ মিলিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

★★★★★★★★★★★★

১), ARNICA MONT - Q
২), CAPSICUM - Q
৩), CAMPHOR - Q
৪), GAULTHERIA - Q

উপরে চারটি ঔষধ এক সাথে মিলিয়ে বাহ্যিক ( External) প্রয়োগ সাময়িক উপকার পাওয়া যায়। তবে ঔষধ টি ব্যবহার করা পর শুঁকনো গরম সেঁক দিতে হবে।

*★★★*

★★★★

ঘরোয়া চিকিৎসা

★★★★

হাঁটু ব্যথায় বহু বছর আগে থেকে ভারতীয় উপ মহাদেশে, এই ধরনের চিকিৎসা হয়ে আসছে।

১), শিউলী ( সেফালিকা / হারসিঙ্গার/ পারিজাত) ফুলের ৫ -৬ টি পাতা, এক গ্লাস জলে ( পানি) হাল্কা আঁচে ফুটিয়ে অর্ধেক পরিমাণ করে নিয়ে এবং এই সেদ্ধ কারা জলটি ছাঁকনিতে ছেঁকে দিনে বার খেতে হবে।

★★ রাতে সেদ্ধ করে সকালে বা সকালে সেদ্ধ করে রাতে খেতে হবে।

★★★★★
বাহ্যিক প্রয়োগ

১), শিউলী ফুলের ৭-৮ পাতা
২), লাল লঙ্কা ( মরিচ) অর্ধেক বা ১/৪ অংশ , এক সাথে বেঁটে
অ্যালোভেরা জেলের মিশিয়ে বা পেস্ট বানিয়ে হাঁটুতে লাগাতে হবে। হাঁটুতে clockwise মালিশ করতে হবে, একবার ডান দিকে, আরেক বার বাঁ দিক। এই ভাবে দশ মিনিট করে মালিশ করতে হবে।

হাঁটুর উপরে প্রলেপ দিয়ে দুই -তিন ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হবে বা রাতে শোবার সময় ব্যবহার করা যেতে পারে ( অবশ্যই সুতির কাপড় বেঁধে নিতে হবে।) রোদে বা শুকনো সেঁক দিতে পারলে ভালো হয়।

★★★*******★★★
ব্যায়াম

★★
১), প্রথমে সোজা হয়ে বসুন। পা দুটো অর্ধেক ভাঁজ করুন। এবার একটি পায়ের গোড়ালি দিয়ে মেঝেতে চাপ দিন। এইভাবে ১০ সেকেন্ড থাকুন। এরপর অপর পায়ে করুন। এটি ১০ বার করুন।

★★★
২), প্রথমে সোজা হয়ে বসুন। তারপর একটি বালিশ হাঁটুর নিচে রাখুন। তাহলে দেখা যাবে হাঁটুটি অর্ধেক ভাঁজ করা অবস্থায় আছে। এরপর হাঁটু দিয়ে বালিশের ওপর চাপ দিন। যে হাঁটু দিয়ে বালিশের ওপর চাপ দেবেন ওই পায়ের গোড়ালি সামান্য ওপরে উঠবে। এই ভাবে ১০ সেকেন্ড থাকুন ও এটি ১০ বার করুন।

★★
৩),প্রথমে একটি চেয়ারের ওপর বসুন। এরপর ধীরে ধীরে একটি পা সোজা করে ওপরে তুলতে থাকুন। পা টি সোজা অবস্থায় আসলে ১০ সেকেন্ড ধরে থাকুন। এরপর পা নিচে নামিয়ে নিন ও অপর পায়ে করুন। এই ভাবে ১০ বার করুন।

★*বিশেষ কথা জেনে রাখা ভালো। ★* ঃ-

শরীর কে রোগ মুক্ত করতে প্রতিদিন আহারে ৫০% খাবার ফল এবং স্যালাট খান অথাৎ কাঁচা পাকা ফল কাঁচা সব্জি খান এতে শরীরে পটাসিয়াম ও সোডিয়াম পরিমাণের সমতা বজায় রাখে। পটাসিয়াম ও সোডিয়াম ১ঃ১ থাকলে কোন রোগ আক্রান্তের হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে । হলেও autophagy মাধ্যমে শরীর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়।

****সুব্রত সেনগুপ্ত**** হোমিওপ্যাথিক প্রাক্টিশনার রবীন্দ্র নগর শিলিগুড়ি পশ্চিমবঙ্গ।
9064849362

18/01/2023
24/11/2022

*★*★*★সোরিয়াসিস রোগের কর্যকরি কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ *★*★*★

তার আগে জেনে নেওয়া দরকার, সোরিয়াসিস কি রোগ ? এবং কেন হয়।

সোরিয়াসিস ত্বকের একটি
প্রদাহজনিত রোগ। এটি একটি জটিল রোগ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো বয়সীরা এ রোগে আক্তান্ত হতে পারে। তবে ত্রিশোর্ধ্বরা বেশি আক্রান্ত হয়। এটি সংক্রামক রোগ নয়, কাজেই সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না।মানুষের ত্বকের কোষস্তর প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিসে এই কোষ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। যেমন ত্বকের সবচেয়ে গভীরের স্তর থেকে নতুন কেরাটিনোসাইট কোষ ওপরের স্তরে আসতে স্বাভাবিকভাবে সময় নেয় ২৮ দিন, আর এ ক্ষেত্রে তা পাঁচ থেকে সাত দিন। কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার জায়গাজুড়ে এই সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকের বিভিন্ন স্থানে সাদা আঁশের মতো খসখসে শুকনো এবং এতে ত্বক লালচে হয়ে ফুলে ওঠে ও সুরসুরি করে কখনো চুলকাই, এর কারনে আমাদের পরিবেশে যে হাজারো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস যা আমাদের শরীরের সংস্পর্শে আসে তা কখনো আমাদের ক্ষতি করে বা ভালো করে কিন্তু সুস্থ শরীরে বেশিক্ষণ স্থায়ী থেকে না, কিন্তু সোরিয়াসিস রোগীর দেহে স্থায়ী অবস্থান করতে পারে, কারন সোরিয়াসিস ক্ষত। পৃথিবীতে ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। সারা বিশ্বে ১৩ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। ২৯ শে অক্টোবর বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস পালন করা হয় এবং মানুষকে সচেতন করা হয়।

এই রোগ কেন হয়?

একটাই উত্তর অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার

এখন প্রশ্ন অটোইমিউন ডিজঅর্ডার কি

যেখানে একজন লোকের ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত তার শরীরকে আক্রমণ করে। আরো সহজ ভাবে বললে, বাইরের কোনো ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর প্রভাব ছাড়াই রোগ সৃষ্টি হয় কারণ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনো সুস্থ কোষকে ক্ষতিকর মনে করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

সাধারণত ইমিউন সিস্টেম ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মতো জীবাণু থেকে আমাদেরকে সুরক্ষা দেয়- যখন ইমিউন সিস্টেম বুঝতে পারে যে শরীরে আক্রমণকারী প্রবেশ করেছে, তখন এটি এসব শত্রুকে আক্রমণ করতে অ্যান্টিবডি নিঃসরণ করে। সাধারণত ইমিউন সিস্টেম শত্রু কোষ ও সুস্থ কোষের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে।

কিন্তু অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে ইমিউন সিস্টেম শরীরের কোনো অংশকে শত্রু ভেবে ভুল করে এবং অটোঅ্যান্টিবডি নামক প্রোটিন নিঃসরণের মাধ্যমে সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে।

ইমিউন সিস্টেম সেনাবাহিনীর মতো

ইমিউন সিস্টেম অ্যান্টিবডি নিঃসরণ করে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব থেকে আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখে। অ্যান্টিবডি হলো রক্তের প্রোটিন যা কোনো ঝুঁকি বা আক্রমণকারীকে নিষ্ক্রিয় করে। এটিকে বলা হয় ইমিউন রেসপন্স। সুস্থ কোষের ওপর এ আক্রমণ শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে, যেমন- ত্বকে আক্রমণ হলে সোরিয়াসিস হয় ও কোষে আক্রমণ হলে ক্যানসার রোগ হয়।

অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার কেন হয়?

আধুনিক বিশ্বে যে আহার করি তা অধিকাংশ কেমিক্যাল যুক্ত এমনকি এন্টিবায়োটিক সহ অন্যান্য আলোপ্যাথি ঔষধ কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। পরিবেশ দূষণকারী পদার্থের সংস্পর্শে আসা, জীবন শৈলী সঠিক ভাবে পালন না করা, ভিটামিন ডি অপ্রতুলতা। এছাড়া আরও অন্যান্য কারণও আছে। সেই জন্য আধুনিক বিশ্বে এই রোগ দ্রুত বাড়ছে। এখানে বলে রাখা ভালো এই রোগ কোন ভাবে চাপা পড়লে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস দেখা দেয়।
তাই এই স্টেরয়েড জাতীয় কোন ঔষধ ব্যবহার না করা ভালো।

*★*★*★হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমন্ধে বলার আগে করনীয় পরামর্শ ঃ-★*★*

১).আপনার আহারে পরিবর্তন করতে হবে মাছ,মাংস, ডিম সহ প্রাণীজ খাবার বন্ধ করতে হবে। যে সব্জিতে আপনার এলার্জেন আছে তা বন্ধ করতে হবে।

২). প্রচুর পরিমানে সতেজ শাকসব্জী, কাঁচা পাকা ফল খেতে হবে।

৩). কোন রকম সংরক্ষণ করা খাবার বা কেমিক্যাল যুক্ত খাবার আহার করা উচিত নয়।

৪). সূর্যরশ্মি থেকে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা।★*★*★

সোরায়সিস (Psoriasis) রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

বিষয়টি হচ্ছে- হোমিওপ্যাথি মতে যেকোন চর্মরোগ হবার মূল কারণ হচ্ছে রোগীর মধ্যে কার্যকর সোরা মায়াজম। মায়াজম ব্যাপারটি একটু জটিলতা পূর্ণ বিষয়। তাই এ নিয়ে অন্য সময় আলোচনা করবো। এখন কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নিয়ে আলোচনা করছি এছাড়া আরও অনেক হোমিওপ্যাথিতে ঔষধ আছে

লক্ষ্মণ অনুযায়ী নিন্মের যে কোন একটি ঔষধ ব্যবহার করা উচিত।

১. Carcinosin 200

এই হোমিওপ্যাথিক ঔষধটি বংশগত কারণে আক্রান্ত রোগীদের জন্য যাদের বংশের অটো ইমিউন ডিজঅর্ডারের জন্য কোন কঠিন রোগে আক্রান্ত ছিল, যেমন ক্যানসার,সুগার,আর্থ্রাইটিস,অস্টিওআর্থ্রাইটিস,লিভার সিরোসিস আরও অনেক রোগ।

২. Kali ars 200

সোরিয়াটিক আর্থায়টিস সাথে সোরিয়াসিস থাকলে উপকারী।

৩. Kali Sulph 200

রোগীর চর্ম প্রায় শুষ্ক থাকে। এরা গরম আবহাওয়ায় খুব কষ্ট পায় ও মেজাজ খিটখিটে। ক্যালি সালফ এর রোগীদের উদ্ভেদ থেকে পাতলা হলদেটে রস নিঃসরণ হয় ও তাদের জিহ্বার গোড়ায় দিকটায় হলদেটে ক্লেদযুক্ত আবরণ থাকে।

৪). GRAPHITS 200

গ্রাফাইটিস রোগী সাধারণত মোটা, মেদবহুল ও ফর্সা চেহারার অধিকারী হয়ে থাকে। এটি ত্বকের ক্রমাগত শুষ্কতা, সেইসাথে এবং পুরু। উদ্ভেদ থেকে মধুর মত গাঢ় রস বের হয়।

নখের উপর, কানের পিছনে এবং কুঁচকি অঞ্চলে, ঘাড়, কাঁধ এবং হাঁটু এর বাঁকএ সোরায়সিস দেখা যায়। শুস্ক অবস্থায় মাছের আঁশের মতো পদার্থ দ্বারা আবৃত থাকে।

৫).MEZRIUM 200

মাথার খুলিতে আক্রান্ত বেশি হয় এবং রাতে বিছানায় গেলে বেশি করে চুলকানো র ইচ্ছে হয়। উদ্ভেদে গাঢ় অর্থাৎ ঘন পুঁজ জমে। এমনকি উক্ত পুঁজে পোঁকা হতেও দেখা

৬). ARSENIC IOD 200

এখানে সোরিয়াসিস পিঠে বেশি দেখা যায় আক্রান্ত অংশ বিভিন্ন রং এর উদ্ভেদ বা আঁশ জাতীয় পদার্থে পরিপূর্ণ থাকে। রোগী সাধারণত হালকা পাতলা গরণের ও দুর্বল, জরাজীর্ণ শরীরের অধিকারী হয়।

৭)..ARSENIC HYDRO 200

এখানে সোরিয়াসিস লিঙ্গাগ্র চর্মে ও লিঙ্গমুন্ডে পুঁজভরা ভাসা ক্ষতযুক্ত সোরিয়াসিস।

৮).SEPEA 200

মহিলাদের মধ্যে সোরিয়াসিস লক্ষণ দেখা এই ঔষধ প্রধমে চিন্তা করা উচিত। এবং মেনোপজের পর আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে । সোরিয়াসিস আক্রান্ত অংশ হলুদ বর্ণের হয়। দুর্বলতা, বিরক্তিকর আচরণ এবং উদাসীনতা দেখা দেয়।

৯). NATRUM ARS.200

সাদা পাতলা আঁশযুক্ত সোরিয়াসিস আঁশ উঠে গেলে স্থান টি লাল হয়ে থাকে।

১০). CLEMATIS 200

এই ঔষধের অদ্ভুত লক্ষ্মণ শুক্লপক্ষ প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা পযর্ন্ত বৃদ্ধি হয়,রস পড়ে এবং কৃষ্ণপক্ষ থেকে নিজে থেকে কমতে থাকে। আক্রান্ত স্থান যেখানে হোক ঐ ঔষধ দরুন কাজ করে।

১১). ACID FLOURICUM 200

নখের কিনারায় বা শরীরের ছোট ছোট স্থানে এবং ভ্রুর ওপর থেকে কপাল পযন্ত ছাড়া ছাড়া লালাভ সোরিয়াসিস এবং তাতে আঁশও উঠে।

১২). TEUCRIUM M 200

ডান হাতের আঙুলে সোরিয়াসিস। রাতে চুলকানি বেশি হয় এবং গোড়ায় পুঁজ জন্মে।

১৩). THYROIDINUM 3X

অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার রুগীদের ক্ষেত্রে এই ঔষধ ভালো কাজ করে। তাই অন্য ঔষধের সাথে এই ব্যবহার করা যেতে পারে।

১৪). Hydrocotyl As Q + Berberis Aq. Q + Azadirecta Ind. Q ১০ঃ১০ঃ১০ঃ৭০( নারিকেল তেল বা অলিভওয়েল তেল) ১০০ মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে। এতে ত্বক মসৃন থাকবে। দিনে দুই বার ব্যবহার করবেন।

*★*★*★সোরিয়াসিস রোগের কিছু ঘরোয়া চিকিৎসার কথা বলছি ★*★*★

১). হলুদ গুড়ো বা কাঁচা এক গ্রামের মতো খাবার তালিকায় রাখবেন, সকালে খালি পেটে খেলে ভালো, বা অন্য সময়ও নেওয়া যেতে পারে, তবে প্রতি দিন খেতে হবে। হলুদে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি আর্সিনোজেনিক উপাদানসমূহ। এগুলি শরীরকে অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার থেকে শরীরকে রক্ষা করবে, বিশেষ করে রক্তে অক্সিজেন প্রবাহ স্বভাবিক করবে।

২). নিম তেলের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে একান্ত স্থানে স্নানের আধ ঘন্টা আগে লাগিয়ে স্নান করবেন, এখানে বলে রাখা ভালো বাড়িতে তৈরি করে ব্যবহার করবেন। যে কোন কোম্পানি তৈরি নিম তেলে কেমিক্যাল মেশানো থাকে।

***বিশেষ কথা ***

সোরিয়াসিস রোগীরা কখনও কোন সবান, পেট্রোলিয়াম জেলি, কসমেটিক ব্যবহার করবেন না, প্রয়োজনে নিম পাতা জলে ফুটিয়ে, জলের মিশিয়ে স্থান করুন।

★*★★*বিশেষ কথা জেনে রাখা ভালো। ★* ★★* ঃ-

শরীর কে রোগ মুক্ত করতে প্রতিদিন আহারে ৫০% খাবার ফল এবং স্যালাট খান অথাৎ কাঁচা পাকা ফল কাঁচা সব্জি খান এতে শরীরে পটাসিয়াম ও সোডিয়াম পরিমাণের সমতা বজায় রাখে। পটাসিয়াম ও সোডিয়াম ১ঃ১ থাকলে কোন রোগ আক্রান্তের হওয়া র সম্ভাবনা কম থাকে । হলেও autophagy মাধ্যমে শরীর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়।

****সুব্রত সেনগুপ্ত**** হোমিওপ্যাথিক প্রাক্টিশনার রবীন্দ্র নগর শিলিগুড়ি। ৯০৬৪৮৪৯৩৬২ ।

★*★*★ স্পন্ডালাইটিসে (spondylitis)র বিভিন্ন রোগের কর্যকরি (C S, L S,or A S)  হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★*★**★*★*★ এই আলোচনা ...
23/11/2022

★*★*★ স্পন্ডালাইটিসে (spondylitis)র বিভিন্ন রোগের কর্যকরি (C S, L S,or A S) হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★*★**

★*★*★ এই আলোচনা টা একটু দীর্ঘ হবে, সম্পূর্ণ প্রতিবেদন টি মনোযোগ সহকারে পড়লে হয়তো আপনিও উপকৃত হবেন বা অন্যকে উপকৃত করতে পারেন ★*★*★

স্পন্ডালাইটিস রোগ টি কি ?

স্পন্ডালাইটিস হলো মেরুদণ্ডের আর্থারাইটিস বা বাত, যাতে কশেরুকায় (মেরুদণ্ড গঠন করে যে হাড়) এবং মেরুদণ্ড ও শ্রোণীচক্রের মাঝের সন্ধিতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, এবং মেরুদণ্ডের নিকটবর্তী রগ ও লিগ্যামেন্ট বা সন্ধিবন্ধনীতেও ব্যথা হয়।

একটু জানা দরকার কশেরুকা আসলে কি ?

কশেরুকা (vertebrae) মানবদেহের মেরুদণ্ডের অংশ বিশেষ।

প্রকৃতপক্ষে মেরুদণ্ড অনেকগুলো কশেরুকার পর পর সাজানো বিন্যাস। কশেরুকা অস্থি এবং তরুণাস্থি (Cartilage) র সমন্বয়ে গঠিত জটিল কাঠামো। মানবদেহের মেরুদণ্ডে সর্বমোট ৩৩ টি কশেরুকা থাকে। কশেরুকার মধ্যস্থিত ফুটো দিযে মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ু শরীরে প্রবেশ করে।

কশেরুকার বৃহত্তর অংশটিকে দেহ বলে এবং এর কেন্দ্রের অংশকে সেন্ট্রাম বলে। দেহের উপর-নিচ পৃষ্ঠে আন্তঃকশেরুকা চাকতি লেগে থাকে। কশেরুকার পিছনের অংশ আর্চ গঠন করে,যেখানে দুটি পেডিকল, দুটি ল্যামিনা এবং কিছু প্রসেস আছে। পেডিকলের আকৃতির কারণে কশেরুকিয় খাঁজের সৃষ্টি হয় যা আন্তঃকশেরুকা ফুটো গঠন করে,যার মধ্য দিয়ে সুষুম্না স্নায়ু প্রবেশ করে এবং বের হয়।কশেরুকার যে বড় ছিদ্র আছে,তাকে কশেরুকিয় ছিদ্র বলে। সকল কশেরুকার ছিদ্র সম্মিলিতভাবে ভার্টিব্রাল ক্যানেল নির্মাণ করে। এর ভেতর দিয়ে সুষুম্না কাণ্ড অতিক্রম করে।

একাধিক কশেরুকা একত্রিত হয়ে মেরুদণ্ড গঠন করে এবং একে স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে।



ক্ষয়প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ডিস্ক তার জল হারিয়ে ফেলে এবং শুষ্ক হয়ে ওঠে। সুস্থ অবস্থায় ডিস্কগুলো নরম, স্থিতিস্থাপক এবং বেশি মজবুত। ডিস্কে যখন ক্ষয় শুরু হয় তখন তার নমনীয় তন্তুগুলো শক্ত হয়ে ওঠে এবং চাপের ফলে ভেঙে যায়। দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে যায় এবং পাতলা হয়ে যায়। এতে কশেরুকাগুলোর প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে ঘষা খেতে থাকে এবং বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা দেখা দেয়। এই হাড়ের দানাগুলো সুচালো ও ধারালো। এক্স-রে পরীক্ষায় এগুলো ধরা পড়ে। যদি এই তীক্ষ হাড়ের দানাগুলোর কোনোটি স্নায়ুমূলকে খোঁচা মারে তাহলে হাতে তীব্র ব্যথার উদ্রেক হয়। হাড়ের দানাগুলো মাঝে মধ্যে স্নায়ুরজ্জুকেও চাপ দিতে পারে এবং পায়ে অসাড়তা ঘটাতে পারে। ক্ষয়প্রাপ্ত ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। সেটাকে বলে ‘স্লিপড ডিস্ক’। সে ক্ষেত্রে ডিস্ক স্নায়ুমূলের ওপর চাপ দিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। স্লিপড ডিস্ক সাধারণত হয় দুর্ঘটনা কারণে , হঠাৎ পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড়ে আঘাতের কারণে। যাই হোক, ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে গেলে ক্ষয়প্রাপ্ত মেরুদণ্ডের নড়াচড়া সহজ হয় না।

স্পনডাইলোসিস সাধারণত ঘটে থাকে ঘাড়ের নিচের চারটি কশেরুকাতে, অর্থাৎ চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে। ওপরের তিনটি কশেরুকায় স্পনডাইলোসিস খুব কম হয়, কারণ ওখানটায় খুব একটা চাপ পড়ে না। সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছন দিকে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে এবং বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে এবং আঙুলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, করোনারি হৃদরোগ বা এনজিনার ব্যথা বাহুর ভেতরের পাশে অনুভূত হয় এবং সচরাচর তা আঙুলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘাড়ের নড়াচড়ায় এই ব্যথা বাড়ে না। কিন্তু সার্ভাইকল স্পনডাইলোসিসের ক্ষেত্রে ঘাড় নড়াচড়া করলে ব্যথা বেড়ে যায়। এ ছাড়া হৃৎপিণ্ডের ব্যথা সাধারণত বাঁ দিকে অনুভূত হয়।

বর্তমানে জীবনধারার পরিবর্তনের ফলে কম বয়সেই মানুষ এই রোগের আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেজ্ঞরা মনে করেন, এই রোগের মূল কারণ হল ভুল অবস্থায় বসা যা মাংশপেশির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়াও শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাবও থাকার জন্য এই রোগ হতে পারে।

এক দশক আগের সমীক্ষার সাথে তুলনা করলে বোঝা যাবে বর্তমানে এই রোগের আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা তিন গুন বেড়ে গেছে। যেসব যুবসম্প্রদায়ের মানুষ যারা আইটি সেক্টর, বিপিও ধরণের কাজ করেন বা যারা অনেক সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকেন, তাদের মধ্যে এই রোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়। আনুমানিক ১০ জন ব্যক্তির মধ্যে প্রায় সাত জন ব্যক্তি ঘাড়, পিঠ বা অন্যান্য অঙ্গের ব্যথায় জর্জরিত।

স্পন্ডিলাইটিস কত প্রকার হতে পারে ?

★*★**সার্ভি‌কাল স্পন্ডিলাইটিস ( Cervical Spondylosis)★*★**

ঘাড়ের ব্যথা যা সার্ভি‌কালকে প্রভাবিত করে তাকে সার্ভি‌কাল স্পন্ডিলাইটিস বলা হয়ে থাকে। এই ব্যথা ঘাড় থেকে শুরু করে কাঁধে, কলার বনে এবং কাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হয় এবং দুর্বল মাংশপেশির কারণে নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়।

★*★**লাম্বার স্পন্ডিলাইটিস( Lumbar Spondylosis ) ★*★**

এই স্পন্ডিলাইটিসে কোমরের শিরদাঁড়ার নিচের অংশে থেকে ব্যথা হয়।

★*★**অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (Ankylosing Spondylitis) ★*★**

জয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় ব্যথা হয়।

একটু আলোচনা করা দরকার। কারণ এই রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কী?

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (AS) হল এক ধরনের প্রদাহজনক আর্থ্রাইটিস (Arthritis) যা প্রধানত মেরুদণ্ড এবং স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টকে (Sacroiliac Joints) প্রভাবিত করে। মেরুদণ্ড যেখানে শ্রোণির (Pelvis) সঙ্গে যুক্ত হয়, তাকে স্যাক্রোইলিয়াক(sacroiliac) জয়েন্ট বলে। ফলে পিঠের নিচে, নিতম্ব এবং শ্রোণীতে ব্যথাই এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ। এ থেকে চোখের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের দাবি, ভারতে বর্তমানে প্রায় ১.৬৫ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুসারে বছরে প্রায় ২.৯৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস এমন একটি অবস্থা যেখানে মেরুদণ্ডের হাড়গুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এ জন্য পিঠে ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু এটিকে সাধারণ পিঠে ব্যথা বলে ভুল করলে রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়ে যায়। রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। এক সময় দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা তৈরি হয়।

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের সঙ্গে শারীরিক প্রদাহের সম্পর্ক কী?

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস একধরণের প্রদাহ সৃষ্টিকারী রোগ (Inflammatory Disease)। মেরুদণ্ডের হাড়ের জোড়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ফলে AS হতে পারে। দীর্ঘদিন চলাফেরার অভ্যাস না থাকলে বা তেমন ভাবে শরীরচর্চা না হলে ব্যথা হয়। ধীরে ধীরে তাই মেরুদণ্ডের জয়েন্টগুলিতে রোগের বৃদ্ধি করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর একসঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জয়েন্টে প্রদাহ, হাড়ের ক্ষয়, বা হাড় ঘন হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়ের চাকতিগুলি লিগামেন্টের শরীরের টিস্যুতে ক্যালসিয়াম লবণ জমা হওয়ার জন্য (Calcification) একত্রিত হয়ে যেতে পারে। পরবর্তী কালে রোগীর ‘Bamboo Spine’ দেখা দিতে পারে। আর তার ফলে রোগী চলাচল শক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন।

সাধারণত স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণ

কাঁধ এবং ঘাড়ে ব্যথা হওয়া এবং তা শক্ত হয়ে যাওয়া।
যদি আপনার স্পাইনাল কর্ড চেপে যায় তবে ব্লাডার বা বোলের উপর নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটতে পারে।

এই রোগ হাতের আঙ্গুল থেকে শুরু করে মাথা অবধি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হাতের হাতের আঙ্গুল গুলি অবশ হয়ে যেতে পারে।

কাঁধ এবং কোমরের নিচের অংশ থেকে শুরু করে, পায়ের ওপরের অংশে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং ওই অংশ গুলি শক্ত হয়ে যায়।

কখনও কখনও বুকে ব্যথা হয় এবং মাংশপেশিতে সমস্যা দেখা দেয়।

স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথা ঘাড়, কাঁধ থেকে শুরু করে মাথা, হাতের নিচে অংশ এবং পিঠের ওপরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

★*★*★ কি কারণে এই রোগ হয় ★*★*★

খাদ্যের পুষ্টির অভাব, ক্যালসিয়াম, ভিটামিনের অভাব হওয়ার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে যেটা স্পন্ডিলাইটিস হবার অন্যতম কারণ।
ভুল পদ্ধতিতে দাঁড়িয়ে থাকালে বা বসলে আপনি স্পন্ডিলাইটিস সমস্যার শিকার হতে পারেন।
বয়স বাড়াও স্পন্ডিলাইটিস একটি কারণ।

মহিলাদের মধ্যে অনিয়মিত ঋতুস্রাবও স্পন্ডিলাইটিস হওয়ার একটি কারণ।

বয়স বাড়ার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে যা স্পন্ডিলাইটিস একটি কারণ।

অলসতার সাথে জীবন কাটালে বা ভুল খাদ্যাভাসে আমাদের ভবিষ্যতে স্পন্ডিলাইটিস সমস্যা হতে পারে।

এই বিষয়ে কিছু আলোচনা দরকার ঃ-

১). দীর্ঘসময় বসে ঝুকে কাজ করা। বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনে স্পন্ডালাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। নিউ ইয়র্কের ব্রোনক্সে ( Bronx, NewYork) অবস্থিত মন্টেফিয়োর হেলথ সিস্টেমের অর্থোপেডিকসের অ্যাটেন্ডিং ফিজিশিয়ান জোনাথান লি ( Dr.Jonathan Lee,MD) বলেন, ‘হাড় হলো জীবন্ত কলা (লিভিং টিস্যু), যা ভারের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়। হাঁটাচলা, ভারোত্তোলন ব্যায়াম ও টেনিসের মতো খেলা খেলে হাড়ের ওপর ভার প্রয়োগ করা যায়, যা হাড় গঠনকারী কোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করবে। আপনি হাড়কে যত বেশি ব্যবহার করবেন, তত বেশি খাপ খাওয়াতে পারবে ও মজবুত হবে। অন্যদিকে হাড়কে ব্যবহার না করলে হাড়ের ক্ষয় হতে থাকে। ডা. লি বলেন, স্পন্ডালাইটিস সহ হাড়ের রোগ প্রতিরোধের একটি উত্তম উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা।’

২).উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার বা মাংস-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস হাড়ের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। যারা প্রচুর মাংস খান তাদেরও হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রোটিন খেলে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিন্তু কিভাবে ?

এ প্রসঙ্গে ডা. লি বলেন, ‘উচ্চ প্রোটিনের খাবার খেলে কিডনিগুলো শরীর থেকে বেশি করে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়।
কিন্তু ক্যালসিয়াম হাড় গঠনের অন্যতম প্রধান উপকরণ বলে এটি কমে গেলে হাড়ের খনিজ ঘনত্বও কমে যায়।

৩). লবণাক্ত খাবার: হাড় ক্ষয়ের আরেকটি ফ্যাক্টর হলো লবণের আসক্তি। ডা. লি বলেন, ‘উচ্চ লবণ গ্রহণে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। যেহেতু কিডনিগুলো শরীর থেকে লবণ বের করে দিতে কাজ করে, তাই রক্তপ্রবাহ থেকে ক্যালসিয়ামও দূর হয়ে যায়।’ দ্য এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভায় উপস্থাপিত জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চল্লিশোর্ধ্ব যেসব নারী উচ্চ পরিমাণে লবণ খেতেন তাদের মধ্যে ফ্র্যাকচারের হার লবণে অনাসক্ত নারীদের তুলনায় চারগুণ বেশি। তাই শেষ বয়সে হাড়ের সমস্যায় জর্জরিত হতে না চাইলে কতটুকু লবণ খাচ্ছেন খেয়ালে রাখুন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

৪) শরীরে ক্যালসিয়ামের কাজে সহায়তার জন্য ভিটামিন ডি এরও প্রয়োজন রয়েছে। ডা. লি বলেন, ‘শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ ও ব্যবহার সফল করতে ভিটামিন ডি লাগে। ক্যালসিয়াম ব্যতীত মজবুত হাড়ের কথা কল্পনাও করা যায় না, কারণ এটা হলো হাড় গঠনের অন্যতম প্রধান উপকরণ।’ যারা প্রায়সময় ঘরের ভিতর কাজ করেন বা ACতে বেশিক্ষণ থাকেন তাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হয়। শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না পেলে ক্যালসিয়াম থেকেও বঞ্চিত হয়, যার প্রভাব পড়ে হাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের মতে, ৫০ এর কম বয়সি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৪০০-৮০০ আইইউ(IU) ভিটামিন ডি প্রয়োজন। বয়স ৫০ পার হলে প্রয়োজন বেড়ে ৮০০-১,০০০ আইইউ হয়। কিছু সময় রোদে কাটিয়ে শরীরকে ভিটামিন ডি তৈরির সুযোগ দিতে পারেন। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারও খেতে পারেন।

৫).ওয়াইনের আসক্তি: ইউনিভার্সিটি অব অরিগনের একটি গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ওয়াইন বা অ্যালকোহল পানে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডা. লি বলেন, ‘ওয়াইন বা অ্যালকোহল পান করলে জিআই ট্র্যাক্টের পক্ষে ক্যালসিয়াম শোষণ করা কঠিন হয়ে যায়। এ ধরনের পানীয় প্যানক্রিয়াস ও লিভারকেও প্রভাবিত করে, যা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর ওপর প্রভাব ফেলে। অ্যালকোহল শরীরের বিভিন্ন হরমোনকেও প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, Cartilage মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যেতে পারে।’ তিনি আরো জানান, পুরুষ বা নারীরা উচ্চ পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এতে নারীদের স্বাভাবিক শ্রীবৃদ্ধি হয় না এবং অনান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালকোহল, হাড় গঠনকারী কোষ অস্টিওব্লাস্টে (Osteoblasts) র জন্য বিষাক্ত( অস্টিওব্লাস্ট হচ্ছে শাখা-প্রশাখাযুক্ত, অনেকটা মাকড়সার মতো দেখতে অস্থিকোষই হলো অস্টিওব্লাস্ট )।

বা কোমল পানীয়: গবেষণায় দেখা গেছে- সোডা বা কোমল পানীয় হাড়ের ঘনত্ব কমিয়েছে, কিন্তু এর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, যেসব পুরুষ বা নারী নিয়মিত (প্রতিদিন তিন থেকে চার বার) কোলা সোডা পান করেছেন তাদের নিতম্বে হাড়ের ঘনত্ব কম ছিল। গবেষণাটি দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়। এই গবেষণার গবেষকদের তত্ত্ব হলো, কোমল পানীয়ের ক্যাফেইন বা ফসফরিক অ্যাসিড হাড় থেকে ক্যালসিয়াম টেনে নিতে পারে।

★*★*★ স্পন্ডালাইটিস রোগের কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★*★*★

আলোচনা শুরুতে বলে রাখা ভালো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা য় কোন রোগ ধরে চিকিৎসা হয় না, রোগের উপসর্গ মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করতে হয়।
তাও সংক্ষিপ্ত করে কিছু ঔষধ নিয়ে আলোচনা করছি ঃ-

★*★*★সার্ভিকাল স্পন্ডালাইটিসে (Cervical spondylosis)র ঔষধ সমূহ★*★*★ ঃ-

১).ACTAEA RACEMOSA 200

এই ঔষধ মহিলাদের সার্ভিকাল স্পন্ডালাইটিস রোগের ভালো কাজ করে। যেমন ঘাড়ে, কাঁধে পিঠে পাঁজরে ( intercostal) সহ পায়ের ডিমে ( belly of the muscle) ব্যথা। উল্লেখ করা যেতে পারে এই রোগিণী দের জরায়ু রোগ থাকে।

২) KALMIA LAT 200

যে ঘাড়ের ব্যথা ঘাড়ে শুরু হয়ে হাতে আসে এবং সাথে অসাড়তা ( Numbness) থাকে। ব্যথা প্রকৃতি খোঁচামারা, তীরবেধাঁ বা চেপে ধরার মতো, ডানের তুলনায় বাঁ দিকের ব্যথায় ভালো কাজ করে।

৩) ACID PHOS 200

এই ঔষধটি Blood sugar বা Nervous debility ( স্নায়বিক দুর্বলতা) রোগীদের ভালো কাজ করে।

যে সকল রোগী ভারটিব্রাল অস্থিতে ক্ষত ( Caries of the vertebrae) এবং মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যাচ্ছে ( Curvature of the spine) সহ ব্যথা, সেই ব্যথা কখনো মনে হয় ছুরি দিয়ে কেটে ফেলবার মতো। সাধারণত রাতে বেদনা বৃদ্ধি পায়।

৪). HYPERICUM 200

যখন রোগীর দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে পরস্পরের ঘষা লেগে যে ব্যথার সৃষ্টি হয় তাতে খুব ভালো কাজ করে। এবং যদি কোন স্নায়ুতে ( Nerve) চাপ লেগে বেদনা হয় তাতেও ভালো কাজ করে।

৫),RHUS TOX 200

প্রাথমিক অবস্থায় এই ঔষধ ভালো কাজ করে। লক্ষন রোগীর ঘাড়ে ব্যথা, মনে হয় শক্ত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু নাড়াচাড়া করলে আরাম পায়, সেই ক্ষেত্রে এই ঔষধ বিশেষ উপকারী।

৬), BRYONIA ALB 200

এই ঔষধটি ঘাড়ের ব্যথায় ভালো কাজ করে। এই ঔষধটি বিশেষ লক্ষ্মণ রোগীর ঘাড়ে, স্কন্ধে বা পিঠে ব্যথা, এই ব্যথা নাড়াচাড়া করলে বাড়ে। এবং গা বমিবমি, গা ঝিমঝিম সহ মাথা ঘোরে, আর একটি বিশেষ লক্ষ্মণ ব্যথা টি ছুঁচ ফোটানো মতো।

৭) GELSIMIUM 1M

এই ঔষধটি পুরনো সার্ভিকাল স্পন্ডালাইটিসে ভালো কাজ করে।

কশেরুকা মজ্জায় পক্ষাঘাত। তার জন্য রোগী ঠিক মতো শরীর কে মতো সঞ্চলন করতে পারে না।

সব সময় ঘুম ঘুম ভাব, সমস্ত শরীরে স্নায়ুবীয় ব্যথা। এবং আরেকটি বিশেষ লক্ষ্মণ রোগী জিহ্বা সহ শরীরের অনান্য স্থানে কম্পন হয়।

৮), PARIS QUAD 200

এটিও স্পন্ডালাইটিসের ভালো ঔষধ।

এই ঔষধের বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

ঘাড়ের নিচে থেকে ব্যথা আরম্ভ হয়ে মাথার উপরে যায়,রোগী মনে করে যে তার মাথাটি খুব ফুলিয়াছে। এ ছাড়াও NO.6 সার্ভাইকাল -ভাটিব্রার চতুর্দিকে বেদনা।

৯),LACNANTHES T 200

ঘাড়ের বাতে ব্যবহারিত ঔষধ গুলো মধ্যে অন্যতম।

এই ঔষধের লক্ষ্মণ ঃ-

পিঠে ও ঘাড়ে অত্যন্ত বেদনাসহ ঘাড়ের আড়ষ্টতা, মাথা ও ঘাড় যেন কেহ চেপে খেচিঁয়া রেখেছে। রোগী মনে করে ঘাড় বুঝি ভেঙে গিয়েছে। ( Troticollis,Neck stiff,Head drawn to one side,pain in the neck as if dislocated when turning the neck or bending the head.)

১০),STICTA PUL 200

এই ঔষধের লক্ষ্মণ ঃ-

ঘাড় শক্ত আড়ষ্ট হয়ে থাকে ডান দিকের স্কন্ধ -সন্ধির ( RIGHT SHOULDER JOINT) পেশী,কাঁধের পেশী ( Deltoid), হাতের পেশী ( Biceps) ও গাঁটের কাছের পেশী ( Muscle) ফোলে,গরম ও লালবর্ণ দেখায়।

১১),ANACARDIUM ORIENT 200

এই ঔষধের লক্ষ্মণ ঃ-

ঘাড় সাঁটিয়ে ( STIFFNECK) ধরা মতো একপ্রকার ব্যথা ঘাড়ে হয়, ঘাড় একটু নাড়িলে ব্যথা বাড়ে, রোগী মনে করে ঘাড় চারিদিকে দড়ি দিয়ে বাঁধা ( Sensation of a band around the neck) পিঠের ভিতরে যেন গুঁজি ( Plug) দেওয়া আছে।

এ ছাড়া আরও অনেক হোমিওপ্যাথি ঔষধ আছে যা সার্ভিকাল স্পন্ডালাইটিসে কাজ করে।

★*★*★ লাম্বার স্পন্ডালাইটিস (lumbar spondylosis) রোগের কিছু কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নিয়ে আলোচনা করছি। ★*★*★

1).VISCUM ALB. 30

লাম্বার স্পন্ডালাইটিসে খুবই কর্যকরি ঔষধ।

সায়োটিকা স্নায়ু ( Nerve) সহ অনান্য স্নায়ু ভাঙা ডিস্কে চাপ পড়ে ব্যথা শুরু হয়,সেই ডান বা দিকে হতে পারে।

সেক্ষেত্রে এই ঔষধ বিশেষ কর্যকরি।

২).HYPERICUM 200

কোমরে ব্যথা ভালো ঔষধ।

স্পন্ডালাইটিস রোগীর যদি কোমরে দুই কশেরুকা( Verebrae) মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে পরস্পরের ঘষা লেগে যে তীব্র ব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে এই ঔষধ বিশেষ উপকারী।

৩), RUTA G 200

লাম্বার স্পন্ডালাইটিস রোগের ভালো ঔষধ।

তবে এই ঔষধে বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ- রোগী বেশিক্ষন শুয়ে থাকতে পারে না। কোমরে বেশি চাপ পরলে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। যদি কোন আঘাতের ইতিহাস বা কোন করনে হার বা পেরি-অষ্টিয়মে থেঁতলানো ব্যথায় ( Bruises)। এই ঔষধ বিশেষ কর্যকরি।

৪),BERBERIS VUL 200

এই ঔষধের বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

কোমরে ও পাছায় ব্যথা ( Pain in loins and hips)

পিঠ থেকে ইলিয়াক্-অস্থি ( iliac bone) পর্যন্ত ব্যথা,যেন ছিঁড়ে ফেলবার মতো ব্যথা, এই রোগীর প্রস্রাবে pus cells'র পরিমাণ বেশি থাকে ।

তবে এক কথায় যে ব্যথা কোমরে আরম্ভ হয়ে, কোমর থেকে উরুদেশ ( Hop-joint ) নামে, সে ক্ষেত্রে এই ঔষধ বিশেষ কর্যকরি।

৫), BRYONIA ALB 200

লাম্বার স্পন্ডালাইটিস রোগের এই ঔষধ বিশেষ ভূমিকা রেখে।

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

কোমরে এমন ব্যথা রোগী নাড়াচাড়া করতে পারে না। এবং ব্যথা ছুঁচ ফোটানোর মতো, যদি স্থির হয়ে থাকে তা'হলে ব্যথা কম, কিন্তু কোমর নাড়ালে ব্যথা। আক্রান্ত স্থান গরম হয় আবার গরম সেঁক দিলে ব্যথায় আরাম বোধ হয়।

৬), RHUS TOX 200

লাম্বার স্পন্ডালাইটিস রোগের এই ঔষধ বিশেষ ভূমিকা রেখে।

এই ঔষধটি বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-
রোগী স্থির হয়ে বসে বা শুইয়ে থাকে প্রথমে ব্যথা করে কিন্তু একটু চলাফেরা করলে আস্তে আস্তে ব্যথা কমে যায়।

বা কোন ভারি জিনিস তুলতে নিয়ে কোমরে টান লাগলে এই ঔষধ বিশেষ কাজ করে।

৭), COLOCYNTH 30

লাম্বার স্পন্ডালাইটিস রোগের এই ঔষধ বিশেষ ভূমিকা রেখে।

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

কোমরে ব্যথা ও কোমর অসাড় নড়িলে চড়িলেই যন্ত্রণা বাড়ে, বাঁদিকে সায়েটিক-নার্ভ ( পাছা ও উরুপশ্চাতের একটি মোটা স্নায়ু) ব্যথা আরম্ভ হয়ে পায়ের গোড়ালি অবধি যায়।

এমনকি রোগীকে চলতে চলতে দাঁড়াতে হয় কোমরে খিলধরে( Crampy pains) ধরে যায়, মনে হয় কেউ সাঁড়াশি ( Vice) দিয়ে চেপে রেখেছে।

জোরে চেপে ধরলে বা গরম সেঁক দিলে আরাম বোধ হয়।

৮), AESCULUS HIP 200

বাহু পা ও মেরুদণ্ডে আংশিক পক্ষাঘাতের ভাব ( Paralytic feeling in arms,legs & spine)

কোমরে এবং সেক্রম ও ইলিয়াক অস্থির উচ্চ সন্ধি স্থানে ( Sacrolleac symphysis) বেদনা, একটু চলিয়া বেড়ালে কোমর যেন আর নাড়া যায় না

এই সাথে রোগীর Non bleeding pilse থাকলে আরও বেশি কার্যকরী।

৯), FERRUM MET 200

এই ঔষধটি লাম্বার স্পন্ডালাইটিস রোগের কাজ করে।

এই ঔষধের রোগীর কোমরে ব্যথা রাতে বৃদ্ধি পায়, শুইয়া থাকিলে আরও বৃদ্ধি কিন্তু ধীরে ধীরে চলা ফিরা করলে বেদনার কিছুতা উপশম।

কখনও ঘাড়ে ও পিঠে ফিক্-বেদনা।

এই রোগী দেখতে বেশ গোলগাল কিন্তু রক্তহীনতায় ভোগে, অল্প পরিশ্রম করলে ক্লান্ত হয়ে যায়।

১০), NUX VOM 200

এই ঔষধটি কোমরে ব্যথায় ভালো কাজ করে।

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

১). কোমরে ব্যথা ( Located in lumbar region) "রাত্রে বিশেষতঃ শুইলে বৃদ্ধি। না বসে পাশ ফিরতে পারে না "

২) আরও একটি বিশেষ লক্ষ্মণে এই ঔষধ ব্যবহার হয়।

লক্ষ্মণ ঃ-
মেরুদণ্ডের উত্তেজনা ও কোমরে ব্যথা (Backache and spinal irritation)

সকালে হঠাৎ করে পদদ্বয়ের শক্তিহীনতা, হাত পা যেন শক্ত হয় ও টেনে থাকে ( Stiff and tense), পেটে ও বুকে যেন সেঁটে থাকার ভাব ( Tightness in waist and abdomen),

পা, হাত বা মেরুদণ্ডে যেন পোকার ন্যায় কি বেড়াইতেছে ও সড়সড় করার মতো অনুভব হয়।

আরেকটি বিশেষ লক্ষ্মণ কশেরুকা ( Vertebrae) কোন অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে রোগী চমকাইয়া উঠে।

এছাড়াও আরো অনেক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আছে
লাম্বার স্পন্ডালাইটিস রোগের চিকিৎসা জন্য ব্যবহারিত হয়।

★*★*★ অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিস ( Ankylosing spondylitis) রোগের কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সমূহ ★*★*★

১) MEDORRIHINUM 200

★কোন বিশেষ লক্ষ্মণ নয়★

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিস রোগের নাম শুনতেই এই ঔষধ ব্যবহার করবেন।

২) AESCULUS HIP 200

এই ঔষধের বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

কোমরে এবং ইলিয়াক্ অস্থির উচ্চ সন্ধি স্থানে ( Sacroiliac symphyses) বেদনা এবং সামান্য নড়িলে চড়িলে, হাঁটিলে, মাথা নিচু করলে অথবা বসা থেকে উঠিলেই বেদনা বৃদ্ধি ( Soreness and aching in back always made worse from motion --- especially by walking,stooping,or rising from sitting) ও সেই সঙ্গে অবসন্নতা ( Painful weariness) ; এই বেদনা সাথে অবসন্ন ভাব সামান্য পরিশ্রমেই বৃদ্ধি পায় ও বিশ্রামে কমে যায়। ( aggravation from exercise and amelioration or better from rest);
অথবা একটু চলিয়া বেড়ালে কোমর যেন আর নাড়া যায় না, আর সেই সঙ্গে চলা ফেরা কষ্টদায়ক হয়ে পরে।

3),GUARIA T 30

এই ঔষধটি অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিস রোগের খুব ভালো ঔষধ।

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

মেরুদণ্ড শক্ত, কোমরে টেনে খেঁচে রাখে এবং সেক্রামে ব্যথা।

৪),XEROPHYLLUM 30

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

পাছার হাড় থেকে পিঠের স্ক্যাপুলা পযর্ন্ত ব্যথা, কখনো কোমর থেকে পায়ের নীচে অবধি নামে। এমনকি হাঁটুতে ব্যথা হয়। পত্যঙ্গ শক্ত হয়ে গিয়েছে বলে রোগী মনে করে।

৫).REDIUM BROB 200

কম্পিউটারের (Computer) সামনে সামনে বসে যাঁরা দীর্ঘ সময় কাজ করেন, তার জন্য শরীরের ভোল্টেজ( voltage)
বৃদ্ধি পায়, তাদের অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিস রোগের ভালো ঔষধ।

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

পিঠে, ঘাড়ে কামড়ানি ব্যথা।
মাথা নিচু করে কাজ করলে ব্যথা বাড়ে। সোজা হয়ে বসিলে বা দাঁড়ালে ব্যথা কম হয়।

৬), TELLURIUM 200

এই ঔষধটি Ankylosing spondylitis রোগের খুবই কর্যকরি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।

বিশেষ লক্ষ্মণ ঃ-

মেরুদণ্ডের বেদনা ( Tenderness of the Spine )

সার্ভিকাল ভার্টিব্রা থেকে ডর্সাল ভার্টিব্রা পয্যন্ত ( বিশেষ করে লাম্বার No.1,2,5,6 এবং সাক্রাল No.1) ভয়ানক টাটানি ও বেদনা সেই সঙ্গে irritation which goes upwards, outwards, forwards ---।

৭),CALCAREA CARB 200

এই ঔষধটি ভালো কাজ করে।

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিসের জন্য মেরুদণ্ডের বক্রতায় বিশেষতঃ
ডর্সাল স্থানে হলে ( Spinal curvature especially in the region of the dorsal vertebrae)

৮),CALCAREA HYPO 200

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিস রোগের পুরাতন অবস্থায় কাজ করে।

যখন রোগীর দিন দিন শীর্ণ ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে অথাৎ রোগীর অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস ( Avascular necrosis) হয়ে পারে তখন এই ঔষধ ব্যবহার করা যায়

অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস হলো ঃ- রক্ত সরবরাহের অভাবে হাড়ের টিসুগুলির মৃত্যু।

৯),ZINCUM MET 200

যখন রোগীর ঘাড় থেকে মেরুদণ্ডে তীব্র ব্যথা, পিঠ স্পর্শ করতে দেয় না। রোগী স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জন্য একবার হাত,একবার পা নাড়ায়।

যদি কোন রোগীর চর্মরোগের ইতিহাস থাকে। সেক্ষেত্রে এই ঔষধ বিশেষ কর্যকরি।

১০), PHYSOSTIGMA 200

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডালাইটিস রোগের চরম অবস্থায় ব্যবহার করা হয়।

স্পাইন্যাল-ইরিটেশন ( Spinal irritation) ----

লক্ষ্মণ ঃ-

পিঠে, দুই কাঁধের মধ্যস্থলে,ঘাড়ে ও কোমরে বেদনা হয়। এই বেদনা নড়াচড়া করলেই বাড়ে,মেরুদন্ডে চাপ দিলে ঘায়ের মতো বেদনা বোধ হয়। গরম ফোমেন্টেশনেও বাড়ে, কখনো কখনো মেরুদন্ডের হাড়ের খুব ভিতর দিকে ব্যথা হয়।

এই ব্যথা উঠতে, বসতে, চলতে, লিখতে কস্ট হয়। অথাৎ নিউরোলজিক্যাল বেদনা ( neurological pain) হয়।

স্পাইনাল - কর্ডের প্রতিটি স্নায়ুর ইরিটেশন হয়।

মস্তিষ্কের ঝিল্লী ইরিটেশনের জন্য পেশী সমূহ শক্ত হয়ে আসে, এছাড়াও মেরুদণ্ডে জ্বালা, ঝিনঝিনে ধরা, হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অসাড় হওয়া,হাতে, খিল ধরা।

ঘুমের মধ্যে হাত-পা হেঁচকা টানে মতো হয়ে নড়ে উঠে।

এই ঔষধের লক্ষ্মণ গুলো মধ্যে আপনার একাধিক লক্ষ্মণের সাদৃশ্য পেলে এই ঔষধ প্রযোজ্য।

★*★**এছাড়াও আরো অনেক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আছে যা লক্ষ্মণ অনুযায়ী ব্যবহার হয়ে থাকে।★*★**

★*★*★ মনে রাখতে হবে যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কোন রোগের নাম ধরে চিকিৎসা হয় করা হয় না, রোগীর লক্ষ্মণ বা উপসর্গ মিলিয়ে চিকিৎসা হয়, এখানে রোগের থেকে রোগীর উপসর্গ বেশী গুরুত্ব । অথাৎ সদৃশ সদৃশকে আরোগ্য করে"( similia similibus curentur)।★*★*★

★*★*★ অভিজ্ঞতা ভিত্তিক পরামর্শ ★*★*★

স্পন্ডালাইটিস ( Spondylitis) : সে সার্ভিকাল স্পন্ডালাইটিস বা লাম্বার স্পন্ডালাইটিস অথবা অ্যানকোলোজিং স্পন্ডালাইটিস যাইহোক।

নিচের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করলে উপকার পাবেন।

১). বেদনা রাতে বৃদ্ধি পেলে

MEDORRIHINUM 1M

মাসে একবার খালি পেটে খেতে হবে।

২) দিনে ব্যথা বেশি হয় তবে

SYPHILINUM 1M

মাসে একবার খালি পেটে খেতে হবে।

৩), যদি দেখা যায় দিন বা রাত বেদনার প্রকৃতি একই রকম, তাহলে -

THUJA OC 1M

মাসে এক বার খালি পেটে খেতে হবে।

৪)
1. CALCAREA PHOSPH 12X

2. CALCAREA FLUOR 12X

3.MAG.PHOSPH 12X

4. SILICEA 12X

প্রত্যেকটি বায়োকেমিক ঔষধ থেকে ছয়টি করে গুলি বা বড়ি একসাথে খেতে হবে ( ৬×৪=২৪টি গুলি প্রতিবারে, দিনে তিন বার গরম জলের সাথে খেতে হবে।

৫) উপরে বিভিন্ন ঔষধের লক্ষ্মণ নিয়ে আলোচনা আছে, তা থেকে আপনার রোগের লক্ষ্মণ মিলিয়ে একটি ঔষধ নির্বাচন করে দিনে দুই বা তিন বার খেতে হবে।

৬) আপনার আক্রান্ত স্থানে একবার ঠান্ডা, একবার গরম সেঁক দিতে হবে( সন্ধক লবণের পুঁটলি বানিয়ে সেঁক দিলে ভালো) একসাথে টানা আধ ঘন্টা দিতে হবে।

অথবা

টানা আধা ঘণ্টা একসাথে একবার গরমজলে একবার ঠান্ডা জলে স্নান করতে হবে।

★*★(মনে রাখবেন কখনো মাথায় গরম জল দিবেন না)★*★

৭) উপরের আলোচনায় খাদ্যাভাস নিয়ে আলোচনা আছে, তা মেনে চলতে হবে

৮) অন্তত আধ ঘন্টা রোদে থাকতে হবে।

৯) গম ( আটা) খাওয়া বন্ধ করে millets জাতীয় খাবার খেতে হবে।

১০), খালি পায়ে ঘাস বা মাটির উপর হাঁটলে খুব ভালো হয়। (না থেমে এক টানা তিন কিলোমিটার হাঁটতে পারলে আরও ভালো।)

★*বিশেষ কথা জেনে রাখা ভালো। ★* ঃ- শরীর কে রোগ মুক্ত করতে প্রতিদিন আহারে ৫০% খাবার ফল এবং স্যালাট খান অথাৎ কাঁচা পাকা ফল কাঁচা সব্জি খান এতে শরীরে পটাসিয়াম ও সোডিয়াম পরিমাণের সমতা বজায় রাখে। পটাসিয়াম ও সোডিয়াম ১ঃ১ থাকলে কোন রোগ আক্রান্তের হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে । হলেও autophagy মাধ্যমে শরীর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়।

****সুব্রত সেনগুপ্ত**** হোমিওপ্যাথিক প্রাক্টিশনার রবীন্দ্র নগর শিলিগুড়ি। 9064849362 ।

Address

Siliguri
734001

Telephone

+919064849362

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SEN GUPTA Homoeo clinic posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram