Dr. Mashiur Rahman

Dr. Mashiur Rahman Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Mashiur Rahman, Singapore.

নামের পাশে ডক্টরেটের দীক্ষার টাস্কি খাইয়েন না ভাইজান! ঢাকাইয়া পোলা আমি—কি করমু বলেন? সবখানে রস খুইজা লই, দুঃখের গহ্বরেও মজা খুঁজতে পারি। দুঃখে গা ভিজাইলেও আনন্দে টইটুম্বুর হইয়া দিন-রাত্রি পার কইতাছি। নামের পাশে ডক্টরেটের দীক্ষার টাস্কি খাইয়েন না ভাইজান! গবেষণার নামে এমন যন্ত্রপাতি ভাঙা শুরু করছিলাম যে ল্যাবের গরিব মাইক্রোস্কোপগুলোও আমারে দেইখা কাঁদত। প্রফেসর সাহেব শেষমেশ হাতজোড় কইরা কইলেন, “ব

াপু, তোরে ডিগ্রি দিয়া বাইর কইরা দিলেই বাঁচি!”—এই ডিগ্রি তাই আসলেই ল্যাবের গায়ে বাঁচার লাইসেন্স।

তারপর হইল কাহিনি শুরু—এই দেশ ওই দেশ কইরা একেবারে গরুর গাড়ির ঘণ্টার মতন ঝনঝনাইয়া ঘুইরা বেড়াচ্ছি। কখনো ওথানে, কখনো তথানে, যেন বেদুইনেরও চাকরি নিয়া ফেলছি। কোনখানে যে ঠিকানা করি—সে প্রশ্নে এখনও সিলমোহর নাই।

জন্মগত আতলামি, এইডা বাদ দেই কেমনে? যেখানে যাই, খানিকটা ‘আতলা রঙ’ দিয়া আসতে হয়। জায়গা পাই নাই—শেষমেশ ফেসবুকেই ঘাঁটি বানাইলাম, ভাবলাম অন্তত আপনাগো মাথা ধরার লাইসেন্সটা তো ফ্রি।

তাই যদি নিয়মিত মাথা ধরাইতে চান, সাবস্ক্রাইব কইরা রাখেন। ইনবক্সে হাজির হইবো—কখনো দিবসের দুপুরে, কখনো রাতের শেষ প্রহরে—যেন একখানা ডিজিটাল গুনগুনানি। কখনোওবা “বৈঠকী কিসসা” লইয়া হাজির।

ঢাকাইয়া পোলা আমি—কি করমু বলেন? সবখানে রস খুইজা লই, দুঃখের গহ্বরেও মজা খুঁজতে পারি। দুঃখে গা ভিজাইলেও আনন্দে টইটুম্বুর হইয়া দিন-রাত্রি পার কইতাছি।

সবাই ভালো থাইকেন। বড় ভাইদের কদমবুছি, ছোটদের মাথায় আদর—এই ঢাকাইয়া পোলার তরফ থেইক্কা আপনেরে দিলাম । 😏

01/04/2026

স্বপ্নের জ্বালানি
--- Dr. Mashiur Rahman ---

আবির সাহেব একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম না বললেও চলে, কারণ এই ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশে অনেক আছে — যেখানে সকাল নয়টায় ঢুকতে হয়, বিকেল পাঁচটায় বের হওয়া যায় না, এবং মাস শেষে বেতন পেলে মনে হয় কেউ একজন রসিকতা করেছে।

আবির সাহেবের বয়স বত্রিশ। চেহারা মোটামুটি। মাথায় চুল আছে, তবে সংখ্যায় কমছে — ঠিক যেভাবে দেশে তেলের মজুদ কমছে। এই দুটো বিষয় নিয়ে তিনি সমান চিন্তিত।

তেলের সমস্যা এখন প্রকট। পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন। সিএনজি পাওয়া যায় না। রিকশাওয়ালারাও ভাড়া বাড়িয়েছেন, যদিও রিকশায় তেল লাগে না — এটা একটা আলাদা রহস্য।

অফিস থেকে ফিরে আবির সাহেব সেদিন রাতে ভাত খেলেন। তরকারিতে তেল কম ছিল। তেল কম থাকলে তরকারির স্বাদ কমে, এটা বৈজ্ঞানিক সত্য। বৈজ্ঞানিক সত্য মেনে নিয়ে তিনি শুয়ে পড়লেন।

ঘুম এলো দ্রুত।

---

স্বপ্নে আবির সাহেব দেখলেন, তিনি একটি গবেষণাগারে বসে আছেন। গবেষণাগারটি দেখতে অনেকটা তাঁর বাড়ির রান্নাঘরের মতো, তবে সেখানে বিভিন্ন রকম যন্ত্রপাতি আছে। যন্ত্রপাতিগুলো দেখতে অনেকটা মিক্সার গ্রাইন্ডারের মতো, কিন্তু গায়ে ইংরেজিতে নানা কথা লেখা।

তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি একজন বিজ্ঞানী।

এই উপলব্ধিটা তাঁর ভালো লাগল। জীবনে কখনো বিজ্ঞানী হওয়ার সুযোগ হয়নি — স্কুলে বিজ্ঞানে নম্বর কম পেয়েছিলেন, কলেজে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় একবার হলের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বপ্নে এইসব বাধা থাকে না। স্বপ্ন একটি গণতান্ত্রিক জায়গা।

আবির সাহেব তাঁর যন্ত্রের দিকে তাকালেন। যন্ত্রটির নাম তিনি নিজেই রেখেছেন — **"অ্যাকোয়া-ফুয়েল কনভার্টার মডেল এক্স"**। যদিও নামটা ঠিক বাংলা হলো না, কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষা আন্তর্জাতিক হওয়াই ভালো।

যন্ত্রটির মূল রহস্য হলো — চলন বিলের জল।

চলন বিল। বাংলাদেশের বুকে এক বিশাল জলরাশি। সেখানে এক বিশেষ ধরনের সবুজ প্ল্যাঙ্কটন আছে, শৈবাল আছে — যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আবির সাহেব স্বপ্নেই বুঝে ফেললেন যে এই শৈবালের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ রাসায়নিক শক্তি। তাঁর যন্ত্র সেই শক্তিকে রূপান্তরিত করতে পারে বিশুদ্ধ জ্বালানিতে।

কীভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর স্বপ্নে জানার দরকার হয় না। স্বপ্নে শুধু জানতে হয় যে, *হয়*।

---

খবর ছড়িয়ে পড়তে দেরি হলো না।

পরদিন সকালে অফিসে গিয়ে আবির সাহেব তাঁর কলিগ রফিক সাহেবকে বললেন, "রফিক ভাই, আমি একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছি।"

রফিক সাহেব চা খাচ্ছিলেন। চুমুক দিতে দিতে বললেন, "কী যন্ত্র?"

"চলন বিলের জল দিয়ে জ্বালানি বানানোর যন্ত্র।"

রফিক সাহেব আরেকটি চুমুক দিলেন। "কাল রাতে কী খেয়েছিলেন?"

"ভাত। তরকারিতে তেল কম ছিল।"

"সেটাই সমস্যা।"

কিন্তু আবির সাহেব দমলেন না। তিনি জানেন, মহান আবিষ্কারকদের প্রথমে কেউ বিশ্বাস করে না। গ্যালিলিওকেও বিশ্বাস করেনি। নিউটনের আপেলের গল্পও অনেকে মনে করেছিল বানোয়াট। আবির সাহেবের তরকারির তেলের গল্পও হয়তো একদিন ইতিহাসে লেখা হবে।

---

স্বপ্নের পরের অংশে আবির সাহেব দেখলেন, তাঁর আবিষ্কারের খবর পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। শিরোনাম —

"চলন বিলের শৈবালে জ্বালানি বিপ্লব: আবিষ্কারক আবির সাহেব বললেন, এটা স্বপ্নেই মাথায় এসেছিল"

খবরটা ভাইরাল হলো। টেলিভিশনে লাইভ শো হলো। উপস্থাপিকা লাল শাড়ি পরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আবির সাহেব, আপনার এই মুহূর্তে কেমন লাগছে?"

আবির সাহেব ভাবলেন, এই প্রশ্নটা কেন সবাই করেন বোঝা যায় না। তিনি বললেন, "ভালো লাগছে।"

"আপনি কি জানতেন যে আপনি এত বড় বিজ্ঞানী?"

"না।"

"কোনো বার্তা দিতে চান?"

আবির সাহেব একটু ভেবে বললেন, "তরকারিতে তেল কম দেবেন না।"

সারা দেশ হাততালি দিল।

---

এরপর এলো বিদেশিরা।

প্রথমে এলো জাপানিরা। তারা ছোটখাটো, হাসিখুশি, এবং সবকিছু ফটো তোলে। তারা যন্ত্রটার চারদিকে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলল, মাথা নাড়ল, এবং বলল, "সুগোই!" — যার অর্থ "অসাধারণ!"

তারপর এলো জার্মানরা। গম্ভীর মুখ, পুরু চশমা। তারা যন্ত্রটার ব্লুপ্রিন্ট চাইল। আবির সাহেব বললেন, "ব্লুপ্রিন্ট এখনো তৈরি হয়নি।" জার্মানরা বলল, "এটা অ্যানএক্সেপ্টেবল।" তারপরও থেকে গেল।

এলো আমেরিকানরা। তারা সঙ্গে আনল আইনজীবী। জিজ্ঞেস করল, "পেটেন্ট করা আছে?" আবির সাহেব বললেন, "না।" আমেরিকানরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করল।

এলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা। তারা একটু বিমর্ষ দেখাচ্ছিল — স্বাভাবিক, কারণ তেলের বিকল্প আবিষ্কার হলে তাদের ব্যবসায় টান পড়বে। তবু এলো, কারণ না এলেও সমস্যা।

সবশেষে এলো পাশের বাড়ির করিম সাহেব। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আবির ভাই, চলন বিলের জল কি ঢাকায় আনা যাবে? আমার গাড়িতে তেল নেই।"

---

তারপর শুরু হলো যাত্রা।

শত শত মানুষ চলল চলন বিলের দিকে। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস — সব মিলিয়ে এক বিশাল কাফেলা। রাস্তায় জ্যাম লাগল, কারণ সবার গাড়িতে তেল কম। কিছু গাড়ি মাঝপথে থেমে গেল। মানুষ হেঁটে চলল।

জাপানিরা হেঁটেও ছবি তুলছিল।

চলন বিলে পৌঁছে সবাই থমকে গেল।

বিলের জল সবুজ। দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে আছে শৈবালের চাদর। সূর্যের আলোয় সেই সবুজ যেন জ্বলছে। দূরে বকের সারি উড়ে যাচ্ছে। বাতাসে মাটির গন্ধ।

আবির সাহেব তাঁর যন্ত্রটা বিলের পাড়ে রাখলেন। পাইপ ঢোকালেন জলে। বোতাম চাপলেন।

যন্ত্র ঘুরতে লাগল।

গুনগুন শব্দ হলো।

সবুজ জল ঢুকতে লাগল।

মানুষেরা অপেক্ষা করছে।

জাপানিরা ক্যামেরা তুলে ধরেছে।

জার্মানরা স্টপওয়াচ দেখছে।

আমেরিকানদের আইনজীবী কলম বের করেছেন।

করিম সাহেব গাড়ির চাবি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।

এবং তারপর —

যন্ত্রের অপর প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে এলো স্বচ্ছ, ঝকঝকে জ্বালানি।

এক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর ফেটে পড়ল উচ্ছ্বাস। জাপানিরা "বানজাই!" বলল। জার্মানরা হাততালি দিল — যা জার্মানদের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা। আমেরিকানরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। আর করিম সাহেব দৌড়ে গিয়ে তাঁর গাড়িতে জ্বালানি ভরতে লাগলেন।

আবির সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন বিলের পাড়ে। বাতাস আসছে। সবুজ জল ঢেউ খেলছে। তাঁর চোখে জল আসার উপক্রম হলো।

তিনি ভাবলেন, এতদিন পর জীবনটা একটু —

ঠিক তখন —

---

"আবির! এই আবির! উঠবে না? সকাল আটটা বাজে!"

আবির সাহেব চোখ খুললেন।

সিলিং ফ্যান ঘুরছে। পাশে বালিশ। দূর থেকে রিকশার টুংটাং শব্দ আসছে।

তাঁর স্ত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, "চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আর শোনো, আজ বাজারে গেলে সয়াবিন তেল আনবে — এক লিটার। দাম বাড়ছে, তাই আগেভাগে কিনে রাখা ভালো।"

আবির সাহেব বিছানায় উঠে বসলেন।

জানালা দিয়ে সকালের আলো আসছে।

চলন বিল নেই। যন্ত্র নেই। জাপানি নেই। জার্মান নেই।

শুধু এক লিটার সয়াবিন তেলের ফরমাশ আছে।

তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং বিড়বিড় করলেন, "এত সুন্দর স্বপ্ন — একটু পরে ভাঙলেই কি হতো না?"

কিন্তু স্বপ্নের কোনো সেন্স অফ টাইমিং নেই।

এটা স্বপ্নের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

*— সমাপ্ত —*

ভিনগ্রহে জীবনের খোঁজ: ৪৫টি সম্ভাবনাময় এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধানDr. Mashiur Rahman মানব সভ্যতার অন্যতম বড় প্রশ্ন—আমরা কি ...
22/03/2026

ভিনগ্রহে জীবনের খোঁজ: ৪৫টি সম্ভাবনাময় এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান
Dr. Mashiur Rahman
মানব সভ্যতার অন্যতম বড় প্রশ্ন—আমরা কি এই মহাবিশ্বে একা? বহু বছর ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন ৪৫টি এক্সোপ্ল্যানেট (ভিনগ্রহ) শনাক্ত করেছেন, যেখানে জীবনের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Monthly Notices of the Royal Astronomical Society জার্নালে।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ৬,০০০-এরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছেন। তবে এদের মধ্যে সবগুলোই জীবনের জন্য উপযোগী নয়। গবেষকরা বিশেষভাবে এমন গ্রহগুলোকে বেছে নিয়েছেন, যেগুলো “হ্যাবিটেবল জোন”-এ অবস্থিত। এই অঞ্চলটি কোনো নক্ষত্রের এমন একটি দূরত্বে থাকে, যেখানে না খুব বেশি গরম, না খুব বেশি ঠান্ডা—ফলে সেখানে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা থাকে। আর পানি তো জীবনের অন্যতম প্রধান উপাদান।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল সেগান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিসা কাল্টেনেগার। তিনি এবং তার দল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির Gaia মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করে এই সম্ভাবনাময় গ্রহগুলোর তালিকা তৈরি করেন।

এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রহ হলো—Proxima Centauri b, TRAPPIST-1f, Kepler-186f এবং TOI-715 b। বিশেষভাবে TRAPPIST-1 সিস্টেমের d, e, f এবং g গ্রহগুলোকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই গ্রহগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এছাড়াও LHS 1140 b নামের আরেকটি গ্রহও বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে।

তবে শুধুমাত্র হ্যাবিটেবল জোনে থাকা মানেই কোনো গ্রহে জীবন আছে—এটা নিশ্চিত নয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রহটির বায়ুমণ্ডল আছে কি না। যদি বায়ুমণ্ডল না থাকে, তাহলে সেই গ্রহে পানি থাকলেও তা দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে এবং জীবনের সম্ভাবনা কমে যায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে পৃথিবীর মতোই শক্তি (রেডিয়েশন) পায়। যেমন—TRAPPIST-1 e, Kepler-442 b এবং Kepler-1544 b। এসব গ্রহে জীবনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই গ্রহগুলো শনাক্ত করেছেন। কিছু গ্রহ “ট্রানজিট” পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে গ্রহটি তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গেলে আলো কমে যায়। আবার কিছু গ্রহ নক্ষত্রের দোলনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। এই দুটি পদ্ধতির সমন্বয়ে বিজ্ঞানীরা আরও নির্ভুলভাবে গ্রহগুলোর বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারছেন।

এই গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—হ্যাবিটেবল জোনের সীমানা কোথায় শুরু এবং কোথায় শেষ, তা বোঝা। কিছু গ্রহ এই অঞ্চলের একেবারে প্রান্তে অবস্থান করছে। এসব গ্রহের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, ঠিক কতটা তাপমাত্রা বা পরিবেশে জীবন টিকে থাকতে পারে।

এছাড়া কিছু গ্রহের কক্ষপথ খুবই উপবৃত্তাকার (elliptical), ফলে তারা কখনো নক্ষত্রের কাছে আসে, আবার কখনো দূরে সরে যায়। এতে তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন ঘটে। এসব গ্রহ গবেষণার মাধ্যমে বোঝা যাবে, জীবন টিকে থাকতে হলে গ্রহকে সবসময় স্থিতিশীল পরিবেশে থাকতে হবে কি না।

ভবিষ্যতে এই গবেষণা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কারণ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST), ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য উন্নত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই গ্রহগুলো আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো গ্রহে বায়ুমণ্ডল বা জীবনের চিহ্ন পাওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই গবেষণা আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছে—মহাবিশ্বের কোথায় জীবনের সন্ধান করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। হয়তো একদিন আমরা সত্যিই জানতে পারব, পৃথিবীর বাইরেও জীবন আছে কি না।

জীবনে আমার যত আনন্দ==== Dr. Mashiur Rahman ===জীবনে একটা সময় আসে, যখন নিজের বোকামিগুলোর কথা মনে পড়লে, অজান্তে নিজেরাই আম...
14/02/2026

জীবনে আমার যত আনন্দ
==== Dr. Mashiur Rahman ===

জীবনে একটা সময় আসে, যখন নিজের বোকামিগুলোর কথা মনে পড়লে, অজান্তে নিজেরাই আমরা হেসে উঠি। তেমনই কিছু বোকামির গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের পাতাতে। আগেই বলে নিই, অতীতের সেই সময়টিতে যখন এসব ঘটনাটাগুলি ঘটে, তখন কিন্তু তা মোটেও আনন্দের অনুভূতি ছিল না। তখন উপলব্ধিটা ছিল দুঃখ, কষ্ট, রাগ, সবকিছুর একটা মিশ্রণ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতাতে বিশেষ কোনো একটি অনুভূতি নিয়ে কাব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। কিন্তু এটি জীবন! - এখানে কাব্যের খেলা কম হয়। বোকামির সেই মুহূর্তগুলোতে মনে হয় কবিতার মতন সুনির্দিষ্ট কোনো অনুভূতি হয় না, বরং অনুভূতিগুলি হয় অনেক কিছুর মিশ্রণ। বলতে পারেন অনেকটা খিচুড়ির মতন।

চলুন, গল্পটা শুরু করা যাক। বছর খানেক আগে, বাংলাদেশ থেকে আমার মা এবং খালাকে নিয়ে আমন্ত্রণ করে নিয়ে সিঙ্গাপুরে বেড়াতে নিয়ে এসেছিলাম। সিঙ্গাপুরে আমার মা এর আগেও এসেছেন, তবে সেবার তিনি তাঁর বোনকে নিয়ে এসেছিলেন, অর্থাৎ আমার খালা।

সিঙ্গাপুরে উনারা আসার পরে, তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। ঘটনাটি ঘটেছিল তেমনি একটি জায়গা ভ্রমণ করে আসার পরে। ভ্রমণ করে ফেরার পরে আমরা সবাই ক্লান্ত। বাসার নিচে লিফটের জন্য অপেক্ষা করছি। আরো কিছু লোকজন থাকায়, তারা চলে যাবার পরে, আমরা পরিবারের সবাই মিলে একটি লিফটে উঠলাম। লিফটে আমি, গিন্নি, আমার দুই ছেলে এবং অতিথি মা ও খালাও আছেন। আমাদের প্রধান দরজার চাবি সাধারণত আমি কিংবা আমার গিন্নি রাখেন। সেদিন আমি সবার শেষে বের হয়েছিলাম বিধায় আমার কাছেই চাবি ছিল। সাধারণত আমার মানিব্যাগের একটি পকেট যেখানে কয়েন রাখা যায় সেখানেই চাবিটি রাখি।

এতক্ষণে পাঠকরা নিশ্চয় আঁচ করতে পেরেছেন যে, গল্পটি নিশ্চয় “চাবি” কে কেন্দ্র করে। হ্যাঁ, বুদ্ধিমান পাঠকদের আজকাল ফাঁকি দেবার উপায় নেই। চলুন গল্পের মূল অংশটিতে।

লিফটের ভিতরে, আমাদের ফ্লোরে পৌঁছার জন্য অপেক্ষা করছি। তখন ভাবলাম- চাবিটা আগেভাগেই বের করে হাতে নিয়ে রাখি। তাহলে বাসার সামনে পৌছামাত্রই দরজা খুলে ফেলতে পারবো। সবাই ক্লান্ত হয়ে আছে, অপেক্ষা করতে হবে না।

একহাতে জিনিস পত্র থাকায়, অন্য হাত দিয়ে প্যান্টের পিছন পকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে সেটি থেকে চাবিটা বের করলাম। চাবিটা হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখলাম। কোনো চাবির গোছা না, শুধুই একটি চাবি। চাবিটা হাতে নিয়ে মানিব্যাগটা পকেটে পুনরায় ঢুকে রাখার জন্য হাতটা বাড়ালাম। মানিব্যাগটা পকেটে ঢুকালাম, মানি ব্যাগটা সুন্দর লক্ষ্মী ছেলের মতন ঢুকলো। এবং সেই হাতে চাবিটাও মুষ্টিবদ্ধ করে ধরা ছিল।

মানি ব্যাগ থেকে যখন হাতটা বের করে নিয়ে আসবো, - ঠিক তখনই আমার হাতের চাবিটা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে নিচে পড়ে গেল।

নিউটন সাহেব মাধ্যাকর্ষণ কেন যে আবিষ্কার করেছিলেন! তখন নিউটন সাহেবের উপরই রাগ হচ্ছিল। উনি আবিষ্কার না করলে ছেলেবেলায় পদার্থবিদ্যার জটিল সূত্র মুখস্থ করতে হতো না। আর মধ্যাকর্ষনে চাবিটাও নিশ্চয় পড়তো না। ওই ব্যাটা নিউটন সাহেবের জন্যই চাবিটা নিচে পড়ে গেল।

চাবিটা লিফটের মেঝেতে পড়ার পরই, বাছাধনের মনে হলো উনি যেন আলাদা শক্তি পেয়েছেন। অনেকক্ষণ ধরে ধরে মানিব্যাগের ভিতরে আলাউদ্দিন চেরাগের দৌত্যের মতন তারও খারাপ লাগছিল। আর তাই সেই আটক অবস্থা থেকে উদ্ধার পেয়ে- চাবি মহাশয় ভীষণ খুশী। খুশিতে চাবিটি পড়ার সাথে সাথে ধুম…ধুম… করে নাচানাচি শুরু করে দিল মেঝেতে। লাফ দিচ্ছে আর নাচ দেখাচ্ছে। লিফটের ভিতরে ততক্ষণে আমরা সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে চাবির এই নাচ উপভোগ করছিলাম। কিন্তু চাবিটা কখন যে নাচতে নাচতে লিফটের কোনার দিকে চলে গেল তা আমরা খেয়ালই করিনি। আর তখনই লিফটের দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে চাবিটা পলায়ন করলো। চাবিটা নিশ্চয় মনে মনে গাইছিল, থাকবো নাকো বদ্ধ করে দেখবো এবার জগৎটাকে। তার জগৎটা দেখার শখ হলো : আর আমরা সবাই তাজ্জব হয়ে তার পলায়ন দেখলাম।

যথারীতি লিফটের দরজা আমাদের বাসায় সামনে খুলল। বাসার সামনে এসে কী করবো? অন্যদিন, গিন্নি চাবি রাখে। কিন্তু হায়, অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়। সেদিন তিনিও চাবি নিয়ে বের হননি। এখন কী করবো!

প্রথমে ভাবলাম হয়তোবা ফুটো দিয়ে চাবিটি এক তলাতে পড়েছে। দৌড়ে ফেরত লিফটে নিচে নেমে গেলাম। কিন্তু চাবি মহাশয় একতলায় আসেননি। চাবিটির শখ হয়েছে আরো নিম্নে, একদম লিফটের মাটির নিচে যে একটু ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে ভ্রমণ করতে যাবার। এত জায়গা থাকতে তোকে ওই জায়গাতেই যেতে হয়! মনে হচ্ছিল রাগে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলি। অবশ্য পরে মনে হল, এমনিতেই টাক মাথা আমার। দু-একটি যা চুল আছে তা নাতি-পোতাদের জন্য রাখি, বুড়ো হলে তারাই নাহয় উঠাবে।

আমি কী করবো? কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। প্রথমেই বলেছি, সব ধরনের অনুভূতিগুলো তখন খিচুড়ির মতন আমাকে গ্রাস করল।

চাবিটা কীভাবে নেওয়া যায়? আমার হাতের দুটো অপশন ছিল। প্রথম অপশন হলো, কোনো চাবিওয়ালেকে ফোন করে তাকে দিয়ে দরজার আরেকটি চাবি তৈরি করে নেয়া। আর দ্বিতীয় অপশন হলো, টাউন কাউন্সিলকে ফোন করে লিফটের নিচ থেকে চাবিটি বের করে দেবার জন্য অনুরোধ করা।

আমি দুটি জায়গাতেই ফোন করে জানলাম, যে, চাবি ওয়ালা ভদ্রলোক ছুটির দিনে অনেকগুলি কাজের অর্ডার পেয়ে এখন ছুটোছুটিতে আছেন, তার আসতে তিন-চার ঘণ্টা লাগবে। তিনি জানালেন যে, শনিবারে মাতাল হয়ে চাবি হারাবার ঘটনা একটু বেশিই ঘটে। চাবিওয়ালা জিজ্ঞাসা করছিলেন, আমিও মাতাল কিনা। রাগে ফোনটা কেটে দিলাম।

এরপরে টাউন কাউন্সিলরকে ফোন করে জানলাম- তারা আজকে ফ্রি আছেন, এবং তারা আসতে পারবেন। দ্বিতীয় অপশনটিই দ্রুত বিধায় সেটির জন্যই উনাদের অনুরোধ করলাম। বাসার সবাইকে বললাম, তোমরা একটু আধ ঘণ্টার মতো বাইরে কোথাও ঘুরাঘুরি করে আসো বা নিচে অপেক্ষা করো। আমরা নিচে অপেক্ষা করছি, বাচ্চারা বাহিরে খেলাধুলা করছে।

কিছুক্ষণ পর টাউন কাউন্সিলের লোকজন আসলেন। তারা জানেন এই পরিস্থিতি কীভাবে সমাধান করা যায়। তারা লিফটটা উপরে উঠিয়ে, নিচের জায়গাতে একজন নামলেন। সেখানে তিনি আমার চাবি, ভদ্র মহাশয়কে পেলেন। এটা আমার কিনা? - জিজ্ঞাসা করলে আমি বললাম, হ্যাঁ হ্যাঁ, এটিই আমার। খুব সুন্দর, তাকে চিনতে পারছি, চক চক করছে, আমার সেই পরিচিত চাবি। তাকে হাতে পাবার পরে, একেবারে শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রাখলাম। আর ছাড়ছি না আপনাকে।

যেহেতু এটা টাউন কাউন্সিলের এক্সট্রা কাজ, সেজন্য পারিশ্রমিক দিতে হলো। অবশ্য উনারা আগেই ওয়াদা করে নিয়েছিলেন যে চাবি মহাশয় সেখানে না পেলেও তাদেরকে টাকাটা দিতে হবে, কেননা এটি তাদের প্যাকেজ। আমি মোটামুটি নিশ্চিতই ছিলাম যে, চাবিটি সেখানেই বেড়াতে গিয়েছে। তাই আর দ্বিধা না করে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। তবে পরে জানলাম যে অনেক সময় চাবি ঠিক নিচে নাও পরে অন্য কোনো তলাতে আটকে থাকে। তখন এসব ফিজিক্স নিয়ে চিন্তা করার সময় ছিল না। রিস্ক নিয়েই রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ধারণা ভুল হয়নি। সেটি নিচেই ছিল।

বাংলাদেশের টাকায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা গচ্চা গেল, মাত্র চাবির এই বিশেষ নৃত্য দেখতে। অনেকে মনে করেন প্রবাসীরা মনে হয় অর্থের উপরে শুয়ে দিন পারেন করেন। পৃথিবীর অত্যাধুনিক মোট্রোপলিটন শহরে বসবাস করার একটি খেসারত হল - এখানকার জীবনযাত্রার খরচ হলো তাই সেই “পঞ্চাশ ডলার” আমাদের কাছে অনেক অনেক। একটি সংখ্যা। তবুও সুবিধা বড়োহলো দেশটি বেশ , সিঙ্গাপুরের এবং চাবি হারিয়ে গেলও সেটা উদ্ধারে তাদের ব্যবস্থা তাদের সিস্টেম্যাটিক এবং সেদিনের কর্মী বাহিনী বেশ আছে, হয়ে দ্রুত এসেছিলেন এবং আমাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন। টাউন কাউন্সিলরদের করিতকর্মা লোকজনদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় দিলাম।

এরপর আমাদের একটা শিক্ষা হলো। এরপর যখনই কোথাও বের হই, আমরা দুজনের কাছেই চাবি রাখতে। এরপরে আর সেই ভুলটি হয়নি। আর কখনওবা যদি চাবির নৃত্য দেখার শখ হয়, লিফ্‌ট নয়, বাসাতে ঢুকে তারপরে যত খুশি তার নৃত্য দেখি।

জীবনে এরকম ছোটোখাটো দুর্ঘটনা এবং বোকামির ঘটনা মনে হয় অনেকের জীবনেই থাকে। আমার গিন্নি বলেন যে, কারো জীবনেই ঘটে না, শুধু তোমাদের লেখকদের জীবনেই ঘটে। কি জানি সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জানি না। সম্ভবত : লেখকরা সামান্য ঘটনাকে একটু ইনিয়ে বিনিয়ে বিশাল কেচ্ছা কাহিনি বানিয়ে পাঠকদের মজিয়ে রাখে। এই যেমন আপনি এতদূর পর্যন্ত মজে মজে পড়েছেন।

জীবন তো এমনই ছোট ছোট গল্পের সমাহার। জীবনের মাধুর্য এটাই যে জীবনে এরকম ছোট ছোট মুহূর্তগুলিকে আমরা পাই। সেই সময়ে ঘটনাগুলি আমাদের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করলেও, পরবর্তীতে সেগুলি মনে পড়লে এক অন্যরকম ভালো লাগায় মনটা খরে উঠে। এটাই জীবনের সৌন্দর্য। ছোট ছোট স্মৃতি - তা মধুর হোক, দুঃখের হোক, কিংবা কষ্টের - এসব নিয়েই আমাদের জীবন।

কমেন্টে আপনার এমন ঘটনা থাকলে জানাতে ভুলবেন না।

মশিউর Dr. Mashiur Rahman
সিঙ্গাপুর, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব থেকে প্রায় ৮ বছর পিছিয়ে থাকি----------- Dr. Mashiur Rahman ---------বাংলাদেশে প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে যে জনআলোচন...
07/02/2026

বিশ্ব থেকে প্রায় ৮ বছর পিছিয়ে থাকি
----------- Dr. Mashiur Rahman ---------

বাংলাদেশে প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে যে জনআলোচনা তৈরি হয়, সেখানে এক ধরনের পুনরাবৃত্ত প্যাটার্ন আছে। বহু বছর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাসে আমি হঠাৎ মন্তব্য করেছিলাম যে আমাদের দেশে বৈশ্বিক প্রযুক্তি আসে কমপক্ষে আট বছর দেরিতে। তখন এটি VoIP প্রযুক্তির প্রেক্ষিতে উদাহরণ হিসেবে বলেছিলাম। পরে একজন ছাত্র—যার নাম এখন মনে নেই, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে—হেসে বলেছিল, “স্যার, শুধু VoIP না, প্রায় সব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই আট বছরের নিয়মটা ঠিকই খাটে।” আজ, এক দশক পর, বাংলাদেশের প্রযুক্তি–বাতাসে মাঝে মাঝে যে উত্তেজনা ওঠে, তা দেখলে মনে হয়—হ্যাঁ, সেই ছাত্রটি ঠিকই বলেছিল।

যে প্রযুক্তিগুলোকে আমাদের গণমাধ্যমে “অভূতপূর্ব আবিষ্কার” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তার বেশিরভাগই আসলে বহু আগেই বিশ্বজুড়ে ব্যবহারিক বাস্তবতায় পৌঁছে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, যা নিয়ে সাম্প্রতিক হইচই—IoT সেন্সর এবং সাধারণ মাইক্রোকন্ট্রোলার মডিউল—সেগুলো ২০১৩ সালে সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে সাংহাই পর্যন্ত সর্বত্র স্টার্টআপগুলো বানিয়ে ফেলেছিল। আলিবাবা বা আলিএক্সপ্রেসে পাঁচ ডলার থেকে পনের ডলারের মধ্যেই সেন্সর সেট পাওয়া যায়, যা দিয়ে যেকোনো স্নাতক বর্ষের ছাত্রও সহজেই একটি সাধারণ IoT ডিভাইস বানাতে পারে। পেটেন্টের প্রয়োজন নেই, মিডিয়ার আলো ঝলমলও নয়। এ কারণেই সিঙ্গাপুরে ২০১২ সালের স্টার্টআপ প্রদর্শনীতে আমি এমন অসংখ্য সমাধান দেখেছি, যেগুলোর দিকে আজ বাংলাদেশের গণমাধ্যম তাকিয়ে “অভূতপূর্ব আবিষ্কার” বলে বর্ণনা করছে।

গত দশকে মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনামে IoT ভিত্তিক ৪০০টিরও বেশি স্টার্টআপ বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। ভারতে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে IoT বাজারের আকার ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার IoT বাজার বার্ষিক প্রায় ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। অথচ আমরা এখনও মিডিয়ায় এমনভাবে এই প্রযুক্তিগুলিকে উপস্থাপন করি যেন এটি এক বিরাট বিপ্লব, যা গোটা বিশ্বকে বদলে দেবে।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি–খবরের আরেকটি সমস্যা হলো—উত্তেজনা, অতিরঞ্জন, এবং যাচাইয়ের অভাব। ২০২১ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরে “পাঁচ মিনিটে ক্যান্সার শনাক্ত” সম্ভব বলে যে হৈচৈ উঠেছিল, তার একটিও তথ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাই হয়নি। অথচ অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পর্যন্ত অনেকেই সেই দাবিকে সমর্থন করেছিলেন। এটি শুধু সাংবাদিকতার ব্যর্থতা নয়—বরং আমাদের বৈজ্ঞানিক চর্চার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।

এখানে একটি প্যাটার্ন স্পষ্ট। আমাদের দেশে “আবিষ্কার” সাধারণত এক–দুজন ছাত্র বা অধ্যাপককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়, যাদের ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোজার খুব সীমিত। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঘোষণা করেন যে “বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো আবিষ্কার করে ফেলেছেন।” এরপর মিডিয়া সেই বক্তব্যকে বাড়িয়ে তা “ঐতিহাসিক সাফল্য” হিসেবে প্রকাশ করে। কোনো আন্তর্জাতিক জার্নাল—যার ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর দিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মান পরিমাপ করা যায়—সেগুলোতে প্রকাশ হয় না। ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের রিভিউ তো দূরের কথা, বরং বিজ্ঞানের পরিবর্তে আমাদের রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ করা হয়, যাতে সংবাদটি আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষণা ফল যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্যাটেন্টের অবস্থাও বেশ অস্পষ্ট। যে কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে তুচ্ছ বিষয়েও পেটেন্ট জমা দিতে পারেন। দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন পেটেন্ট আবেদন করা হলেও মাত্র ১ শতাংশের কম বাস্তব বাণিজ্যিক প্রভাব সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে এই হার আরও কম—প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।

প্রযুক্তিগত গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে একটি আবিষ্কার যখন সত্যিকারের মূল্যবান প্রমাণিত হয়, তখন তা বহু ধাপ যাচাই অতিক্রম করে—ল্যাব টেস্ট, ডেটা ভেরিফিকেশন, পাইলট ইমপ্লিমেন্টেশন, রিয়েল-ওয়ার্ল্ড স্কেলিং, এবং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডপশন। অথচ বাংলাদেশের প্রযুক্তি–আবিষ্কার সংবাদগুলোতে এই কোনো ধাপই থাকে না।

আমাদের গণমাধ্যমে যে উত্তেজনা তৈরি হয়, তার স্থায়িত্বও সামান্য। সাধারণত তিন মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সেই “বিপ্লবী” আবিষ্কার সম্পর্কে আর কোনো খবর পাওয়া যায় না। এগুলো যেন আতশবাজির মতো—এক মুহূর্তের ঝলক, তারপর নিঃশব্দ অন্ধকার।

অবাক করার মতো বিষয় হলো—আমরা বারবার একই ভুল করি, একই আনন্দে বিভোর হই, একই হতাশায় পড়ি। তাই এখন আর আমি বিস্মিত হই না। বরং মনে হয়—আমরা এখনও প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতিতে পৌঁছাতে পারিনি। গবেষণার মান, ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা, সত্যিকারের উদ্ভাবনী চর্চা—এসবের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে এই ৮ বছরের ব্যবধান কখনো কমবে না।

বিশ্বে যখন AI–চালিত IoT ডিভাইসের বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের দিকে এগোচ্ছে, তখন আমাদের উচিত মিডিয়া–উত্তেজনার বদলে গবেষণা মানোন্নয়ন, ডাটা–ভেরিফিকেশন, এবং ইন্ডাস্ট্রি–ভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতির দিকে মনোযোগ দেওয়া। কারণ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে “৮ বছরের তত্ত্ব” ভেঙে এগিয়ে যেতে হবে আরও দ্রুতগতিতে, আরও পরিমিত বুদ্ধি নিয়ে।

মূল লেখাটি ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে লিখিত। কিছু তথ্য সংযুক্ত করে পুনরায় বিজ্ঞানী অর্গ এর সম্পাদকীয় এর জন্য লিখিত।

🎓 তুমি কি বিজ্ঞানী হতে স্বপ্ন দেখো?🌍 ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছো?তাহলে আসছে ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫ টায় বিজ্ঞ...
06/12/2025

🎓 তুমি কি বিজ্ঞানী হতে স্বপ্ন দেখো?
🌍 ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছো?

তাহলে আসছে ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫ টায় বিজ্ঞানী অর্গ অনলাইনে আয়োজিত করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ বিজ্ঞানী নওশাদ হক–এর অংশগ্রহণে একটি লাইভ সাক্ষাৎকার ও আলোচনা অনুষ্ঠান, যেখানে তিনি শেয়ার করবেন—
কীভাবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়,
গবেষণায় কীভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয়,
আর একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগ পাওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবে তাহসিন আহমেদ সুপ্তি। প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু থাকবে তাই তোমরা অনলাইনেই প্রশ্ন করতে পারবে।

তুমি যদি স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হও এবং মনে কর—
“আমিও একদিন বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চাই”—
তাহলে এই ইভেন্টটি মিস করা মানেই একটি বড় সুযোগ মিস করা।

📢 অংশ নিতে এখনই রেজিস্ট্রেশন করে ফেল:
👉 https://biggani.org/naushad-haque-interview/
সিট সীমিত। আগে আসলে আগে সুযোগ।

স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়াই আসল শক্তি।
আমাদের সঙ্গে থাক, নিজেকে প্রস্তুত কর, আর নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তোল।

অস্ট্রেলিয়ার CSIRO-এর প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ নওশাদ হকের সাথে একটি এক্সক্লুসিভ লাইভ সেশনে যোগ দিন। নবায়নযোগ্য শক্তি, ব....

30/09/2025

বৈঠকি কিসসা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিখতে টাকা লাগে না
==== Dr. Mashiur Rahman ====

এই যে ভাইসব, দুনিয়ার বাতাসে এখন এআইর গন্ধ! রিকশা থেকে নেমে যদি চশমা মুছা–দেখবা—প্রতিটা মোড়ে মোড়ে এআই নাচতাছে। আপনি কফিশপে চা খান বা গুলিস্তানে ফুটপাতের ডিমের টোস্ট খান, এআই কিন্তু আপনার পিছে পিছে ঘুরতাছে। আর ভাইজানের পকেটে যদি এক টাকাও না থাকে—তাতেই বা কী! এআই শিখার জন্য লাগবো না টিউশনের বাকি মাইনা, লাগবো না ফুপুর সোনার চেইন বন্ধক। এই দুনিয়াত এখন এমন সব টুল ফ্রি যেগুলা দিয়া ফকিরও এআই গুরু হতে পারে—একেবারে হাত-মুখ মুছা ছাড়া!

শুনেন, প্রথমেই ধরেন Perplexity.ai। এইডা স্রেফ সার্চ ইঞ্জিন না, ভাইজান। গুগল যেমন ঘাড় বাঁকাইয়া লিংক ছুঁড়ে দেয়, এইডা তেমন না—প্রশ্ন করলেই হাড়ি-কলস খুলে সব দুধভাত ঢেলে দিবে। রেফারেন্সও দিবে, যেন খালার বাসায় বিরিয়ানি খাইতে গিয়া সঙ্গে পেঁপে আচারও ফ্রি! রিসার্চের নাম শুনলেই যে মাথা ব্যথা ওঠে, এইডা দিলেই পাঁচ মিনিটে মগজ ঠান্ডা, পোলাপানের গায়ের ঘাম শুকনা।

তারপর আছে ChatGPT—ওফ, এই নাম শুনে যদি না চেনেন, তবে আপনি ভাইজান এই গ্রহের লোকই না! এইডা দিয়া কবিতা লিখা থেকে শুরু করে প্রেমপত্র বানানো, কোডিং করা থেকে মামাতো ভাইর জন্য চাকরির দরখাস্ত—সবই এক্কেবারে হুড়মুড়! এমনকি এক কাপ চা খাইতে খাইতে আপনার গার্লফ্রেন্ডের মন জয় করবার জন্য ছন্দ বানিয়াও দিবে। আপনার পকেট ফাঁকা, কিন্তু এইডা তোর মগজের ঘাটে একেবারে ফুল স্পিডে চাল দিবে।

মেটার Llama? শুইনা হাসবে না ভাইজান, এইডা কোন খামারের “লামা” না, কসম! এইডা একখান ওপেন সোর্স এআই বাপকা মডেল। গবেষক হবেন, মডেল বানাইবেন—কেউ টোক দিব না। নিজের ঘরে বসে গেরামি লুঙ্গি পরে লামা ট্রেনিং দিয়া বিশ্ববিদিত হতে পারবেন—এইডা যে কি মজা, বুঝবেন ভাইজান!

গুগল মামাও পিছাইয়া নাই। Google AI Studio এমন জিনিস, কোডিং জানেন না? কিচ্ছু আসে যায় না। দুইটা বাটন টিপ দিলেই ভাইজান আপনেও অ্যাপ বানাইতে পারবেন, চ্যাটবট বানাইতে পারবেন। ভাবেন, হাটের মোড়ের সেলুনের নাপিতোও পর্যন্ত চাইলে নিজের চ্যাটবট বানাই ফেলতে পারে, আর আপনি শহুরে গলির গ্যাজেটবাজ হয়ে বসে থাকবেন? তার উপর Google Cloud-এর ফ্রি API—অনুবাদ কর, ছবি চিন, গলার আওয়াজে নাম বল—সব ফ্রি, যেন গুলিস্তান মার্কেটে সেল লাগছে!

মেশিন লার্নিং শিখতে চান? WEKA নামের পুরান খেলোয়াড় এখনো মাঠে ব্যাট ঘুরায়। বড় বড় ইউনিভার্সিটিতে এত বছর ধইরা দাপট। জটিল ডেটা নিয়া খেলা করতে তোর মাথা ঘুরে গেলেও WEKA দিয়া আপনি একেবারে গুলিস্তান-স্টাইল ফ্লেক্স করতে পারবেন।

শুধু টেক্সট বা ডেটা নয় ভাইরে, সাউন্ড-ভিডিওর জগতে মজাও আছে। Audacity দিয়া গান কাটছাঁট করেন, নয়েজ মাইরা ফেলের, নিজের কণ্ঠে ঝালমুড়ি মশলা দিয়া রিমিক্স বানান—যেন বিয়ের গায়ে হলুদে ডিজে ডাকতে হইলো না। আর Photopea? ফটোশপের হুবহু ভাই, কিন্তু এইডা খালি ব্রাউজারে খুললেই কাজ শুরু। মোবাইল নাড়লেই ছবি সাজবাজ, এক্কেবারে ফ্রি!

Craiyon নামের আরেক টেকের মাস্তান আছে। আপনে শুধু লিখবেন—“ডিম ভাজা চাঁদে”—এইডা মিনিটেই ছবি বানাই দিবে। আপনার স্বপ্নের আঁকিবুকি কাগজে তোলার ঝক্কি নাই—এআই দিয়া হেঁটে-হেঁটে সব আঁকা শেষ। আর Hugging Face? ওরে বাপরে! এইডা এআই মডেল আর ডেটার খোলা হাট। যত রকমের মডেল, তত রকমের পাগলামী, সবই এক ছাদের তলায়।

তো ভাইসব, আর বসে থাইকেন না। টাকাপয়সা নাই তাই বলে মাথার ঝালমুড়ি ভাজা বন্ধ কইরা রাখবা নাকি? ল্যাপটপ খোলের, এই ফ্রি টুলগুলা দিয়া এআই শিখা শুরু করেন। এই ঢাকাইয়া কবি মশকরা আর গলা ফাটাইয়া একদিন বলবা—“এই যে ভাই, দ্যাখো, এআইর পরের কাহিনী এখন আমার কলমে!”

বড়দের কদমবুছি আর ছোটদের আদর দিয়া বিদাই লইলাম এই ঢাকাইয়া কবি- আইজ আজ/রোজ মঙ্গলবার ১৫ই আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি তারিখে।

24/09/2025

নামের পাশে ডক্টরেটের দীক্ষার টাস্কি খাইয়েন না ভাইজান! গবেষণার নামে এমন যন্ত্রপাতি ভাঙা শুরু করছিলাম যে ল্যাবের গরিব মাইক্রোস্কোপগুলোও আমারে দেইখা কাঁদত। প্রফেসর সাহেব শেষমেশ হাতজোড় কইরা কইলেন, “বাপু, তোরে ডিগ্রি দিয়া বাইর কইরা দিলেই বাঁচি!”—এই ডিগ্রি তাই আসলেই ল্যাবের গায়ে বাঁচার লাইসেন্স।

তারপর হইল কাহিনি শুরু—এই দেশ ওই দেশ কইরা একেবারে গরুর গাড়ির ঘণ্টার মতন ঝনঝনাইয়া ঘুইরা বেড়াচ্ছি। কখনো ওথানে, কখনো তথানে, যেন বেদুইনেরও চাকরি নিয়া ফেলছি। কোনখানে যে ঠিকানা করি—সে প্রশ্নে এখনও সিলমোহর নাই।

জন্মগত আতলামি, এইডা বাদ দেই কেমনে? যেখানে যাই, খানিকটা ‘আতলা রঙ’ দিয়া আসতে হয়। জায়গা পাই নাই—শেষমেশ ফেসবুকেই ঘাঁটি বানাইলাম, ভাবলাম অন্তত আপনাগো মাথা ধরার লাইসেন্সটা তো ফ্রি।

তাই যদি নিয়মিত মাথা ধরাইতে চান, সাবস্ক্রাইব কইরা রাখেন। ইনবক্সে হাজির হইবো—কখনো দিবসের দুপুরে, কখনো রাতের শেষ প্রহরে—যেন একখানা ডিজিটাল গুনগুনানি। কখনোওবা “বৈঠকী কিসসা” লইয়া হাজির।

ঢাকাইয়া পোলা আমি—কি করমু বলেন? সবখানে রস খুইজা লই, দুঃখের গহ্বরেও মজা খুঁজতে পারি। দুঃখে গা ভিজাইলেও আনন্দে টইটুম্বুর হইয়া দিন-রাত্রি পার কইতাছি।

সবাই ভালো থাইকেন। বড় ভাইদের কদমবুছি, ছোটদের মাথায় আদর—এই ঢাকাইয়া পোলার তরফ থেইক্কা আপনেরে দিলাম । 😏

24/09/2025

বৈঠকী কিসসা: পড়ুয়ার ভান এবং অন্যান্য কিসসা
=== Dr. Mashiur Rahman ===

বাল্যকালে, নিউটনের মাথায় আপেল পড়ার মতোই, আমার মস্তিস্কে এক অভূতপূর্ব তত্ত্বের উদয় হলো। আমি তার নাম দিলাম "দণ্ড-পঠন দ্বান্দ্বিকতা" বা ইংরেজিতে যাকে বলে, The Duality of Cane and Canon। তত্ত্বটি অতি সরল: গৃহে দণ্ডের আগমন ও বই পড়ার পরিমাণ পরস্পর ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, আব্বাজানের করকমলে বেত যত কম শোভা পাবে, আমার জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন তত বাড়বে।

এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর, ক্লাস টু-এর আমি নিজেকে প্রায় গ্যালিলিওর সমগোত্রীয় ভাবতে শুরু করলাম। বুঝলাম, সংসারে নির্বিঘ্নে বাঁচতে হলে হয় বীর হতে হয়, নয়তো বিদ্বান হওয়ার ভান করতে হয়। বীর হওয়ার মতো পেশিশক্তি ছিল না, তাই দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিলাম। ফলস্বরূপ, আমার পঠন-পাঠনের বহর এমত বাড়িয়া গেল যে, বাড়ির সকলে ভাবিতে লাগিল, এ ছেলে কনিষ্ঠ বিদ্যাসাগর না হইয়া যায় না।

আমার সে সাধনা ছিল এক মহাযজ্ঞ। আব্বাজানের সমক্ষে যখন আমার ভূগোল বই খোলা থাকিত, তিনি কি আর জানিতেন যে, সেই টেক্সটবুক নামক রাষ্ট্রের আশ্রয়ে সেবা প্রকাশনীর মাসুদ রানা নামক এক স্বাধীন প্রজাতন্ত্র দিব্যি চলিতেছে? আমার চোখ তখন সুদূর মিশরের মরুভূমিতে পিরামিডের রহস্যভেদ করিতেছে, আর মুখ হইতে নির্গত হইতেছে, "পদ্মা, মেঘনা, যমুনা—আমাদের তিন প্রধান নদী।" এই যে চক্ষু ও জিহ্বার মধ্যে এক অদ্ভুত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, যাহাকে ফরাসিতে বলে *double entendre*, ইহা আমি সেই বয়সেই রপ্ত করিয়াছিলাম। আমার মস্তিষ্ক যেন ছিল এক দুই-ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমান, যার এক ইঞ্জিন চলিত সিলেবাসের পথে, অন্যটি কল্পনার জগতে।

এই সাধনার এমনই তেজ যে, একবার গভীর রাত্রে নিদ্রার ঘোরে শুনিলাম, রান্নাঘরে বিড়াল হাঁড়ি ফেলিয়াছে। আর যায় কোথা! আমার অর্ধচেতন মন ভাবিল, আব্বাজান আকস্মিক পরিদর্শনে আসিয়াছেন। আমি ঘুমের মধ্যেই তারস্বরে হাঁক ছাড়িলাম, "Two ones are two, two twos are four..."। আব্বাজান দেখিয়া ভাবিলেন, ছেলের আত্মা পড়াশোনার চাপে দেহ ছাড়িয়া কেবল বইয়ের জগতে আশ্রয় লইয়াছে। তিনি বিচলিত হইয়া আমাকে এক বিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন করিলেন।

সেই ডাক্তার ছিলেন এক বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি আমার নাড়ি টিপিয়া, চক্ষু দেখিয়া, এবং আমার সারাদিনের রোজনামচা শুনিয়া বলিলেন, "ভয়ের কারণ নাই। আপনার পুত্রের কোনো মানসিক বিকার হয় নাই, হইয়াছে 'অতিরিক্ত জ্ঞান-বিকার' । ঔষধ একটাই—প্রত্যহ দুই ঘণ্টা করিয়া টেলিভিশন দর্শন এবং গল্পের বইয়ের সহিত পাঠ্যপুস্তকের বিচ্ছেদ ঘটানো।" আমি তো শুনিয়া আহ্লাদে আটখানা! এ যে স্বয়ং ধন্বন্তরির বিধান!

সেই হইতে আমার পাঠাভ্যাস এক বিচিত্র রূপ লইল। পড়ার নেশাটা রহিয়া গেল, কিন্তু উহার কোনো বাছ-বিচার রহিল না। হাতের কাছে যাহা পাই, তাহাই পড়ি। শৌচালয়ে রাখা হারপিকের বোতলের গায়ে লেখা রাসায়নিক সংকেতগুলি আমার কাছে প্রাচীন মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক বলিয়া মনে হয় এবং উহার ব্যবহারবিধি যেন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অনুশাসন। সে লেখা আমি এমনই মুখস্থ করিয়াছি যে, প্রয়োজনে হারপিকের গুণাগুণ লইয়া একখানা ক্ষুদ্র পুস্তিকাই লিখিয়া ফেলিতে পারি।

কিন্তু হায়! সকল সাধনারই পতন আছে। আমার এই জ্ঞানতৃষ্ণার সাগর আসিয়া শুকাইয়া গিয়াছে এক মরীচিকার পিছনে, যাহার নাম ফেসবুক। ইহার পাতা উল্টাইতে উল্টাইতে যতই নিম্নে অবতরণ করি, ততই মনে হয়, এ তো পড়া নয়, এ যেন এক অতলান্ত পাতালপুরীর দিকে যাত্রা। নামিতেই থাকি, নামিতেই থাকি। ইহার কি কোনো তল নাই? জানি না, এই নিম্নগামিতাকে অধঃপতন বলা চলে কি না। ফারসি কবি বলিয়াছেন, "হর কস বে-খোদ রফত, উ বে-মঞ্জিল রসিদ" (যে নিজেকে হারাইয়াছে, সে-ই লক্ষ্যে পৌঁছাইয়াছে)। আমি তো ফেসবুকের অতলে নিজেকে হারাইয়াছি, কিন্তু মঞ্জিল কোথায়? সে কথা ভবিষ্যতের গর্ভে। আপনারা ভালো থাকুন। খোদা হাফেজ।

আপাতত, সেই অতলান্ত কূপে ডুবিয়া যাহারা এই রসালো জ্ঞানলিপি পাঠ করিলেন, তাঁহাদের কাছে অনুরোধ, এমন "বৈঠকী কিসসা" - জাতীয় হাস্যরসের স্বাদ পাইতে হইলে আমার পাতাটি লাইক ও সাবস্ক্রাইব করিতে ভুলিবেন না। তাহাতে এই "দণ্ড-পঠন দ্বান্দ্বিকতা" সার্থক হইবে।

আপনারা ভালো থাকুন। খোদা হাফেজ।

বৈঠকি কিসসা: হেলিকপ্টারের নতুন ব্যবহার==== Dr. Mashiur Rahman ====আমাগো পাড়ার পোলাপাইনের বহুতদিনের প্ল্যান আছিল - হেলিকপ...
12/09/2025

বৈঠকি কিসসা: হেলিকপ্টারের নতুন ব্যবহার
==== Dr. Mashiur Rahman ====

আমাগো পাড়ার পোলাপাইনের বহুতদিনের প্ল্যান আছিল - হেলিকপ্টারে চড়ার। মনের শখ আছিল আর কি! পোলাপাইনদের নিয়া ঢাকার আকাশে ঘুরুমু, এক চক্কর মেরে আসুমু বুড়িগঙ্গার উপরে! কিন্তু ভাইজান, হেলিকপ্টার নিয়া এখন তো মহা মুসিবত। সকল দেশের প্রধানমন্ত্রীরা হেলিকপ্টার কিইন্যা ছাদের মাথায় দাঁড় করাইয়া রাখতাছে, কখন পালাইতে হইবো কে জানে!

তয় একটা জিনিস কি জানেন ভাইজান, এইডা নতুন ফ্যাশন না। আগের লিডাররাও হেলিকপ্টার দিয়া চপ্পট পালাইছিলো! কি মনে করতে পারতাছেন না? দাড়ান একটু মনে কইরা দিই-

প্রথমেই মনে পড়লো ২০০১ সনে আর্জেন্টিনার দে লা রুয়া এর কথা। সেই দেশে দাঙ্গা লাগলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ছাদ থেইকা হেলিকপ্টারে চইরা পলাইয়া গ্যাছে। তারপরে মনে পড়লো ১৯৭৫ ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষের ঘটনা। সাইগন পড়ার সময় দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নুয়েন ভান থিউ দেশ ছাইড়া উড়াল। আমেরিকানরাও এক্কেবারে চকবাজারের ইফতার রাশের মত হেলিকপ্টার দিয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদ্ধার খেলাইছে।

ভাইজান, সেই ইতিহাসের দিনগুলার ট্রেন্ডখানা আজকালকালও চালু আছে। আমাগো বাংলাদেশে আগস্ট ২০২৪ এ শেখ হাসিনা ১৫ বছরের শাসনের পরে ছাত্র আন্দোলনের চাপে হেলিকপ্টারে চইরা ভারতে টুপুস। এরপরে পড়শুদিন নেপালের কেপি শর্মা অলি দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে সেনার হেলিকপ্টারে ঝুলে পালাইছে। মন্ত্রী ভাইদের তো দেখছে মানুষ হেলিকপ্টারের নিচে ঝুলতাছে, একদম নবাবপুরের লাইটের তারের মত!

এখন দোকানদাররে যদি বলি, “ভাই, হেলিকপ্টার চাই।” প্রথমেই উনি জিগাইবো—“আপনে কি প্রধানমন্ত্রী নাকি?” কারণ হেলিকপ্টার এখন তো ভাই: এক্সপ্রেস পালানোর বাহন, ছাদের উপরে স্ট্যান্ডবাই, দাঙ্গার টাইমে এমার্জেন্সি এক্সিট। আমাগো ছেলেরে নিয়া চক্কর মারার প্ল্যান তো এখন পুরা লস। সবাই ভাববো আমি বুঝি কোন দেশের বস!

হেলিকপ্টার এখন আর শখের জিনিস না—এইডা অইয়া গেছে পলিটিক্যাল সারভাইভাল কিট। যার হেলিকপ্টার নাই তার রাজনীতি করা মানে মিষ্টি খেতে গিয়া টাকা না নেওয়া—এক্কেবারে ফালতু! এইটাই এখন নিউ নরমাল, বুঝলেন ভাইজান?

তো আমার হেলিকপ্টারে চড়ার প্ল্যান আপাতত ক্যানসেল। যতদিন না এই ট্রেন্ড ফিনিশ হয়, ততদিন বাস-রিকশা-সিএনজির রাইডেই চলতে হইবো। আর যদি কখনো প্রধানমন্ত্রী হই, প্রথম কাজ হেলিকপ্টার কেনা—তবে সেইডা চকবাজারের ফুচকা ট্যুরের জন্য, পলানোর জন্য না! তবে কে জানে, কিনলেই হয়তো মাথায় পালানোর চিন্তা ঘুরে বেড়াইবো। এইডাও এক রকমের ভাইরাস, ভাইজান! হাহাহা!

পুনশ্চ: যদি কারো হেলিকপ্টার দোকানের ঠিকানা জানা থাকে, আমারে একটু জানাইয়্যা দিয়েন। কিন্তু দোকানদাররে বলিয়েন, “ভাই, আমি প্রধানমন্ত্রী না, শুধু ফ্রি রাইড নেবো।” হাহাহা!

আইজ শুক্রবার ২৮শে ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকাইয়া কবি মশিউর হেলিকপ্টারে চড়তে না পাইরা মনের দুক্ষে এই কথাখান লিইখ্যা গেল। ইতিহাসে লেইখ্যা রাইখেন। চড়ত না পারলে কি করুম, ছবিখানা এআই দিয়্যা আঁকাইয়া লইলাম।

#ঢাকা #বাংলাদেশ #রম্য

Address

Singapore

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Mashiur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Mashiur Rahman:

Featured

Share