DR. BIPUL CHOWDHURY

DR. BIPUL CHOWDHURY Infertility, Sexual, Hormonal, Skin, Rheumatism, Arthritis, Orthopedics & Autoimmune Disease. All types of Severe Chronic Disease & Cancer
2.
(1)

EXPERT IN CHRONIC DISEASES & CANCER CARE

Brain, Nerve, Face, ENT, Thyroid, Heart, Liver, Kidney, Lung, Pancreas, Spleen, Stomach, Rectum, Urology, Gyne & Obs. 𝗗𝗥. 𝗕𝗜𝗣𝗨𝗟 𝗖𝗛𝗢𝗪𝗗𝗛𝗨𝗥𝗬
Registered Homeopathic Consultant Physician

𝗚𝘂𝗶𝗱𝗲, 𝗛𝗮𝗵𝗻𝗲𝗺𝗮𝗻𝗻 𝗖𝗼𝗹𝗹𝗲𝗴𝗲 𝗼𝗳 𝗛𝗼𝗺𝗲𝗼𝗽𝗮𝘁𝗵𝘆, 𝗟𝗼𝗻𝗱𝗼𝗻, 𝗨𝗞.

𝗟𝗲𝗰𝘁𝘂𝗿𝗲𝗿, 𝗖𝗵𝗮𝗻𝗱𝗽𝘂𝗿 𝗛𝗼𝗺𝗲𝗼𝗽𝗮𝘁𝗵𝗶𝗰 𝗠𝗲𝗱𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗖𝗼𝗹𝗹𝗲𝗴𝗲 & 𝗛𝗼𝘀𝗽𝗶𝘁𝗮𝗹, 𝗕𝗮𝗻𝗴𝗹𝗮𝗱𝗲𝘀𝗵.

𝗠𝗮𝗻𝗮𝗴𝗶𝗻𝗴 𝗗𝗶𝗿𝗲𝗰𝘁𝗼𝗿 & 𝗦𝗲𝗻𝗶𝗼𝗿 𝗖𝗼𝗻𝘀𝘂𝗹𝘁𝗮𝗻𝘁 :
𝗖𝗛𝗢𝗪𝗗𝗛𝗨𝗥𝗬

𝗛𝗢𝗠𝗘𝗢 𝗠𝗘𝗗𝗜𝗖𝗔𝗟 𝗖𝗘𝗡𝗧𝗘𝗥
(A Center for Specialized Classical Homoeopathy. Art of Science and Art of Healing).

𝗔𝗱𝗱𝗿𝗲𝘀𝘀 :
Opposite of Swadesh Hospital, Birmuktijoddha Habibur Rahman Sarak (Barotopa Road), Mawna Chowrasta, Sreepur, Gazipur 1740

𝗖𝗲𝗹𝗹 𝗡𝗼 :
01735-204491, 01820-574465, 01981-644001,

𝗘𝗺𝗮𝗶𝗹 :
drbipulchowdhury@gmail.com, chowdhury.bipul@yahoo.com

𝗦𝗽𝗲𝗰𝗶𝗮𝗹𝗶𝘁𝘆 :
1. All types of Male & Female Disease
3. All types of Child Disease
4. All types of Severe Acute Disease

21/03/2026

ঈদ মোবারক
সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা
❤️❤️❤️

19/03/2026

যে কোন ক্রনিক ডিজিজ এর নিরাপদ চিকিৎসা ও স্থায়ী আরোগ্যের জন্য আমরা আছি সর্বদা আপনার পাশে।

প্রকৃত আরোগ্য কেবল শরীরের রোগমুক্তি নয়, বরং এটি শরীর, মন এবং আত্মার এক অপূর্ব ভারসাম্য। যেখানে আমরা কেবল উপসর্গকে দমন করি না, বরং শিকড় খুঁজে সুস্থতার বীজ বপন করি। প্রকৃতি এবং মানুষের এই নিবিড় সংযোগই হলো পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার চাবিকাঠি। যখন ভেতরের প্রতিটি সত্তা সুসংগত হয়, তখনই মানুষ প্রকৃত প্রাণশক্তির সন্ধান পায়। মনে রাখবেন, নিরাময় কোনো গন্তব্য নয়, এটি জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উদযাপনের একটি নিরন্তর যাত্রা।
DR. BIPUL CHOWDHURY

🟢 আমাদের চিকিৎসা সমূহ :

🔴 নিউরোলজি ও মস্তিষ্ক (Brain & Nerve) : ১. স্ট্রোক,
২. প্যারালাইসিস, ৩. মৃগীরোগ (Epilepsy), ৪. পার্কিনসন ডিজিজ, ৫. আলঝেইমারস, ৬. মাইগ্রেন, ৭. মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, ৮. মেনিনজাইটিস, ৯. সায়াটিকা, ১০. নার্ভের ব্যথা, ১১. স্মৃতিভ্রম, ১২. হাত-পা কাঁপা, ১৩. ভার্টিগো (মাথা ঘোরা), ১৪. স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ১৫. ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া।

🔴 শিশু বিকাশ ও অটিজম (ASD & Special Child) :
১. অটিজম (ASD), ২. ADHD, ৩. ডাউন সিনড্রোম, ৪. সেরিব্রাল পালসি, ৫. কথা বলতে দেরি হওয়া, ৬. আচরণগত সমস্যা, ৭. বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা, ৮. লার্নিং ডিজাবিলিটি, ৯. হাইপারঅ্যাক্টিভিটি, ১০. ডিসলেক্সিয়া, ১১. সোশ্যাল এনজাইটি, ১২. বিকাশে বিলম্ব, ১৩. বারবার একই কাজ করা, ১৪. চোখের দিকে না তাকানো, ১৫. খিঁচুনি রোগ।

🔴 মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক (Psychological & Mind) :
১. বিষণ্ণতা (Depression), ২. দুশ্চিন্তা (Anxiety), ৩. অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (OCD), ৪. বাইপোলার ডিজঅর্ডার, ৫. স্কিৎজোফ্রেনিয়া, ৬. প্যানিক অ্যাটাক, ৭. ফোবিয়া, ৮. ইনসোমনিয়া (অনিদ্রা), ৯. ইটিং ডিজঅর্ডার, ১০. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ১১. পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস (PTSD), ১২. মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ১৩. হ্যালুসিনেশন, ১৪. ব্যক্তিত্বের ব্যাধি, ১৫. আত্মহত্যার প্রবণতা।

🔴 সাইকোসোমেটিক ডিজঅর্ডার (Psychosomatic) :
১. মানসিক চাপজনিত পেটে ব্যথা, ২. টেনশন হেডেক, ৩. হিস্টিরিয়া, ৪. ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (মানসিক কারণে), ৫. বুক ধড়ফড় করা, ৬. সাইকোজেনিক হাঁপানি, ৭. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ৮. স্নায়বিক চর্মরোগ, ৯. মানসিক কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ১০. কনভার্সন ডিজঅর্ডার, ১১. শরীরের বিভিন্ন স্থানে কারণহীন ব্যথা, ১২. ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়া, ১৩. ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (মানসিক), ১৪. ঘাম হওয়া, ১৫. পেশির টান।

🔴 চক্ষু রোগ (Eye Diseases) :
১. ছানি পড়া, ২. গ্লুকোমা, ৩. রেটিনোপ্যাথি, ৪. কনজাংটিভাইটিস, ৫. মাইনাস পাওয়ার (Myopia), ৬. চালশে (Presbyopia), ৭. ড্রাই আই, ৮. কর্নিয়াল আলসার, ৯. চোখের এ্যালার্জি, ১০. ঝাপসা দেখা, ১১. ট্যারা চোখ, ১২. কালার ব্লাইন্ডনেস, ১৩. চোখের প্রেসার, ১৪. চোখের অঞ্জনি, ১৫. রাতকানা।

🔴 নাক-কান-গলা (ENT)
১. সাইনোসাইটিস, ২. টনসিলাইটিস, ৩. শ্রবণশক্তি হ্রাস, ৪. কানে পুঁজ হওয়া, ৫. নাকে পলিপাস, ৬. কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন, ৭. ডিএনএস (হাড় বাঁকা), ৮. কানে তালা লাগা, ৯. কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, ১০. গলগণ্ড, ১১. ল্যারিঞ্জাইটিস, ১২. গলার ক্যান্সার, ১৩. নাকের এ্যালার্জি, ১৪. নাকে রক্ত পড়া, ১৫. অ্যাডিনয়েড সমস্যা।

🔴 নাক বিভাগ (Nose/Rhinology)
১. নাকে পলিপাস (Nasal Polyps), ২. সাইনোসাইটিস (Sinusitis), ৩. হাড় বাঁকা (DNS), ৪. নাকের এ্যালার্জি (Allergic Rhinitis), ৫. নাক দিয়ে রক্ত পড়া (Epistaxis), ৬. নাকে ঘ্রাণ না পাওয়া (Anosmia), ৭. নাকে ইনফেকশন (Vestibulitis), ৮. নাকের ভেতর টিউমার, ৯. রাইনোরিয়া (নাক দিয়ে পানি পড়া), ১০. নাকে বাইরের বস্তু আটকে যাওয়া, ১১. নাকের সর্দি (Chronic Coryza), ১২. ওজিনা (Atrophic Rhinitis), ১৩. নাকের ভেতরে ঘা বা আলসার, ১৪. নাকের হাড় বৃদ্ধি (Turbinate Hypertrophy), ১৫. নাকের ক্যান্সার।

🔴 কান বিভাগ (Ear/Otology)
১. কানে পুঁজ হওয়া (Otitis Media), ২. শ্রবণশক্তি হ্রাস (Hearing Loss), ৩. কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (Tinnitus), ৪. কানে তালা লাগা, ৫. কানের পর্দা ছিদ্র হওয়া, ৬. কানে খইল জমা (Ear Wax), ৭. কানের এ্যালার্জি বা চুলকানি, ৮. অটোমাইকোসিস (কানে ফাঙ্গাস), ৯. কান দিয়ে পানি পড়া (Otorrhoea), ১০. কানের ভেতরে টিউমার, ১১. কানের ব্যালেন্স সমস্যা (Vertigo), ১২. কানের ভেতর পোকা বা বস্তু ঢোকা, ১৩. অটস্ক্লেরোসিস (হাড় শক্ত হওয়া), ১৪. কানের লতি ফোলা, ১৫. মেনিয়ার্স ডিজিজ (Menier's Disease)।

🔴 গলা বিভাগ (Throat/Laryngology)
১. টনসিলাইটিস (Tonsillitis), ২. ল্যারিঞ্জাইটিস (কণ্ঠস্বরের প্রদাহ), ৩. গলার ক্যান্সার, ৪. থ্রোট ইনফেকশন (Pharyngitis), ৫. কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া (Hoarseness), ৬. গলার ভেতর গিলতে কষ্ট হওয়া (Dysphagia), ৭. অ্যাডিনয়েড সমস্যা, ৮. গলার ভেতরে আলসার বা ঘা, ৯. থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বড় হওয়া (Goiter), ১০. লিম্ফ নোড বা গ্ল্যান্ড ফোলা, ১১. স্ট্রেপ থ্রোট (Strep Throat), ১২. গলার ভেতর মাংসপিণ্ড বা টিউমার, ১৩. ভোকাল কর্ড নডিউল, ১৪. গলার ভেতরে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি (Globus), ১৫. স্লিপ অ্যাপনিয়া (নাক ডাকা ও শ্বাসকষ্ট)।

🔴 মুখ ও দাঁত (Oral & Face)
১. মুখের আলসার, ২. মাড়িতে রক্ত পড়া, ৩. দাঁত ক্ষয়, ৪. পাইওরিয়া, ৫. মুখের ক্যান্সার, ৬. দাঁতের শিরশিরানি, ७. জিহ্বায় ঘা, ৮. মুখে দুর্গন্ধ, ৯. মাড়ি ফোলা, ১০. চোয়ালের ব্যথা, ১১. লালা গ্রন্থির সমস্যা, ১২. ডেন্টাল ক্যারিস, ১৩. আক্কেল দাঁতের ব্যথা, ১৪. মুখের কালো দাগ, ১৫. ফেসিয়াল প্যারালাইসিস।

🔴 থাইরয়েড ও ঘাড় (Thyroid & Neck)
১. হাইপোথাইরয়েডিজম, ২. হাইপারথাইরয়েডিজম, ৩. গয়টার, ৪. থাইরয়েড নোডিউল, ৫. থাইরয়েড ক্যান্সার, ৬. ঘাড় ব্যথা, ৭. ঘাড় শক্ত হওয়া, ৮. লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি (গ্ল্যান্ড ফোলা), ৯. সারভাইকাল লিম্ফ্যাডেনাইটিস, ১০. হাশিমোটো রোগ, ১১. প্যারাথাইরয়েড সমস্যা, ১২. ঘাড়ের মাংসপেশি ফুলে যাওয়া, ১৩. থাইরয়েডাইটিস, ১৪. গ্র্যাভস ডিজিজ, ১৫. ঘাড়ের কশেরুকা ক্ষয়।

🔴 হার্ট ও কার্ডিওলজি (Heart/Cardiac)
১. হাই ব্লাড প্রেসার, ২. হার্ট অ্যাটাক, ৩. বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ, ৪. এএসডি (হার্টে ছিদ্র), ৫. ভিএসডি (হার্টে ছিদ্র), ৬. ভালভ ডিসঅর্ডার, ৭. হার্ট ফেইলর, ৮. অ্যারিথমিয়া (অনিয়মিত স্পন্দন), ৯. এনজাইনা (বুকে ব্যথা), ১০. কার্ডিওমায়োপ্যাথি, ১১. উচ্চ কোলেস্টেরল, ১২. হার্টের রক্তনালী ব্লক, ১৩. পেরিকার্ডাইটিস, ১৪. হার্ট এনলার্জমেন্ট, ১৫. ধমনীর সমস্যা।

🔴 ফুসফুস ও বক্ষব্যাধি (Lung & Chest)
১. অ্যাজমা (হাঁপানি), ২. ব্রঙ্কাইটিস, ৩. নিউমোনিয়া, ৪. যক্ষ্মা (TB), ৫. সিওপিডি (COPD), ৬. ফুসফুসে পানি জমা, ৭. ফুসফুসের ক্যান্সার, ৮. এমফাইসিমা, ৯. বুকে ইনফেকশন, ১০. দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ১১. সিস্টিক ফাইব্রোসিস, ১২. প্লুরিসি, ১৩. শ্বাসকষ্ট, ১৪. সারকয়ডোসিস, ১৫. পালমোনারি এমবোলিজম।

🔴 লিভার ও পিত্তথলি (Liver & Gallbladder)
১. হেপাটাইটিস এ/বি/সি, ২. লিভার সিরোসিস, ৩. ফ্যাটি লিভার, ৪. জন্ডিস, ৫. লিভার ক্যান্সার, ৬. পিত্তথলিতে পাথর, ৭. পিত্তথলির প্রদাহ, ৮. এসজিপিটি/এসজিওটি বৃদ্ধি, ৯. হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি, ১০. লিভারের সিস্ট, ১১. পিত্তনালীর সমস্যা, ১২. অটোইমিউন লিভার ডিজিজ, ১৩. লিভার অ্যাবসেস, ১৪. লিভারের রক্ত জমাট বাঁধা, ১৫. বিলিরুবিন বৃদ্ধি।

🔴 কিডনি ও নেফ্রোলজি (Kidney/CKD):
১. ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD), ২. নেফ্রোটিক সিনড্রোম, ৩. কিডনিতে পাথর, ৪. ইউরেমিয়া, ৫. কিডনি ফেইলর, ৬. ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি, ৭. কিডনি প্রদাহ (Nephritis), ৮. পলিসিস্টিক কিডনি, ৯. প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়া, ১০. হাইড্রোনেফ্রোসিস, ১১. ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি, ১২. কিডনি সিস্ট, ১৩. রেনাল আর্টারি স্টেনোসিস, ১৪. কিডনি ক্যান্সার, ১৫. অ্যাজোটেমিয়া।

🔴 ইউরোলজি (Urology)
১. প্রস্রাবে ইনফেকশন (UTI), ২. সিস্টাইটিস, ৩. প্রোস্টেট বৃদ্ধি (BPH), ৪. প্রোস্টেট ক্যান্সার, ৫. প্রস্রাব আটকে যাওয়া, ৬. প্রস্রাবে রক্ত আসা, ৭. মূত্রাশয়ে পাথর, ৮. বারবার প্রস্রাব হওয়া, ৯. মূত্রনালী সংকুচিত হওয়া, ১০. অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব, ১১. ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার, ১২. এপিডিডাইমাইটিস, ১৩. টেস্টিকুলার পেইন, ১৪. হাইড্রোসিল, ১৫. ভ্যারিকোসিল।

🔴 গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (Stomach & Esophagus)
১. গ্যাস্ট্রিক আলসার, ২. এসিডিটি, ৩. অম্বল (GERD), ৪. ডিওডেনাল আলসার, ৫. খাদ্যনালীর প্রদাহ, ৬. রক্তবমি, ৭. পেট ফাঁপা, ৮. ডিসপ্যাপসিয়া, ৯. পাকস্থলীর ক্যান্সার, ১০. হাইটাল হার্নিয়া, ১১. খাদ্য গিলতে কষ্ট, ১২. পেটের গ্যাস, ১৩. দীর্ঘস্থায়ী পেট ব্যথা, ১৪. অরুচি, ১৫. পেটের আলসার।

🔴 অন্ত্রের রোগ (IBS/IBD/Intestine):
১. আইবিএস (IBS), ২. আইবিডি (IBD), ৩. ক্রোনস ডিজিজ, ৪. আলসারেটিভ কোলাইটিস, ৫. দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, ৬. কোষ্ঠকাঠিন্য, ৭. ওডিএস (ODS), ৮. পাইলস, ৯. এনাল ফিশার, ১০. ফিস্টুলা, ১১. অ্যাপেন্ডিসাইটিস, ১২. মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া, ১৩. মলাশয়ের ক্যান্সার, ১৪. অন্ত্রে কৃমি, ১৫. পেটের কৃমিজনিত সমস্যা।

🔴 অগ্ন্যাশয় ও প্লীহা (Pancreas & Spleen)
১. প্যানক্রিয়াটাইটিস (প্রদাহ), ২. প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, ৩. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ৪. প্লীহা বড় হওয়া (Splenomegaly), ৫. হাইপারস্প্লেনিজম, ৬. অগ্ন্যাশয়ে সিস্ট, ৭. ডাইজেস্টিভ এনজাইম ঘাটতি, ৮. থ্যালাসেমিয়াজনিত প্লীহা সমস্যা, ৯. প্যানক্রিয়াটিক স্টোন, ১০. ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস, ১১. অগ্ন্যাশয়ের রক্তপাত, ১২. দীর্ঘস্থায়ী অগ্ন্যাশয় ব্যথা, ১৩. প্যানক্রিয়াটিক ইনসাফিসিয়েন্সি, ১৪. প্লীহা ইনফার্কশন, ১৫. হেরিডিটারি স্পেরোসাইটোসিস।

🔴 ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজম (Diabetes)
১. টাইপ-১ ডায়াবেটিস, ২. টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ৩. প্রি-ডায়াবেটিস, ৪. মেটাবলিক সিনড্রোম, ৫. ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস, ৬. হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ৭. পায়ের আলসার (ডায়াবেটিক ফুট), ৮. ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, ৯. ইনসুলিন শক, ১০. গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, ১১. হরমোন জনিত স্থূলতা, ১২. খনিজ লবণের ভারসাম্যহীনতা, ১৩. ফ্যাটি এসিড মেটাবলিজম সমস্যা, ১৪. গ্লাইকোসুরিয়া, ১৫. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।

🔴 চর্মরোগ (Skin/Dermatology)*
১. একজিমা, ২. সোরিয়াসিস, ৩. শ্বেতী (Vitiligo), ৪. ব্রণ (Acne), ৫. চুলকানি/দাদ, ৬. খুশকি, ৭. তিল/আঁচিল, ৮. স্কিন ক্যান্সার, ৯. ছুলি, ১০. হাত-পা ফাটা, ১১. আমবাত (Urticaria), ১২. মাথার চুল পড়া, ১৩. নখের ফাঙ্গাস, ১৪. কুষ্ঠ রোগ, ১৫. রোসেসিয়া।

🔴 এ্যালার্জি ও ইমিউনোলজি (Allergy):
১. হাইপার-IgE সিনড্রোম, ২. ডাস্ট এ্যালার্জি, ৩. ফুড এ্যালার্জি, ৪. এ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ৫. ড্রাগ এ্যালার্জি, ৬. কোল্ড এ্যালার্জি, ৭. পোকা-মাকড়ের কামড়ে এ্যালার্জি, ৮. এনাফিলাক্সিস, ৯. চোখের এ্যালার্জি, ১০. ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা, ১১. এলার্জিক অ্যাজমা, ১২. কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস, ১৩. আর্টিকেরিয়া, ১৪. দীর্ঘস্থায়ী হাঁচি, ১৫. সিজনাল এ্যালার্জি।

🔴 অটোইমিউন ডিজিজ (Autoimmune):
১. লুপাস (SLE), ২. সিজোয়েন সিনড্রোম, ৩. স্ক্লেরোডার্মা, ৪. সিলিয়াক ডিজিজ, ৫. পারনিশাস অ্যানিমিয়া, ৬. মাইসথেনিয়া গ্র্যাভিস, ৭. ভাসকুলাইটিস, ৮. অটোইমিউন থাইরয়েডাইটিস, ৯. পলিমায়োসাইটিস, ১০. গুয়াইন-ব্যারে সিনড্রোম, ১১. বুল্লস পেমফিগয়েড, ১২. ডার্মাটোমায়োসাইটিস, ১৩. অটোইমিউন হেপাটাইটিস, ১৪. রিউম্যাটিক পলি-মায়ালজিয়া, ১৫. সারকয়ডোসিস।

🔴 স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি (Gyne & Obs):
১. পিসিওএস (PCOS), ২. লিকোরিয়া (সাদাস্রাব), ৩. অনিয়মিত পিরিয়ড, ৪. জরায়ু টিউমার (Fibroid), ৫. জরায়ু ক্যান্সার, ৬. ওভারিয়ান সিস্ট, ৭. এন্ডোমেট্রিওসিস, ৮. মাসিকের ব্যথা (Dysmenorrhea), ৯. গর্ভাবস্থায় জটিলতা, ১০. মেনোপজ সমস্যা, ১১. পেলভিক পেইন, ১২. জরায়ু নেমে আসা, ১৩. ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন, ১৪. পিআইডি (PID), ১৫. স্তন টিউমার।

🔴 বন্ধ্যাত্ব ও প্রজনন (Infertility):
১. নারী বন্ধ্যাত্ব, ২. পুরুষ বন্ধ্যাত্ব, ৩. ওভুলেশন সমস্যা, ৪. ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক, ৫. লো স্পার্ম কাউন্ট, ৬. বীর্যে শুক্রাণু না থাকা, ৭. দুর্বল শুক্রাণু, ৮. হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা, ৯. বারবার গর্ভপাত, ১০. সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব, ১১. ডিম্বাশয় রিজার্ভ কমে যাওয়া, ১২. জরায়ুর জন্মগত ত্রুটি, ১৩. অ্যান্টি-স্পার্ম অ্যান্টিবডি, ১৪. প্রোল্যাকটিন আধিক্য, ১৫. ইমপ্লান্টেশন ফেইলর।

🔴 যৌন রোগ ও অক্ষমতা (Sexual Disorder):
১. দ্রুত বীর্যপাত, ২. যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, ৩. ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, ৪. সিফিলিস, ৫. গনোরিয়া, ৬. যৌনাঙ্গে ঘা, ৭. হার্পিস, ৮. এইচআইভি/এইডস, ৯. ক্ল্যামাইডিয়া, ১০. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া (যৌন রোগজনিত), ১১. সঙ্গমে ব্যথা, ১২. যৌনাঙ্গে চুলকানি, ১৩. সেক্সুয়াল ট্রমা, ১৪. স্বপ্নদোষ (অতিরিক্ত), ১৫. প্রোস্টাটাইটিস।

🔴 পুরুষ প্রজনন স্বাস্থ্য (Andrology):
১. অলিগোস্পার্মিয়া, ২. অ্যাস্থেনোজোস্পার্মিয়া, ৩. অ্যাজোস্পার্মিয়া, ৪. টেস্টিকুলার এট্রোফি, ৫. ভ্যারিকোসিল জনিত ব্যথা, ৬. অন্ডকোষের প্রদাহ, ৭. টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়া, ৮. লিঙ্গ বক্রতা (Peyronie's), ৯. বীর্যে পুঁজ আসা, ১০. শুক্রাণুর অস্বাভাবিক গঠন, ১১. স্বপ্নদোষ পরবর্তী দুর্বলতা, ১২. সিমেন কালচার ইনফেকশন, ১৩. হাইপোগোনাডিজম, ১৪. প্রজননতন্ত্রের সিস্ট, ১৫. পুরুষ স্তন বৃদ্ধি (Gynecomastia)।

🔴 আর্থ্রাইটিস ও গেঁটে বাত (Arthritis)
১. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ২. অস্টিওআর্থ্রাইটিস, ৩. গেঁটে বাত (Gout), ৪. ইউরিক এসিড বৃদ্ধি, ৫. জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা, ৬. হাড়ের গিঁট ফোলা, ৭. সকালবেলা শরীর শক্ত হওয়া, ৮. লুপাস আর্থ্রাইটিস, ৯. সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, ১০. জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস, ১১. স্পন্ডিলাইটিস, ১২. বার্সাইটিস, ১৩. টেন্ডিনাইটিস, ১৪. হাড়ের ঘর্ষণজনিত ব্যথা, ১৫. জয়েন্ট লকিং।

🔴 হাড় ও অর্থোপেডিক্স (Bone & Orthopedic) :
১. হাড়ের ক্ষয় (Osteoporosis), ২. হাড়ের ইনফেকশন (Osteomyelitis), ৩. হাড় ভাঙা (Fracture), ৪. হাড়ের ক্যান্সার, ৫. ভিটামিন ডি এর অভাব, ৬. রিকেটস, ৭. হাড়ের বিকৃতি, ৮. হিল স্পার (গোড়ালি ব্যথা), ৯. স্পাইনাল স্টেনোসিস, ১০. ডিস্ক প্রোল্যাপস (PLID), ১১. লিগামেন্ট টিয়ার, ১২. ফ্রোজেন শোল্ডার, ১৩. টেনিস এলবো, ১৪. কার্পাল টানেল সিনড্রোম, ১৫. অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস।

🔴 কোমর, ঘাড় ও জয়েন্ট ব্যথা (Pain Management)
১. সারভাইকাল স্পন্ডাইলোসিস, ২. লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, ৩. হাঁটু ব্যথা, ৪. কোমর ব্যথা, ৫. মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়া, ৬. দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথা, ৭. মাংসপেশির খিঁচুনি, ৮. নার্ভ কম্প্রেশন ব্যথা, ৯. টেল বোন বা লেজ হাড়ের ব্যথা (Coccyx pain), ১০. ইনজুরি পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ১১. জয়েন্টে পানি জমা, ১২. পায়ের তলায় ব্যথা, ১৩. নিতম্বে ব্যথা, ১৪. ঘাড় থেকে হাতে নামা ব্যথা, ১৫. প্যালিয়েটিভ পেইন ম্যানেজমেন্ট।

🔴 রক্তরোগ (Hematology) :
১. রক্তস্বল্পতা (Anemia), ২. থ্যালাসেমিয়া, ৩. ব্লাড ক্যান্সার (Leukemia), ৪. প্লাটিলেট কমে যাওয়া, ৫. রক্তে ইনফেকশন (Sepsis), ৬. হিমোফিলিয়া, ৭. লিম্ফোমা, ৮. বোন ম্যারো ফেইলর, ৯. আয়রনের অভাব, ১০. অতিরিক্ত আয়রন (Hemochromatosis), ১১. রক্তের গ্রুপ অসঙ্গতি, ১২. পলিসাইথেমিয়া, ১৩. ভিটামিন বি-১২ অভাবজনিত রক্তাল্পতা, ১৪. আইটিপি (ITP), ১৫. মাল্টিপল মায়লোমা।

🔴 ক্যান্সার কেয়ার (Cancer Care) :
১. ব্রেস্ট ক্যান্সার, ২. ফুসফুসের ক্যান্সার, ৩. কোলন ক্যান্সার, ৪. ব্লাড ক্যান্সার, ৫. প্রোস্টেট ক্যান্সার, ৬. লিভার ক্যান্সার, ৭. জরায়ু ক্যান্সার, ৮. থ্রোট ক্যান্সার, ৯. ওরাল ক্যান্সার, ১০. স্কিন ক্যান্সার, ১১. হাড়ের ক্যান্সার, ১২. ব্রেইন টিউমার, ১৩. প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, ১৪. স্টমাক ক্যান্সার, ১৫. লিম্ফ নোড ক্যান্সার।

🔴 বিশেষায়িত ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ (Chronic & Special Care) : ১. ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম, ২. ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া (Sleep Apnea), ৩. বাতজ্বর (Rheumatic Fever), ৪. স্থূলতা (Obesity), ৫. অপুষ্টিজনিত রোগ, ৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারানো, ৭. অজানা জ্বর (Pyrexia of Unknown Origin), ৮. অকাল বার্ধক্য, ৯. ড্রাগ অ্যাডিকশন রিকভারি, ১০. এনভায়রনমেন্টাল ইলনেস, ১১. ক্রনিক ইনফ্লামেশন, ১২. মাল্টি-সিস্টেম ডিসঅর্ডার, ১৩. হরমোনাল ইমব্যালেন্স, ১৪. প্যাথলজিতে ধরা না পড়া বিশেষ জটিলতা, ১৫. মেটাবলিক টক্সিসিটি।

কর্কট-উপাখ্যান (ক্যানসার)২৩ বছর বয়সে হঠাৎ বিনা নোটিশে ক্যান্সার ধরা পড়লে আসলে কেমন রিএকশন হওয়া উচিত?ঘটনা আমার বুয়েটের ৩-...
15/03/2026

কর্কট-উপাখ্যান (ক্যানসার)

২৩ বছর বয়সে হঠাৎ বিনা নোটিশে ক্যান্সার ধরা পড়লে আসলে কেমন রিএকশন হওয়া উচিত?

ঘটনা আমার বুয়েটের ৩-১ সেমিস্টার চলাকালীন। আগস্টের শুরুতে আমার শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিল। তেমন বড় কিছু না। বদহজম, পেটব্যথা, অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া। স্বাভাবিকভাবেই আমি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া শুরু করলাম। তখন পরীক্ষা প্রস্তুতির ছুটি চলছিল। আগস্টের ২৪ তারিখ থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। যাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিগুলোর পড়াশুনার সিস্টেম সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে তাদের জানার কথা যে পরীক্ষা প্রস্তুতির ছুটি পড়াশুনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। পুরো টার্মের সিলেবাস ২-৩ সপ্তাহের ছুটিতে কমপ্লিট করা লাগে, বিশেষত আমার মত ফাঁকিবাজ ছাত্রদের যারা পুরো টার্মজুড়ে খুব কমই পড়াশুনা করেছে। আমি পরীক্ষার আগে এক উটকো ঝামেলায় পড়ে গেলাম।

প্রায় ২ সপ্তাহ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে কোনো কাজ হলো না। ভাগ্যক্রমে আমার বড় বোন ও দুলাভাই দুজনই ডাক্তার। আমি সে দুজন বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হলাম। তারা আমাকে বলল এইচ পাইলোরি এন্টিবডি, বিলিরুবিন আর আল্ট্রাসনোগ্রাম টেস্ট করাতে। মেডিকেল সায়েন্স সম্পর্কে অজ্ঞ আমি ভাবতাম আল্ট্রাসনোগ্রাম কেবল গর্ভবতী মহিলারাই করায়। আমাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম কেন করতে দিল বুঝলাম না। BSMMU তে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্টগুলো করাতে পারলাম। বিলিরুবিনের রিপোর্ট ঠিকঠাক আসলো। এইচ পাইলোরি এন্টিবডি পজিটিভ আসলো। যার অর্থ আমার শরীরে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক এক জীবাণু আছে। এই জীবাণু পাকস্থলীর মিউকাস লেয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একারণে পেটে জ্বালা, বদহজম ইত্যাদি হয় যাকে গ্যাস্ট্রাইটিস বলে। এর ফলে পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপুর কাছে থেকে জানতে পারলাম এটা বড় কোনো সমস্যা না। দু সপ্তাহ কিছু এন্টিবায়োটিক ও PPI খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।

আল্ট্রাসনোগ্রামের সময় ডাক্তারের ভাবসাব ভালো ঠেকলো না। তিনি যেন বেশ কনফিউজড। টেস্ট শেষে ডাক্তার কনফিউশনের সাথেই জানালেন আমার প্লিউরাল ইফিউশন আর অ্যাসাইটিস আছে।

দুইটার কোনোটা সম্পর্কেই আমার বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা ছিল না। তবে দ্রুত নাম দুটো মুখস্থ করে নিলাম। আপুকে জানাতে হবে। আপুকে ফোনে জানালে সে যারপরনাই অবাক হলো। আমাকে জানালো প্রস্তুত থাকতে। আরো অনেক টেস্ট করা লাগবে।

মহা মসিবত! কয়েকদিন পর আমার পরীক্ষা। এখন এসব করার সময় আছে! এই টেস্টগুলোই আমি অনেক অনিচ্ছা নিয়ে করাতে এসেছি। তবে আপুর কণ্ঠ বেশ সিরিয়াস মনে হলো। অজ্ঞের বন্ধু চ্যাটজিপিটি। আমি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করলাম এই রোগদুটো আসলে কি। জানতে পারলাম, দুটো রোগই আসলে পানি জমার অপর নাম। একটা ফুসফুসে পানি জমা। আরেকটা অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে পানি জমা। আমার দু'জাগাতেই পানি জমেছে। চ্যাটজিপিটি আরো জানালো এই বয়সে এগুলো হওয়া টিউবারকিউলোসিস বা যক্ষ্মা হওয়ার লক্ষ্মণ।

আমার যতদূর জানা ছিল যক্ষ্মা হচ্ছে ফুসফুসের রোগ। তো যক্ষ্মা হলে ফুসফুসে পানি জমতে পারে, অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে কেন পানি জমবে?
পরে জানতে পারলাম যক্ষ্মা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বছরের শুরুতে আমার রুমমেটের যক্ষ্মা হয়েছিল। যেহেতু যক্ষ্মা ইনফেকশাস ও যক্ষ্মার জীবাণু শরীরে বহুদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে, আমার যক্ষ্মা হওয়া অস্বাভাবিক না।

আমি ইউটিউবে যক্ষ্মা নিয়ে ভিডিও দেখা শুরু করলাম। জানতে পারলাম যক্ষ্মা হচ্ছে 'the deadliest infectious disease of all time'. এমনকি ২০২২ সালে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধে বিশ্বে মোট যতজন মারা গেছে, কেবল যক্ষ্মায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। তবে সেটা অধিকাংশই দরিদ্র এলাকায় প্রোপার ট্রিটমেন্ট না পাওয়া, ঠিকমতো ডায়াগনোসিস না হওয়া বা ডায়াগনোসিস হলেও ডাক্তারের কথামতো ওষুধ না খাওয়ার কারণে।

ছোটবেলা থেকেই সুরযুক্ত কণ্ঠে 'যক্ষ্মা ভালো হয়' ক্যাম্পেইন শুনে আসা আমি জানতাম যক্ষ্মা কিউরেবল। চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। কিন্তু আদৌ আমার যক্ষ্মা হয়েছে কিনা সেটা আগে জানতে হবে।

আমি ঢাকার এক কর্পোরেট হাসপাতালে এক gastroenterologist কে দেখালাম। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে তার নাম ধরে নিন 'রহিম'। রহিম সাহেব আমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া বাদ দিতে বললেন। তার ধারণা ছিল অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার কারণে বদহজম বেশি হচ্ছে। পাকস্থলীতে খাবার জীর্ণ করার জন্য যথেষ্ট এসিড থাকছে না। তিনি আমাকে বললেন এক সপ্তাহ পর সিটি স্ক্যান করতে। এক সপ্তাহ ডিলে করার ফজিলত আমার বোধগম্য হলো না। তবে আমি ডাক্তার না। তাই কিছু বললাম না।

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বন্ধ করে আমার রোগের উপসর্গ আরো প্রকট হয়ে দেখা দিল। আমি এক সপ্তাহ পেরোনোর আগেই আবার রহিম সাহেবের শরণাপন্ন হলাম। রহিম সাহেব অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত সিটি স্ক্যান করাতে বললেন।

সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেল আমার পেরিটোনিয়ামে (পেটের ভিতরের পর্দায়) ছোট ছোট গুটি দেখা যাচ্ছে। পাকস্থলির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে গ্যাস্ট্রাইটিস আছে। যেটা আগের এন্টিবডি টেস্টেই বোঝা গেছিল। সিটি স্ক্যানের ডাক্তার বললেন গ্যাস্ট্রাইটিস কনফার্ম হওয়ার জন্য এন্ডোস্কপি করতে।

তবে রহিম সাহেব এন্ডোস্কপি করতে রাজি হলেন না। তিনি বেশি চিন্তিত ছিলেন পেরিটোনিয়ামের গুটি নিয়ে। তিনিও চ্যাটজিপিটির মত সন্দেহ করলেন আমার যক্ষ্মা হয়েছে। পাকস্থলীর এই অবস্থা যক্ষ্মার কারণেও হওয়া সম্ভব। তিনি সরাসরি বায়োপসি করাতে বললেন যাতে যক্ষ্মা কনফার্ম করা যায়।

আমার অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে লাগলো। একসময় অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে কিছুই খেতে পারি না। যা খাই কিছু সময় পর বমি হয়ে যায়। আমাকে তরল খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলো। তাতেও একই ফলাফল হলো। পানিও খেতে পারতাম না।

বায়োপসি যে ডাক্তার করলেন তিনি বেশ অভিজ্ঞ লোক। বায়োপসির পরে তিনি বললেন, দেখে মনে হচ্ছে যক্ষ্মাই হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর সকালে আমাকে জানানো হলো আমার আসলে যক্ষ্মা না, ক্যান্সার হয়েছে। বায়োপসি রিপোর্ট গতকাল রাতেই এসেছিল। আমাকে জানানো হয়েছে পরে।

ডায়াগনোসিস শুনে প্রথম যে চিন্তাটা আমার মাথায় আসলো, "আয়হায়! ক্যান্সার হলে পরীক্ষা কিভাবে দেব?"

ফ্রাঞ্জ কাফকার মেটামরফোসিস গল্পের মূল চরিত্র গ্রেগর সামসা এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে সে একটা পোকায় পরিণত হয়ে গেছে। পোকায় পরিণত হওয়ার পর তার রিএকশন হচ্ছে,
"আয়হায়! কি হলো আমার? আমার তো সকালের ট্রেন ধরতে হবে।" চাকরি বাঁচানোর চিন্তা তার কাছে পোকা হয়ে যাওয়ার চিন্তার চেয়ে বড় হয়ে গেল।

পড়াশুনা ও চাকরির দুশ্চিন্তা আমাদেরকে মাঝে মাঝে এমনভাবে ডিহিউম্যানাইজ করে ফেলে যে পোকায় পরিণত হওয়া বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া যেন ছোট এক উটকো সমস্যা মনে হয়।

যাই হোক, ক্যান্সার কোন স্টেজে আছে এটা আমাকে জানানো হলো না। আমি ভাবলাম হয়ত আরো টেস্ট করার পর জানা যাবে। বলদের মত অন্যদেরকেও বললাম, কোন স্টেজের ক্যান্সার এটা এখনো জানা যায়নি।

আমি এতটুকু জানতাম যে বায়োপসিতে আমার স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে পেরিটোনিয়াম থেকে। ক্যান্সার সেখানেই ধরা পড়েছে। ইন্টারনেট ঘেটে যতটুকু জানলাম, পেরিটোনিয়ামে সাধারণত ক্যান্সার হয় না। পেরিটোনিয়ামে ক্যান্সার কোষ পাওয়ার অর্থ হলো ক্যান্সার মূল উৎস থেকে ছড়িয়ে গেছে। আর মূল উৎস থেকে ছড়িয়ে গেলেই সে ক্যান্সারকে স্টেইজ ফোর ক্যান্সার ধরা হয়। এই স্টেজের ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য নয়।

আমার রোগ সম্পর্কে কিছু স্ট্যাটিস্টিক্সও দেখলাম। কেমো নিলে সাধারণত পেশেন্টরা সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় বছর সার্ভাইভ করে। না নিলে করে কয়েক মাসের মত। কেমো নিয়ে ১ বছর সার্ভাইভ করার সম্ভাবনা ১৫-২৫%।

কিছু ক্ষেত্রে কেমো নিয়ে টিউমারগুলোকে ছোট করে ফেলা যায়। এরপর সার্জারির মাধ্যমে টিউমার ছড়িয়ে যাওয়া অংশকে কেটে ফেললে পেশেন্টরা কোনো কোনো সময় ৫ বছর বা তার বেশিও বাঁচে।

সোজা কথায় আমার হাতে খুব বেশি সময় নেই।

লেখক হুমায়ূন আহমেদেরও ক্যান্সার হয়েছিল। কোলন ক্যান্সার। স্টেইজ ফোর। তিনি প্রথমে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মেমোরিয়াল স্লোয়ানকে ধরা হয় ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বিশ্বের সেরা হাসপাতাল।

তার নিজের বক্তব্যে একটা ঘটনা উল্লেখ করলাম। ঘটনাটি তিনি যখন মেমোরিয়াল স্লোয়ানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখনকার।

"আমার ডাক্তারের নাম স্টিফান আর ভেচ। দীর্ঘদেহী সুস্বাস্থ্যের বয়স্ক একজন মানুষ। খানিকটা গম্ভীর। ভুরু কুঁচকানো। তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের সব কাগজপত্র পরীক্ষা করলেন। ওই হাসপাতাল থেকে মূল স্লাইড তলব করলেন।

আমি একসময় বললাম, আমার ক্যানসার কোন পর্যায়ের?
ডাক্তার বলেন, চতুর্থ পর্যায়ের। ক্যানসার যখন মূল কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমরা তাকে বলি চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার।

আমি ভীত গলায় বললাম, ডাক্তার, আমি কি মারা যাচ্ছি?

ডাক্তার ভেচ নির্বিকার গলায় বললেন, হ্যাঁ।

শাওনের দিকে তাকিয়ে দেখি, সে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। আমি ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম।

মারা গেলে করার তো কিছু নেই। que sera sera.

ডাক্তার ভেচ হঠাৎই আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, তুমি একা তো মারা যাচ্ছ না। আমরা সবাই মারা যাচ্ছি।"

আসলেই আমরা সবাই মারা যাচ্ছি। দ্য কাউন্টডাউন ইজ অন।

আমার হাতে যে বেশি সময় নেই - এতে আমার তেমন আফসোস নেই। ক্ষুদ্র ২৩ বছরের এই জীবনে আমার জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তেমন ভালো না। এই কারণে আমি কখনো আল্লাহর কাছে দীর্ঘ জীবনের দুয়া করিনি।

অধিকাংশ মানুষ জন্মায়, পড়াশুনা করে, জীবিকা নির্বাহ করে, বিয়েশাদি করে, বাচ্চা পয়দা করে, একসময় বুড়ো হয়ে রিটায়ার করে। এরপর বিভিন্ন রোগ শোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। লাইফের এই টেমপ্লেটটা আমার বেশ অপছন্দ। জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো বড় কিছু করার তাড়না নেই। স্রেফ নিজে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা। পশুর জীবনের সাথে তেমন কোনো তফাত নেই।

এই টেমপ্লেটকে গুল্লি মেরে অনেকেই জীবনে বড় কিছু করতে পারেন। তাদের কাজের প্রভাব থেকে যায় পৃথিবীতে। অর্থপূর্ণ জীবন। স্রেফ নিজে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা না। পৃথিবীতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

তবে দিন যত যাচ্ছিল, ততই আমার মনে হচ্ছিল যে পশুসম জীবনকে আমি অপছন্দ করি, আমাকে যেন সে জীবনই আষ্টেপৃষ্টে ধরছে। ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড়ে আমি এক ক্লান্ত ইঁদুর হয়ে পড়েছি।

এছাড়া আমার বার্ধক্যভীতি আছে। দুর্বল শরীরে অথর্ব হয়ে পড়ে থেকে কষ্ট পাওয়া লাগে।

সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, যৌবনে কোনো মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া হয়ত তেমন খারাপ কিছু না। তবে এই চিন্তাধারায় কিছুটা স্বার্থপরতা আছে। অযোগ্য হয়েও আমি দুনিয়াতে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। আমি মারা গেলে তারা কষ্ট পাবেন। আমার তেমন কষ্ট হবে না। আমি তো মরেই যাব। হা হা। কবরে মনে হয় না মৃত ব্যক্তিরা দুনিয়ার মানুষদেরকে মিস করে।

তবে আমার একমাত্র ভাগ্নেটার কথা ভেবে মাঝেমধ্যে খারাপ লাগে। বেচারার খালা-ফুপু-চাচা কিছুই নেই। একটা মাত্র মামা আছে। সেটাও বোধ হয় বেশিদিন থাকবে না। চার বছর বয়সের বাচ্চাটা জানে না তার মামার কী হয়েছে। তাও সে প্রতিদিন তার মামার জন্য দুয়া করে "আল্লাহ! আমার মামাকে সুস্থ করে দাও।" কঠোর হৃদয়ের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমার চোখে পানি চলে আসে। সে অশ্রু লুকাতে বেগ পেতে হয়।

ক্যান্সার ডায়াগনোসিস হওয়ার দিন সন্ধ্যায় আমার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, বড় ভাইরা দেখা করতে আসলো। বাসার পরিবেশে এক উৎসবমুখর ভাব চলে আসলো। দেখে মনেই হয় না সবাই এক ক্যান্সার পেশেন্টকে দেখতে এসেছে।

পরেরদিন আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো অনকোলজিস্টের কাছে। নাম ধরে নিন করিম। করিম সাহেব বললেন, আমরা যা করতে পারি করব। তবে আমাদের হাতে সবকিছু নেই। বাকিটা আল্লাহর হাতে।

মনে মনে বললাম, আপনার হাতে কিছুই নেই। সবই আল্লাহর হাতে।

করিম সাহেব বললেন, ক্যান্সারের মূল উৎস বের করতে হবে। এজন্য এন্ডোস্কপি করা লাগবে।

এন্ডোস্কপি করার জন্য আমরা আবার গেলাম রহিম সাহেবের কাছে। রহিম সাহেব কিছুটা বিব্রত। উনার প্রাইমারি ডায়াগনোসিস ভুল হয়েছে। প্রথমে তাকে যখন এন্ডোস্কপি করতে বলা হয়, তখন তিনি রাজি হননি। তবে এবার করতে হবে।

এন্ডোস্কপির আগে আমাকে বেডে শুইয়ে দেওয়া হলো। রহিম সাহেবের অপেক্ষা করছি, ভদ্রলোক আসার নামগন্ধ নেই। অন্য একজন ডাক্তার আসলেন। জিজ্ঞেস করলেন, হাঁপানি, এলার্জি, ডায়াবেটিস এসবের কিছু আছে?
আমি বললাম, না।
তিনি মজার ছলে বললেন, এসব না থাকলে আছেটা কি?
আমি বললাম, ক্যান্সার।

ভদ্রলোক আমার উত্তরে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। আমাকে ঘুমের দোয়া পড়তে বলে তিনি ঘুমের ওষুধ আর কেটামিন ইঞ্জেকশন দিলেন। বিভিন্ন বইপত্র পড়ে হাইস্কুলে আমার মনে সাইকাডেলিক ড্রাগ নেওয়ার ইচ্ছা জন্মায়। সে ইচ্ছা অবশেষে পূরণ হলো। ঘুমের মধ্যেই কেটামিনের প্রভাবে প্রবল হ্যালুসিনেশন হতে লাগলো। ঘুমের ঘোরে দেখলাম রঙিন দুনিয়ায় আমি উড়ে বেড়াচ্ছি।

ঘুম ভাঙলে জানতে পারলাম এন্ডোস্কপি শেষ। এন্ডোস্কপির রিপোর্টে জানা গেল আমার ক্যান্সারের মূল উৎস পাকস্থলীতে।

কলেজ লাইফে একটা গল্প লেখার আইডিয়া এসেছিল। মূল চরিত্র পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত এক যুবক। অবশেষে আমিই আমার গল্পের মূল চরিত্র হয়ে গেলাম। আমার প্রতিটা পদক্ষেপ এখন সেই উপন্যাসের একেকটা লাইন।

আমার অনকোলজিস্ট করিম সাহেব কেমোথেরাপি শুরু করতে বললেন। কেমোর সবচেয়ে টক্সিক
অথচ সবচেয়ে কার্যকরী রেজিমেন আমাকে দেওয়া হলো। কেমো নিয়ে আমার অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে উঠলো।
কিচ্ছু খেতে পারি না। বমি হয়ে যায়। মুখে হলো ভয়াবহ ঘা। কথাও বলতে পারি না ঠিকমতো। আরো ভয়াবহ ব্যাপার ধরা পড়লো ব্লাড টেস্টে। কেমোর সুবাদে আমার দেহের শ্বেত রক্তকণিকা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। অবস্থা এমন যে এতেই আমার মৃত্যু হতে পারে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আমাকে ভর্তি করা হলো হাসপাতালে। দেখা গেলো কেমোর চেয়ে কেমোর সাইড এফেক্ট সারানো বেশি ব্যয়বহুল।

ডাক্তার ভেবেছিলেন আমার যুবক দেহ হয়ত এই টক্সিক রেজিমেন সহ্য করে নিতে পারবে। He was sorely mistaken. অগত্যা রেজিমেন সুইচ করে আমার দ্বিতীয় কেমো তুলনামূলক দুর্বল রেজিমেনে দেওয়া হলো। কেমোতে বেশ উপকার হলো। দ্বিতীয় কেমো নেওয়ার পর দেখা গেল বমি বমি ভাব কম। খেতে পারি মোটামুটি। কেবল শরীরটা একটু দুর্বল থাকে।

আমার মা-বাবা কিছুতেই মানতে রাজি হলেন না যে তাদের পুত্র এই মারণব্যাধিতে আক্রান্ত। তারা সন্দেহ করলেন নিশ্চয়ই দেশের ডাক্তারদের ডায়াগনোসিসে ভুল আছে। আত্মীয়স্বজনরা সায় দিল। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর কিছুতেই ভরসা করা যায় না। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

ক্যান্সারের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। তার ওপর বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানো তো অসম্ভব। তবে সে বিষয়ে বেশি চিন্তা করা লাগলো না। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবরা মিলে ফান্ড রেইজ করে দুই দিনের মধ্যে যথেষ্ট অর্থ যোগাড় করে ফেললো। আমার এত শুভাকাঙ্ক্ষী দুনিয়াতে আছে আমার জানা ছিল না। তাদের সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।

যাইহোক, ক্যান্সার একদিক দিয়ে শাপে বর হলো। কেমো দেওয়ার পর শরীর একটু স্টেবল হলে জীবনে কখনো দেশের বাইরে পা না দেওয়া আমি উড়াল দিলাম চেন্নাইয়ে৷ সফরসঙ্গী আমার বৃদ্ধ বাবা-মা। চিকিৎসার ব্যাপারে আমার আগ্রহ কম ছিল। আমি আগ্রহী ছিলাম বিদেশ ভ্রমণে।

চেন্নাইয়ে গিয়ে হোটেলে থাকা শুরু করলাম। সমস্যা বাঁধলো খাবার নিয়ে। চেন্নাইয়ের রন্ধনপ্রণালী আমার মনঃপূত হলো না। সব খাবারেই একটা কটু গন্ধ। অগত্যা বাইরে খাওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হলো। হোটেল ছেড়ে বাসা ভাড়া করা হলো। রান্নার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হলো। আম্মুর ওপর পড়লো রান্নার গুরুদায়িত্ব।

চেন্নাইয়ের Apollo Proton Cancer Center এ গেলাম চিকিৎসার জন্য। আমার অনকোলজিস্টের নাম সুজিত কুমার মুলাপালি। অমায়িক ব্যক্তি। প্রথম সাক্ষাতেই আমাদের ২০ মিনিট আলাপ হলো। বলা বাহুল্য, ভদ্রলোক ইংলিশে ফ্লুয়েন্ট। অ্যাকসেন্টও বোঝা যায়। তার সাথে আলাপ করতে আমার তেমন সমস্যা হলো না। ডাক্তার আমাকে বললেন FAPI PET CT Scan নামক টেস্ট করাতে (এই টেস্ট বাংলাদেশে হয় না)। রিপোর্ট থেকে জানা গেল পাকস্থলী ও পেরিটোনিয়াম ছাড়াও লিম্ফ নোডেও ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে ডাক্তার ট্রিটমেন্টের ধারা তেমন পরিবর্তন করলেন না। একই ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যেতে বললেন। আরো ৩ সাইকেল কেমো নেওয়ার পর আরেকবার স্ক্যান করতে বললেন। দেশে ফিরে আমি তাই করলাম।

লাস্ট কেমো নেওয়ার পর আবার শরীর খারাপ হতে শুরু করল। ক্ষুধা কমতে কমতে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে এখন যে কিছুই খেতে পারি না। বমি আবার নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।

ডাক্তারের কথামতো আবার PET Scan করা হলো। (FAPI PET Scan করতে পারলে ভালো হত কিন্তু তা দেশে হয় না) স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেল ক্যান্সার আর স্প্রেড করেনি। তবে আবার অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে পানি জমেছে। যার কারণেই সাম্প্রতিক বমি হওয়া আর ক্ষুধা না থাকা।

এর অর্থ কি কেমো কাজ করছে না? আমি জানি না। ডাক্তার দেখাতে হবে।

আমি এখন এমন পর্যায়ে আছি যে আমার কি আশা করা উচিত আমি জানি না। কেউ ক্যান্সার নিয়েই বছরের পর বছর বাঁচে। কেউ বেশিদিন সার্ভাইভ করে না। তবে আরোগ্য লাভের আশা করার মত অপ্টিমিস্টিক হতে পারছি না। এখন আপাতত অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নেই। শেষ পর্যন্ত কি হবে? উই ইউল ফাইন্ড আউট টুগেদার।

লিখেছেন: Asif Asmat Nibir

13/03/2026

বংশ মর্যাদার চেয়ে শিষ্টাচার অনেক বড় সম্পদ। শিষ্টাচার হলো সেই দর্পণ, যাতে মানুষের আসল অবয়ব প্রতিবিম্বিত হয়। নম্র ও সুন্দর শব্দ চয়নে কথা বলা এবং বিনয়ী আচরণ করা হলো সবচেয়ে সহজ কিন্তু কঠিন ও অত্যন্ত মূল্যবান উপহার।

ভাগ্য, প্রতিভা আমাদের চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেখানে টিকে থাকার জন্য আমাদের উন্নত সদাচরণ, সততা ও ন্যায়পরায়নতা ও নিরপেক্ষতা প্রয়োজন। পান্ডিত্য অর্জনের চেয়ে সদাচার অর্জন করা অনেক বেশি কঠিন এবং জরুরি।

অন্যায়ের কাছে মাথা নত করাই হলো ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করা। শিষ্টাচার শিখতে হয় পরিবার থেকে, সদাচার অর্জন করতে হয় নিজের সাধনায়, আর ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে হয় নিজের বিবেক দিয়ে।

সততা ছাড়া যোগ্যতা অচল, যোগ্যতা ছাড়া সততা অচল।

কথায় আছে - অহংকার ধর্মকে গিলে খায়, আর বিনয় ধর্মকে পূর্ণতা দেয়।

এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের পর পিতামাতা তারপর শিক্ষক ও গুরুজন।

এরপরে সমাজের চার শ্রেণির মানুষকে অবশ্যই শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হয় -

প্রথমত যিনি বয়সে বড়,
দ্বিতীয়ত যিনি জ্ঞানে বড়,
তৃতীয়ত যিনি পদ পদবীতে বড়,
চতুর্থত যিনি প্রাচুর্যে বড়

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা হলো মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা। তিনিই সত্যিকারের প্রকৃত মানুষ, যিনি অন্যকে বিচলিত ও বিব্রত করেন না, যার দ্বারা কারো অনিষ্ট হয় না। যিনি পরোপকারী, বিনয়ী, যার সততা প্রশ্নাতীত, যিনি ন্যায়বিচারে অবিচল এবং যার নম্রতা ও নিরপেক্ষতা অন্যের মনে সর্বদা প্রশান্তি দেয়।

শিষ্টাচার, শ্রদ্ধা হলো একটি বিনিয়োগ, আপনি আজ অন্যকে যা দেবেন, কাল সমাজ থেকে আপনি ঠিক সেটিই ফেরত পাবেন।

শিষ্টাচারই হলো মানুষের আসল পরিচয়।।

শিক্ষনীয় পোস্ট আকাশের মতো সুবিশাল এমন হৃদয়বান কিছু মানুষ আছে বলেই এই কদর্য পৃথিবী এখনো এতো সুন্দর। কোটি কোটি মনুষ্যরুপী ...
09/03/2026

শিক্ষনীয় পোস্ট

আকাশের মতো সুবিশাল এমন হৃদয়বান কিছু মানুষ আছে বলেই এই কদর্য পৃথিবী এখনো এতো সুন্দর। কোটি কোটি মনুষ্যরুপী মানুষের ভিতর এরা দেবতাতুল্য মানুষ। অন্তর থেকে শ্রদ্ধা ❤️🙏❤️

গত দুইদিন আগে আমাদের বাড়িওয়ালা সবার ফ্ল্যাটে এসে একটা করে কার্ড দিয়ে বলেছেন আপনাদের জন্য সামান্য কিছু ইফরাতের ব্যবস্থা করেছি। দয়া করে গ্রহণ করবেন।

সরি আপনাদের কাছে আসতে একটু লেট হয়ে গেলো।এরপর ছবিতে দেখতেই পাচ্ছেন। বাসার ৭৯ টা রুমের প্রতিটি পরিবারকে দিয়েছেন সমানভাবে!

না না এখানে সবাই খেতে পায়না এমন না। এমন ও পরিবার আছে যাদের মাসিক ইনকাম ৮০/৯০ কিংবা ১ লাখের ও উপরে, তাইতো এক ভাইয়া বলেই বসলো আঙ্কেল আমরা তো আলহামদুলিল্লাহ খেতে চলতে পারি।কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত যারা উদের দেওয়ার কেউ নেই।

উনাদের দেওয়া উচিত ছিলো। আমাদের মাথার উপর তো ছাদ আছে। উত্তরে আঙ্কেল হেসে বলল, বাবারে তোমরা ভাড়াটিয়া আছো বলেই আমরা বাড়িওয়ালা! আমি তোমাদের কে আমার একটা পরিবার ভাবি। আমার আরো বাড়ি আছে ওখানে দিয়ে আসতে আসতে এখানে আসতে লেট হলো।

সবাই আমার পরিবার! বলা ঠিক উচিত না, তুমি বলছো তাই বলছি। রোজার প্রথমেই কয়েকটি এতিমখানাতে সদকা দিয়েছি, গ্রামেও সেই রাস্তায় দিয়েছি। তোমরা তো আমার পরিবার সবসময় তো দেওয়ার সুযোগ হয়না। সদকা ভেবে নিলে ভুল ভাবছো। এটা আমার দায়িত্ব ! আশা করছি বুঝেছো তুমি?

উনার এই চিন্তাভাবনা দেখে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা মানুষ হা! এমন করেও ভাবে মানুষ? ভাড়াটিয়াদের ও কেউ পরিবার ভেবে এত করে!? এতো চমৎকার একটা মনের মানুষ!

এই মানুষ কে নিয়েতো দুই লাইন লেখায়-ই যায়! উনার জায়গায় আমি থাকলে এভাবে দেখতাম কিনা জানিনা নিঃসন্দেহে উনার একটা পবিত্র হৃদয় আছে। যেটায় আল্লাহ আরো বরকত দিক। আরো উন্নতি হোক উনার, এই দোয়াই আসছে বার বার যখনই মনে পড়ে। টাকাপয়সা তো অনেক মানুষেরই থাকে, কিন্তু দু’হাত ভরে মানুষকে দেওয়ার মানসিকতা কয়জনের থাকে?

এই বাসায় আছি ৪ বছর হয়। এই বাড়ির মালিক অন্যজন ছিলো। উনি ভাড়াটিয়া সহ বাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর এই সুন্দর মনের মানুষটার ২ বছর হলো এই বাড়ির মালিক।

এটা কিন্তু প্রথমবার না—গত বছরও তিনি ঠিক একইভাবে সবার কথা ভেবে ইফতার দিয়েছিলেন। সাথে কয়েকদিন পর আবার ২ কেজি গরুর গোস্তো দিয়েছেন সবাইকে। হিন্দু ছিলো ২/৩ টা পরিবার উনাদের ২ কেজি করে বয়লার মুরগি দিয়েছেন।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে তার একটা কথা শুনে— “এটাকে কেউ সদকা ভাববেন না, এটা আমার দায়িত্ব। আপনারা সবাই আমার পরিবারের মতো”

এইযে কথা টা!? কয়জন বলে? কয়জন দেখেছেন এমন? এমন মানুষের জন্য মন থেকে দোয়া আসে। আমি এখনো ভেবে অবাক হই কি বড় হৃদয়, কি বড় হৃদয়।

এই তামা কাসার যুগে এখনো এমন বড় মনের বাড়িওয়ালা আছে এটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। পবিত্র মনের মানুষ এখনো আছে এটা জানানোর জন্যই পোস্ট টা করা।

আল্লাহ্ ওনাকে নেক হায়াত দান করুন আমীন।

সংগ্রহীত পোস্ট : প্রকৃতি

Address

CHOWDHURY HOMOEO MEDICAL CENTER, Barotopa Road (Birmuktijoddha Habibur Rahman Sarak), Opposite Of Swadesh Hospital, Mawna Chowrasta, Sreepur
Gazipur
1740

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:00
Tuesday 09:00 - 22:00
Wednesday 09:00 - 22:00
Thursday 09:00 - 22:00
Friday 09:00 - 22:00
Saturday 09:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 22:00

Telephone

+8801735204491

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DR. BIPUL CHOWDHURY posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to DR. BIPUL CHOWDHURY:

Share