04/08/2024
সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুবাদে আমার ফ্রেন্ডলিস্টে অনেক আওয়ামী লীগপন্থী এবং রাজনৈতিক মানুষ আছেন। আমি সাধারণত কাউকে আনফ্রেন্ড বা ব্লক করি না। আমি ওপেন মাইন্ডেড মানুষ, সবসময়ই আপনাদের ভাবনা এবং মতামত জানতে ও বুঝতে চাই। তবে আজকে আপনাদের জন্য আমার কিছু কথা আছে। পয়েন্ট বাই পয়েন্ট যুক্তি দিয়ে বলবো এবং আজকে আমি বাংলায় লিখবো কারণ আমি এই প্রশ্নে যাব না যে আপনারা ইংরেজি পারেন কি পারেন না অথবা শিক্ষিত কি অশিক্ষিত। আমি বাংলায় বলবো কারণ আমার মাতৃভাষা বাংলা।
তাহলে প্রথম পয়েন্ট:
১) নিজেকে কি প্রশ্ন করেছেন এই সরকার বৈধ না অবৈধ? উত্তরটা আপনার জানা। এই সরকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বৈরাচারীভাবে জোরপূর্বক ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসা দল। জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। সুতরাং জনগণের কাছে এই সরকার অবৈধ। এটা এখন লাউড এন্ড ক্লিয়ার। আর আপনি একটি অবৈধ জিনিসকে সমর্থন দিচ্ছেন। তাহলে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন আপনি কি সঠিক?
২) কিসের আশায় আপনি অন্ধভক্ত? আপনার কি দেশপ্রেম আছে বলে মনে করেন? যদি আপনার দেশপ্রেম থাকতো তাহলে দেশের মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে ঢালাওভাবে সবাইকে কি রাজাকার বলতে পারতেন? জামাত শিবির তকমা দিতে পারতেন? উত্তরটা হচ্ছে আপনারা নিজেরাও জানেন যে জনগণ এই সরকার আর চায় না, এতদিন শুধু ধৈর্য্য ধরেছে। আজকে আপনাদের অত্যাচারে বাঁধ ভেংগে গেছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ ধরে রাখতে আপনারা এখন জনগণের সাথে অন্যায় করবেন, তাদেরকে খুন করতেও এক সেকেন্ড ভাববেন না আবার নিজেদের এই কাজকে বৈধ করতে এটি কে জামাত শিবির তকমা দেবেন। আচ্ছা এই বুঝ কাকে দিচ্ছেন? মানবতাকে? নাকি নিজের মনে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে দেখতে? একবার নিজের সত্তা থেকে বের হয়ে এসে নিজের দিকে তাকান তো যে আপনি সত্যের সাথে আছেন কিনা। আসলেই দেশকে ভালোবাসেন কিনা এগুলো একবার চিন্তা করে দেখার সময় কিন্তু এখনই।
৩) আপনারা রাজনীতি করেন ক্ষমতা এবং সুবিধা পাওয়ার জন্য, দুর্নীতি করে অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার জন্য। আপনারা রাজনীতি করেন ব্যক্তি স্বার্থে, দেশকে ভালোবেসে নয়। এটি আপনি স্বীকার না করলেও আমরা জানি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে রাজনীতি করে যা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন, ওই পর্যায়ে যায় কতজন জানেন? ১-২%, এই ১-২% এর জন্য আপনি এত বড় ঝুঁকি নিচ্ছেন? যেখানে আপনার সম্ভাবনা এতই কম। আমি আপনাদের ম্যাথ করে দেখাতে পারি বাট অংকটা এতই সহজ যে আপনি নিজেই পারবেন। আপনি মানুষ হয়ে মানুষের সাথে অন্যায় অবিচার করবেন বছরের পর বছর, কাউকে মেরে ফেলতেও দ্বিতীয়বার আপনার বুক কাঁপবে না এই ১-২% এ থাকার জন্য যেখানে আপনার সম্ভাবনা উপেক্ষা করার মতো? তারচেয়ে আপনি যদি পড়াশোনা করে একটু কষ্ট করে একটা ক্যারিয়ার গড়েন সেটাতে আপনার সফলতার হার অনেক বেশি। অন্তত একটা নিরাপদ সম্মানজনক জীবন গ্যারান্টিড। অন্যথায় ওই জীবনে থাকলে আজীবন কৃতদাস হয়ে থাকার একটা বড় সুযোগ আছে। আজীবন গরিব, গরিবই থাকবেন, মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে। এখন নিজেই ঠিক করতে পারেন যে সম্মান নিয়ে বাঁচবেন নাকি নিজের সত্তাকে বিক্রি করে দিয়ে দাসত্ব করবেন। কি পেলাম, একটু এই চিন্তাটা বাদ দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করবেন কি হতে পারলাম। যদি লজ্জা পান তাহলে আমি বলছি এখনো আপনার সময় আছে নিজের কাছে নিজের সম্মান অর্জন করার।
৪) যেই নেত্রীর জন্য আপনি মাঠকর্মী, মাঠে নেমে জীবন দিচ্ছেন, আপনি কি জানেন আপনার নেতা নেত্রীদের কাছে আপনি বিসর্জন দেওয়ার বস্তু? যে পুলিশ আবু সায়েদকে গুলি করলো, একটি স্বৈরাচারী সরকারের আদেশ মানতে গুলি করলো, তাকে কি করলো? শেষে জামাত শিবির তকমা দিয়ে দিলো?! এতটাই বিনোদন আপনাদের নেতারা!! বাকি মন্ত্রীদের অজ্ঞতায় আমি যাবোই না। কিন্তু তাদের একটার পর একটা প্রকাশ্যে মিথ্যা কি আপনারা দেখছেন না? বুঝতে পারছেন না? এরপরও মিথ্যা কে সাপোর্ট করবেন কিসের আশায়? নিজের হালখাতা ভরার জন্য?! যার গ্যারান্টি ১%, এটা নিয়ে নিজের মানসম্মান, জীবন সবকিছুর ঝুঁকি নিচ্ছেন? নিজের পরিবার এবং আপব্রিংগিংকে প্রশ্নের সম্মুখীন করছেন? একটা কথা মনে রাখবেন। যারা মিথ্যুক এবং অত্যাচারী মুনাফিক, তাদের বিশ্বাস করা যায় না। তাদের শরীরে একটা আঁচড় লাগার আগে আপনিই পদদলিত হবেন। সুতরাং এটা কতটুকু ওর্থ, এটা একবার ভেবে দেখবেন।
৫) আপনি কি জানেন মানুষের শ্রদ্ধা আসে কিসে? যখন আপনি মারা গেলেও মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা করবে, আপনাকে একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে স্মরণ করবে। কারো হায় নিয়ে যদি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন আপনার মতো অভাগা হয়তো আর কেউ কখনো ছিল না। এত মানুষের সাথে এত অন্যায় করে পৃথিবীতে আপনি আসলেই সুখী ছিলেন কিনা অথবা এখন আছেন কিনা ভেবে দেখবেন। ক্ষমতালোভী, অর্থলোভী হিসেবে নিজেকে ভাবতে কেমন লাগে, অথবা সত্যের জন্য সমর্থন দিতে এই ক্ষমতা এবং অর্থের লোভ বিসর্জন না দিতে পারা, নিজের বিবেকের কাছে যে নিজে একজন কাপুরুষ এটি ভাবতে কেমন লাগে কখনো কি চিন্তা করে দেখেছেন? কি হবে আপনার পজিশন আর টাকায় যেখানে আপনার আশেপাশের মানুষ আপনাকে ধিক্কার দিচ্ছে? একটু ভালো বাড়িতে থাকা, একটু ভালো গাড়িতে চড়া, জীবনে একটু আরাম করা এতটুকুই তো? এগুলো পেতে আপনি রাজনীতির তকমা লাগিয়ে মানুষের সাথে যে অন্যায় অবিচারগুলো দিনের পর দিন করেছেন এবং করছেন এটি কি কখনো বুঝতে পেরেছেন যে আপনার অর্জন আপনার সফলতার আর্তনাদ করে না বরং চিৎকার করে বলে আপনি একজন কাপুরুষ, অত্যাচারী, মনুষ্যত্ববর্জিত মেরুদণ্ডহীন প্রাণী।
আজকে কথা গুলো বললাম একটু ভেবে দেখবেন নিজেকে, যে আপনি কি উত্তর পাচ্ছেন। কি অর্জনের জন্য আজকে আপনাকে আপনার সত্তা বাধা দিচ্ছে ন্যায়, গনতন্ত্র এবং মানবতার পাশে দাঁড়াতে। কিসের জন্য আজকে আপনার বিবেক দেখতে পাচ্ছে না একটি গণতান্ত্রিক সার্বভৌম রাষ্ট্রে তার জনগণ কি চায়। এই লাখ লাখ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায়, পুরো দেশ জুড়ে যারা মাঠে আছে, পুরো বিশ্ব জুড়ে যারা বাংলাদেশি আজকে নিজ মত প্রকাশ করছে এরা সবাই কি জামাত শিবির? এরা সবাই অপশক্তি? এরা সবাই কি স্বাধীনতা বিরোধী? একটি সরকার যারা বৈধ না সেই সরকারকে যদি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ আজকে বর্জন করতে চায় আর আপনারা এই চাওয়াকে যদি নাম দেন স্বাধীনতা বিরোধী তাহলে আমার প্রশ্ন আপনাদের কে বানিয়েছে স্বাধীনতার এজেন্ডা? কে দিয়েছে আপনাদের ওই বৈধতা? জনগনতো আপনাদের এই বৈধতা দেয় নি!! বরং জনগণকে স্বাধীন রাষ্ট্রে গত ১৫ বছর ধরে অত্যাচার অবিচার করে এবং আজকে এখন তাদের সেই স্বাধীন মতকে উপেক্ষা করে, তাদেরকে আরো অত্যাচার করা এবং হত্যা করার পর স্বাধীনতা বিরোধী কারা এই প্রশ্নটা নিজেকেই করুন। আপনার বিবেকের দরজা তো বন্ধ। আপনি যেই ধর্মেরই হোন না কেন আপনার প্রতি আপনার সৃষ্টিকর্তার রহমতের দরজা বন্ধ হওয়ার আগে নিজের বিবেকের দরজাটা খুলুন। সম্মানিত হতে চাইলে এটাই শুরু। পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন সম্মানিত হয়ে, অত্যাচারী কাপুরুষ হয়ে না।
আমি জানি যে আপনাদের বিবেকে মোহর লাগানো। এতই বিকৃত যে আমার কথা গুলো আপনাকে স্পর্শ করবে না। তবুও জনগন অপেক্ষায় আছে একটি নতুন সূর্যোদয়ের যেখানে আপনারাও থাকবেন সত্য, ন্যায় এবং মানবতার সাথে।
https://bd.usembassy.gov/parliamentary-elections-in-bangladesh/
Those who need evidence behind the unfair election can check these link. A diplomatic response would not directly state it, but it is evident enough from their report that the election was not fair. I can provide you with more such responses from the UK and Europe, or you can find them yourself on Google.
The United States supports the people of Bangladesh and their aspirations for democracy, freedom of peaceful assembly, and freedom of expression.